Advertisement
আরিফ: এক সীমান্ত, দুই দেশ, এবং এক মানুষের ছয় বছরের সংগ্রাম
পাঞ্জাব, বাংলাদেশ এবং ভারতের সীমান্তে প্রায়ই দেখা যায় মানবতার গল্প, যা বেড়া ও পতাকার টানাপোড়েনের মাঝেও জেগে ওঠে।
তেমনই এক গল্প হল ভারতের নাগরিক শ্রী বাদলু উরনের, যিনি ছয় বছর আগে আইন ভেঙে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। অবশেষে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি ফিরে গেছেন নিজের দেশে।
তার এই যাত্রা শুধু সীমান্ত আইনের কঠোরতা নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, সহানুভূতি ও মানবতার প্রতিচ্ছবি।
Advertisement
গ্রেপ্তার এবং সংগ্রামের শুরু
২০১৯ সালের ১৯ মে, ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় অবৈধভাবে প্রবেশের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাদলু উরনকে আটক করে।
তার বিরুদ্ধে ১৯৫২ সালের বাংলাদেশ পাসপোর্ট আইনের ৪ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
Advertisement
আদালতে বিচারের পর তাকে এক বছরের কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
কিন্তু সেই সাজা শেষ করাই ছিল কেবল শুরু; নিজের দেশে ফেরার জন্য আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে।
Advertisement
দীর্ঘ অপেক্ষা — স্বাধীনতা বিলম্বিত
বাদলু ২০২০ সালের ১৮ মে কারাদণ্ড শেষ করেন, কিন্তু তার ঠিকানা যাচাই না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে ভারতে ফিরে যেতে পারেননি।
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক সমন্বয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ছয় বছর পর অবশেষে তার ফেরার ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়।
দীর্ঘ ছয় বছরের পর বাংলাদেশ ও ভারতের অভিবাসন ও সীমান্ত বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় তার প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে।
বিজিবি–বিএসএফ সমন্বয়: সীমান্ত পেরিয়ে সহযোগিতার নিদর্শন
১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল রহমান সোমবার রাতে সব কাগজপত্র সম্পন্ন করে বাদলু উরনকে ভারতের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ সময় বিএসএফ ১৮ ব্যাটালিয়নের সহকারী কমান্ড্যান্ট বিক্রম সিংসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি ব্যাটালিয়ন প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিরুল ইসলাম বলেন:
“আইনি জটিলতার কারণে প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হয়েছে, তবে দুই দেশই মানবিকতার দৃষ্টিতে বিষয়টি বিবেচনা করে নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করেছে।”
কারা কর্তৃপক্ষ: আইন ও মানবতার ভারসাম্য
পঞ্চগড় কারাগারের প্রধান বজলুর রশিদ বলেন:
“যেসব বিদেশি বন্দি তাদের সাজা শেষ করে, তাদেরকে বিশেষ অতিথি হিসেবে রাখা হয় যতক্ষণ না সরকার তাদের ফেরার অনুমতি দেয়।
বাদলু উরনের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর বিজিবি, বিএসএফ ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ একযোগে তার প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে।”
বাদলু উরন কে
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শ্রী বাদলু উরন |
| বয়স | ২৮ বছর |
| পিতার নাম | কর্মা উরন |
| বাড়ি | নয়পানি গ্রাম, নগাঁও জেলা, আসাম, ভারত |
সূত্র জানায়, তিনি দিনমজুর ছিলেন এবং কাজের খোঁজে ভুলবশত সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।
এই ভুলের কারণে তাকে ছয় বছর কারাগার ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যে কাটাতে হয়েছে, এরপর তিনি অবশেষে ভারতে ফিরতে পেরেছেন।
মানবতার জয়
এই ঘটনা শুধু সীমান্ত আইন প্রয়োগের উদাহরণ নয়, বরং দুই দেশের মানবিক সহযোগিতার প্রতীক।
সীমান্ত অঞ্চলে বসবাসকারী অনেকেই অজান্তে বা প্রয়োজনে সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলেন।
এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহানুভূতিশীল ভূমিকা প্রশংসনীয়।
Also read:“ভালোবাসায় কোনো দরকষাকষি নয় আরবাজ ও শূরার সন্তানের খবরে মালাইকার ইঙ্গিত?”
প্রধান তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গ্রেপ্তার | ২০১৯ সালে |
| সাজা শেষ | ২০২০ সালে |
| দেশে ফেরা | ২০২৫ সালে |
| উদ্যোগ | দুই দেশের কূটনৈতিক ও সীমান্ত সমন্বয় |
বিশেষজ্ঞদের মতামত: আইন ও মানবতার ভারসাম্য
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় সবচেয়ে কঠিন অংশ হল পরিচয় যাচাই ও কূটনৈতিক অনুমোদন।
তারা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত মানবিক দৃষ্টিতে বন্দি প্রত্যাবর্তনে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক দিক।
মানুষের প্রতিক্রিয়া: আশার আলো
এই খবর প্রকাশের পর দুই দেশের সাধারণ মানুষ একে “মানবতার বিজয়” হিসেবে দেখেছেন।
অনেকে সরকারের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে সীমান্ত সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ন্যায্য করা হয়, যেন অজ্ঞতার কারণে কেউ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ সময় বন্দি না থাকে।
উপসংহার: যখন মানবতা জয়ী হয়
বাদলু উরনের দেশে ফেরা শুধু একটি আইনি ঘটনা নয়, এটি প্রমাণ করে যে সহানুভূতি মানুষকে একত্র করতে পারে।
এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
“সীমানা দেশকে আলাদা করে, কিন্তু মানবতা মানুষকে এক করে।”
পাঠকদের জন্য আহ্বান
এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানবিক ঘটনা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং আইন–মানবতার ভারসাম্য নিয়ে আরও প্রতিবেদন পড়তে চাইলে মন্তব্যে জানিয়ে দিন।
