Advertisement
ভূমিকা
বিশ্ব ক্রিকেটে টাকার প্রভাব সবসময়ই বড় ছিল।
কিন্তু যখন কথা আসে জাতীয় জার্সি পরার, তখন সিদ্ধান্ত শুধু টাকার নয় এটি আবেগ ও আনুগত্যের প্রশ্নও বটে।
সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে যে একটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি অস্ট্রেলিয়ার দুই তারকা ক্রিকেটার, প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড-কে এক বছরের জন্য ১০০ কোটি টাকার বেশি প্রস্তাব দিয়েছে।
শর্ত ছিল — তারা সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলবেন না, কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই অংশ নেবেন।
Advertisement
এই প্রস্তাব বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে ক্রিকেটারের প্রকৃত আনুগত্য দেশের প্রতি, না কি টাকার প্রতি?
Advertisement
১০০ কোটির প্রস্তাব কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি নামী আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড দুজনকেই ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৫৮ কোটি টাকা) বার্ষিক দিতে রাজি হয়েছিল।
অর্থাৎ, তারা এক বছরের জন্য মোট ১১৬ কোটি টাকারও বেশি খরচ করতে প্রস্তুত ছিল।
Advertisement
শর্তগুলো ছিল:
- এক বছর তারা শুধু ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলবেন।
- ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করবেন।
- ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও প্রচারণায় ব্যবহার করবে।
কিন্তু দুজনই কামিন্স ও হেড প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন,
অস্ট্রেলিয়ার জার্সির মূল্য টাকার চেয়ে অনেক বেশি।
প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড জাতীয় ও ফ্র্যাঞ্চাইজি হিরো
প্যাট কামিন্স:
- বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ও একদিনের দলের অধিনায়ক।
- ২০২৩ সালে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ার্ল্ড কাপ জয়ী দলকে নেতৃত্ব দেন।
- আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের সদস্য।
- ২০২৪ সালে ১৮ কোটি টাকায় তাকে দলে রাখা হয়।
ট্রাভিস হেড:
- ২০২৩ ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালের নায়ক, ভারতের বিপক্ষে শতরান করে দলকে জয় এনে দেন।
- সানরাইজার্স হায়দরাবাদ তাকে ১৪ কোটি টাকায় ধরে রাখে।
- তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও উচ্চ স্ট্রাইক রেটের জন্য পরিচিত।
দুজনেই আইপিএল ২০২৪-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন, যার ফলে বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি তাদের ফুল-টাইম খেলোয়াড় হিসেবে পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।
আর্থিক তুলনামূলক তালিকা
| খেলোয়াড় | ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া থেকে বার্ষিক আয় | ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রস্তাব | পার্থক্য |
|---|---|---|---|
| প্যাট কামিন্স | ₹17.48 কোটি | ₹58 কোটি | ৩ গুণ বেশি |
| ট্রাভিস হেড | ₹8.74 কোটি | ₹58 কোটি | ৬ গুণ বেশি |
এই বিশাল ব্যবধান এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে
ভবিষ্যতে কি ক্রিকেটাররা জাতীয় বোর্ডের বদলে ফ্র্যাঞ্চাইজির পথ বেছে নেবে?
Also read:দীপিকা পাড়ুকোনের নতুন রূপ আবুধাবির রাস্তায় রণবীর সিং-এর সঙ্গে হিজাবে দেখা গেল তাকে!
যদি তারা রাজি হতেন, তাহলে কী হতো?
যদি কামিন্স ও হেড প্রস্তাবে রাজি হতেন
- তারা অস্ট্রেলিয়ার মূল চুক্তি হারাতেন।
- টেস্ট ক্রিকেট ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে পারতেন না।
- ওয়ার্ল্ড কাপসহ বড় ইভেন্টগুলো থেকে বাদ পড়তেন।
- কিন্তু তাদের আয় হতো দশ গুণ বেশি।
এটাই আধুনিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব দেশ না ব্যবসা?
অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিক্রিয়া
অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়া এই প্রস্তাবকে বলেছে “ফ্র্যাঞ্চাইজির শক্তির নতুন পরীক্ষা”।
জনমত:
- কেউ বলেছেন, খেলোয়াড়দের নিজেদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার অধিকার আছে।
- আবার কেউ বলেছেন, জাতীয় গর্ব কোনো টাকার বিনিময়ে কেনা যায় না।
সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট তাদের প্রশংসা করে বলেছেন,
“তারা দেখিয়েছেন, দেশপ্রেম এখনো টাকার ওপর জয়ী।”
বিগ ব্যাশ লিগের বেসরকারিকরণ অস্ট্রেলিয়ায় নতুন অধ্যায়
অস্ট্রেলিয়ায় এখন বিগ ব্যাশ লিগ (BBL) বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা চলছে।
যদি এটি কার্যকর হয়, তাহলে
- দলগুলোর বাজেট বাড়বে,
- খেলোয়াড়রা বেশি পারিশ্রমিক পাবেন,
- এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক চাপ কমবে।
কিন্তু কিছু নেতিবাচক দিকও থাকবে
- জাতীয় খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে,
- এবং তরুণরা দ্রুত অর্থের লোভে ফ্র্যাঞ্চাইজি বেছে নেবে, দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার নয়।
ভবিষ্যতের ক্রিকেট বোর্ড বনাম ফ্র্যাঞ্চাইজি
এটি শুধু অস্ট্রেলিয়ার নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটেরই সমস্যা।
আইপিএল, পিএসএল, এসএ২০, এবং এমএলসি’র মতো লিগগুলো জাতীয় দায়িত্ব ও আর্থিক প্রলোভনের সীমারেখা মুছে দিয়েছে।
যদি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো বার্ষিক চুক্তি দিতে শুরু করে, তাহলে বোর্ডগুলোকে বাধ্য হয়ে খেলোয়াড়দের বেতন বাড়াতে হবে,
নইলে তারা তাদের স্টার ক্রিকেটারদের হারাবে।
উপসংহার আবেগ না অর্থ?
প্যাট কামিন্স ও ট্রাভিস হেড দেখিয়েছেন যে কখনও কখনও জাতীয় জার্সির গর্ব ১০০ কোটি টাকার থেকেও বেশি মূল্যবান।
তাদের সিদ্ধান্ত একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়
দেশের জন্য খেলা এখনো খেলাধুলার সর্বোচ্চ সম্মান।
তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাড়ন্ত প্রভাব ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের আরও কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলবে —
আনুগত্য না বিলাসিতা?
