Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংবিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে বাংলাদেশ শেয়ারবাজার থেকে প্রস্থান

বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে বাংলাদেশ শেয়ারবাজার থেকে প্রস্থান

Advertisement

ভূমিকা শেয়ারবাজারে মেঘাচ্ছন্ন পরিস্থিতি

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার আবারও অনিশ্চয়তার ঘন মেঘে আচ্ছন্ন। কয়েক বছর আগেও নবীন ও অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বাজারে প্রবেশে আগ্রহী ছিলেন কিন্তু এখন চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বিনিয়োগকারীরা একে একে বাজার ছাড়ছেন যা আস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন।

গত নয় মাসে প্রায় ৬২ হাজার বিনিয়োগকারী তাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছেন। বাজারের ধারাবাহিক পতন নীতিগত অস্থিরতা ও স্বচ্ছতার অভাব বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে নড়বড়ে করে তুলেছে।

Advertisement

সংখ্যায় চিত্র ৬২ হাজার বিনিয়োগকারীর প্রস্থান

সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (CDBL) তথ্য অনুযায়ী

Advertisement

জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৩০,২২৫টি বিও (BO) অ্যাকাউন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়েছে
অন্যদিকে ৩১,৮৮৫টি অ্যাকাউন্টে কোনো শেয়ার নেই

Advertisement

মোট প্রায় ৬২,০০০ বিনিয়োগকারী গত নয় মাসে কার্যত বাজার থেকে সরে গেছেন

তারিখসক্রিয় অ্যাকাউন্টশেয়ারবিহীন অ্যাকাউন্টবিনিয়োগকারীর পরিবর্তন
ডিসেম্বর ২০২৪১৬,৮২,৪৫২৩,৪৪,০০০
সেপ্টেম্বর ২০২৫১৬,৩২,২২৭৩,৭৫,৮৫৯-৬২,০০০

অক্টোবরের শুরুতে সামান্য উন্নতি দেখা গেলেও গত সপ্তাহের পরিসংখ্যানে আবার পতন লক্ষ্য করা গেছে যা প্রমাণ করে আস্থা পুনরুদ্ধার এখনো অনেক দূরের বিষয়।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সরে যাচ্ছেন

দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও হ্রাস পাচ্ছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) জানিয়েছে ১১টি বড় প্রতিষ্ঠানে বিদেশি শেয়ারহোল্ডিং ০.১০ শতাংশ বা তার বেশি হ্রাস পেয়েছে

প্রতিষ্ঠানশেয়ারহোল্ডিং হ্রাসের প্রবণতা
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (BATC)হ্রাস পেয়েছে
বেক্সিমকো ফার্মাহ্রাস পেয়েছে
কেবলস আন্ডার দ্য সিহ্রাস পেয়েছে
বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামহ্রাস পেয়েছে
রেনাটাহ্রাস পেয়েছে
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজহ্রাস পেয়েছে
এমজেএল বাংলাদেশহ্রাস পেয়েছে
এ ব্যাংকহ্রাস পেয়েছে
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকহ্রাস পেয়েছে
রেকিট বেনকিজারহ্রাস পেয়েছে
শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজহ্রাস পেয়েছে

এই পতন দেখায় বাজারে অনিশ্চয়তা ও মুনাফা হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

Also read:দীপিকা পাডুকোন অবশেষে মুখ খুললেন

বিশেষজ্ঞ মতামত আস্থা পুনরুদ্ধারই একমাত্র পথ

ডিএসই পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন
“কিছু মানুষকে শাস্তি দিলে হবে না বাস্তব পরিবর্তন ছাড়া বিনিয়োগকারীরা ফিরবে না”

তিনি আরও বলেন
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির মুখে
অনেক অফিস কর্মী ছাঁটাই করেছে
সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই

“বিনিয়োগকারীরা মুনাফার আশায় বাজারে আসেন ক্ষতির জন্য নয় পুঁজিবাজারে স্থিতি ও স্বচ্ছতা না আসা পর্যন্ত মূলধন দূরে থাকবে”

বাজার পতনের প্রধান কারণ

কারণবিবরণ
নীতিগত অনিশ্চয়তানীতিমালা ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত
স্বচ্ছতার অভাবতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো প্রায়ই আর্থিক প্রতিবেদন দিতে দেরি করে বা ভুল তথ্য দেয়
তারল্য সংকটলেনদেন কমে বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে
বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহারমুদ্রা ওঠানামা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরে যাচ্ছেন

সরকারি পরিকল্পনা কিন্তু বিনিয়োগকারীদের সন্দেহ

সিকিউরিটিজ কমিশন ঘোষণা দিয়েছে বেশ কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে

স্পষ্ট হিসাব ব্যবস্থাপনা
রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি বৃদ্ধি
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এগুলো অধিকাংশই ঘোষণায় সীমাবদ্ধ বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনো “অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ” অবস্থানে আছেন।

পুনরুদ্ধারের পথ বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব

প্রস্তাবউদ্দেশ্য
স্থিতিশীল নীতি প্রণয়নহঠাৎ নিয়ম পরিবর্তন বন্ধ করা
ব্রোকারেজ সহায়তাক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান
বিদেশি বিনিয়োগে প্রণোদনাআকর্ষণীয় বিনিয়োগ প্যাকেজ তৈরি
ডিজিটাল স্বচ্ছতা ব্যবস্থাকোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা
বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচিসাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়তা করা

উপসংহার আস্থা কথায় নয় কাজে অর্জন করতে হয়

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বর্তমান আস্থাহীনতা শিগগিরই কাটবে এমন সম্ভাবনা ক্ষীণ।
যদি কাঠামোগত সংস্কার স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হয় তবে দেশি ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারীরাই দূরে থাকবে ফলে বাজার আরও দুর্বল ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত