Advertisement
অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিতে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে এই কাঠামোর লক্ষ্য হলো সরকারি খাতে কর্মীদের মধ্যে বেতন বণ্টনে ন্যায্যতা আনা এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করা
সরকারি সূত্র জানায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে চূড়ান্ত হবে সেখানে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে কার্যকর হবে এটি সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় সংস্কারগুলোর একটি
Advertisement
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো কী
নতুন কাঠামোটি সরকারি কর্মচারীদের পুরনো কাঠামো থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন এতে তিনটি মূল দিক রয়েছে
Advertisement
১ খাতভিত্তিক একরূপতা অর্থাৎ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে বেতনের পার্থক্য কমানো
২ মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন নির্ধারণ
৩ কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রণোদনা প্রদান
Advertisement
এই সংস্কার সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্থাৎ স্বচ্ছ ন্যায্য ও কার্যকর বেতনব্যবস্থা গঠন বাজেট নিয়ন্ত্রণ ও কর্মীদের উৎসাহিত করার প্রচেষ্টার অংশ
কখন কার্যকর হবে নতুন বেতন কাঠামো
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে নতুন বেতন কাঠামো ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে সংশোধিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন আমাদের লক্ষ্য রূপান্তর প্রক্রিয়াটি যতটা সম্ভব মসৃণ করা বেতন কাঠামো আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিল মাসে বাস্তবায়িত হবে
এই সময়সূচি সরকারের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা বেতন পরিবর্তনের সূত্র নির্ধারণ করা এবং বিভাগীয় অর্থ কর্মকর্তাদের নতুন মডেল ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব করবে
কারা উপকৃত হবেন
নীতিমালার প্রথম ধাপের আওতায় আসবে
১ ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের কর্মচারীরা
২ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যখাতের কর্মীরা
৩ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা
প্রথম ধাপে প্রায় ২৫ লক্ষাধিক কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন দীর্ঘদিন ধরে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিম্নস্তরের কর্মীদের বেতন বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল নতুন কাঠামো সেই ব্যবধান কমানোর উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে
নতুন বেতন কাঠামোর প্রধান বৈশিষ্ট্য
| বৈশিষ্ট্য | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| মান統িত বেতন স্তর | সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থায় একই বেতন স্কেল প্রয়োগ করা হবে |
| মূল্যস্ফীতিভিত্তিক সমন্বয় | প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির অনুপাতে বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে |
| ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনা | অনলাইন পেরোল সিস্টেম চালু হবে যাতে স্বচ্ছতা ও দ্রুত প্রসেসিং নিশ্চিত হয় |
| কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বোনাস | নির্দিষ্ট লক্ষ্য পূরণকারী কর্মীদের প্রতি তিন মাস অন্তর বোনাস প্রদান করা হবে |
| পেনশন সংস্কারের একীকরণ | ধীরে ধীরে জাতীয় পেনশন নীতির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে |
এই পদ্ধতিটি দেশের আর্থিক বাস্তবতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপ
Also read:আলিয়া ভাটের রেকর্ড ভাঙা ষষ্ঠ ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জয়
বিশেষজ্ঞদের মত দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কার
অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ডক্টর ফয়সাল আমির বলেন নতুন বেতন কাঠামো একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পরিবর্তন মূল্যস্ফীতির সাথে বেতন সংযুক্ত করা অর্থনৈতিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করবে এবং কর্মীদের অনুপ্রেরণা বজায় রাখবে
সরকারি কর্মচারী ইউনিয়নগুলোও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়েছে তবে তারা দ্রুত বাস্তবায়ন ও বেতনগ্রেড পরিবর্তন সম্পর্কিত স্বচ্ছ ব্যাখ্যার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে
আর্থিক প্রভাব ও বাজেট ব্যয়
অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী সংস্কারের প্রথম ধাপে ব্যয় হবে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন রুপি তবে কর্মকর্তারা মনে করেন এই ব্যয় সার্থক কারণ ন্যায্য বেতন
১ উৎপাদনশীলতা বাড়াবে
২ দুর্নীতি কমাবে
৩ দক্ষ জনবল সরকারি খাতে ধরে রাখতে সহায়তা করবে
সরকার প্রশাসনিক খরচ কমাতে পুরনো ভাতা ধাপে ধাপে বাতিল করে ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছে
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
পরিকল্পনাটি উচ্চাভিলাষী হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন
১ ফেডারেল ও প্রাদেশিক পর্যায়ে তথ্য একীভূত করা
২ পুরনো আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতির বাধা
৩ বেতনগ্রেড ও পেনশন নীতিতে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা
অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছে যা আগামী ১৮ মাস পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন আনবে
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
নতুন কাঠামো মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মডেল অনুসারে তৈরি করা হয়েছে যেখানে কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণ সরকারি প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করেছে
অন্তর্বর্তী সরকার একই ধরনের পদ্ধতি গ্রহণ করে সিভিল সার্ভিসের কাঠামো আধুনিক করা দক্ষ জনবল আকৃষ্ট করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে
জনমত আশা ও সতর্কতা
ঘোষণার পর জনগণের প্রতিক্রিয়া মিশ্র কেউ একে ন্যায্যতার পথে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আবার কেউ বাস্তবায়নে বিলম্ব ও সম্ভাব্য কর পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #NewPayScale2025 হ্যাশট্যাগে কর্মীরা তাঁদের আশা ও আশঙ্কা শেয়ার করছেন
পরবর্তী পদক্ষেপ
ডিসেম্বর মাসে বাজেট সংশোধনের পর অর্থ বিভাগ সম্পূর্ণ জাতীয় বেতন স্কেল ম্যাট্রিক্স প্রকাশ করবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব বিভাগ মানবসম্পদ ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ পাবে যাতে মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে বাস্তবায়ন নির্বিঘ্ন হয়
