Advertisement
ভূমিকা: ভোটের উৎসবে নতুন দিগন্ত
দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে শুরু হয়েছে এক নতুন অধ্যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে তরুণ প্রজন্মের ভোটাধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস ফিরে এসেছে। এই নির্বাচন কেবল ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কোনো অনুষ্ঠান নয়—এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তফা সরয়ার ফারুকী যথার্থভাবেই বলেছেন, “বাংলাদেশ ডাকসুর মাধ্যমে নির্বাচনী ট্রেনে সওয়ার হয়েছে।” কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই যাত্রা কি সত্যিই মসৃণ? নাকি এর সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ? এই নিবন্ধে আমরা ডাকসু নির্বাচনের গুরুত্ব, এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
Advertisement
ডাকসু: শুধু একটি সংসদ নয়, গণতন্ত্রের প্রতীক
ডাকসু কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলনের প্রতীক। ১৯২৪–২৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই ছাত্র সংসদ দেশের বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার কেন্দ্রে ছিল।
Advertisement
- ভাষা আন্দোলন
- মুক্তিযুদ্ধ
- স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন
সবকিছুতেই ডাকসুর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। পরবর্তীতে ডাকসুর অনেক নেতা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন, যা প্রমাণ করে ছাত্ররাজনীতি জাতীয় নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
Advertisement
ফারুকীর মন্তব্য ও জাতীয় রাজনীতির ট্রেন
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ডাকসু নির্বাচনকে বলেছেন “নির্বাচনী ট্রেন”, যা প্রমাণ করে তিনি এটিকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক যাত্রার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, একটি সফল ডাকসু নির্বাচন ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনের জন্য পথ সুগম করবে।
তবে তিনি ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন—“যে ভোট রাতে হতে পারত, তা কেন দিনের শেষ পর্যন্ত টেনে আনা হলো? সময়মতো কাজ না করা এই জাতির বড় দুর্বলতা।”
এই মন্তব্য বাংলাদেশের بيرোক্র্যাটিক জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করে।
NLP-ভিত্তিক কীওয়ার্ড: ডাকসু নির্বাচন ২০২৫, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর মন্তব্য, জাতীয় নির্বাচন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র।
কেন ডাকসু নির্বাচন এত গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষার্থীরা কেবল নতুন নেতা বেছে নিতে নয়, বরং নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্যও এই নির্বাচনে উৎসাহী।
গণতন্ত্রের চর্চা
ভোট দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রের মৌলিক শিক্ষা গ্রহণ করে।
ক্যাম্পাসে সুশাসন
নির্বাচিত ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীদের সমস্যা দ্রুত সমাধান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারে।
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠন
ডাকসু নির্বাচন থেকে উঠে আসা নেতারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও সামাজিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
সংশয় ও সমস্যা
সবাই যে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী, তা নয়। কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে—
- সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা
- ছাত্র সংগঠনগুলোর বিভাজন
- নির্বাচনী অনিয়মের আশঙ্কা
অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আবারও যেন “নির্বাচনী রাত” বা অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না হয়। এসব অনিয়ম গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে।
Also Read:নওয়াজ শরীফের সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টার বৈঠক
উপসংহার: নতুন ভোরের প্রতিশ্রুতি
ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি কেবল শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য নতুন ভোরের বার্তা বহন করতে পারে। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ অনেক সচেতন ব্যক্তি এই নির্বাচনকে আশার ট্রেন হিসেবে দেখছেন। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সবার সততা ও কঠোর পরিশ্রমের ওপর।
একটি সুষ্ঠু ও সফল ডাকসু নির্বাচন দেশের অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
পাঠক প্রশ্ন
আপনার কী মনে হয়—ডাকসু নির্বাচন কি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি নতুন সূচনা? মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না এবং বন্ধুদের সঙ্গে এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন!
