Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আবারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সাত দিনে প্রবাসীরা প্রায় ৭৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৯ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি শুধু দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে না, বরং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যান
- মোট রেমিট্যান্স (১–৭ সেপ্টেম্বর): ৭৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (≈৯,৩৭৮ কোটি টাকা)
- প্রতিদিনের গড় রেমিট্যান্স: ১১০.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- শুধু ৭ সেপ্টেম্বর রেমিট্যান্স: ২৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
- জুলাই–৭ সেপ্টেম্বর মোট রেমিট্যান্স: ৫.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৩১.৯০% বেড়েছে। অর্থাৎ, প্রবাসীরা এখন দেশে আরও বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন।
Advertisement
বছরওয়ারি তুলনা ও বৃদ্ধি
- ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ: ৫৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
Advertisement
শুধু সেপ্টেম্বর নয়, চলতি অর্থবছরের জুলাই এবং আগস্ট মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো ছিল:
Advertisement
- আগস্ট ২০২৪: ২.৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- জুলাই ২০২৪: ২.৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
Also read:ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক খাবার
কেন রেমিট্যান্স বাড়ছে?
রেমিট্যান্স বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- হুন্ডি দমনে কঠোর পদক্ষেপ: সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো সহজ হয়েছে।
- প্রণোদনা: ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করলে প্রবাসীরা অতিরিক্ত নগদ প্রণোদনা পাচ্ছেন।
- ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা: অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো দ্রুত ও সহজ হয়েছে।
- বিদেশে কর্মসংস্থান: ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশের ওপর রেমিট্যান্সের প্রভাব
- অর্থনীতির স্থিতিশীলতা: বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে।
- স্থানীয় উন্নয়ন: রেমিট্যান্স নির্ভর পরিবারগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করছে।
- চাকরির সুযোগ: প্রবাসী আয়ে নির্ভরশীল অনেক ব্যবসা দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে।
- বিনিয়োগ বৃদ্ধি: রেমিট্যান্সের একটি অংশ ব্যবসা ও সম্পদে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, যদি প্রবাসীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান বাজার তৈরি হয় এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রবেশাধিকার বাড়লে আয় দ্বিগুণ হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য টিপস
- সর্বদা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করুন।
- প্রণোদনা অফার সম্পর্কে আপডেট থাকুন।
- জরুরি প্রয়োজনে অনলাইন রেমিট্যান্স অ্যাপ ব্যবহার করুন।
- প্রতারণা এড়াতে কেবল অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ বা ব্যাংক ব্যবহার করুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: রেমিট্যান্সে সরকারের প্রণোদনা কত শতাংশ?
উত্তর: বর্তমানে সরকার ২.৫% হারে প্রণোদনা দিচ্ছে।
প্রশ্ন: হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠালে কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর: এটি অবৈধ, অর্থ হারানোর ঝুঁকি থাকে এবং কোনো প্রণোদনা পাওয়া যায় না।
প্রশ্ন: রেমিট্যান্স কি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে প্রভাব ফেলে?
উত্তর: হ্যাঁ, এটি সরাসরি রিজার্ভ বাড়ায়।
উপসংহার
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ৯ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা প্রবাসীদের দেশের প্রতি ভালোবাসা ও অবদানকে স্পষ্ট করে। যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত প্রবাসীদের জন্য আরও সুবিধা তৈরি করা, যাতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স অব্যাহত থাকে।
