Advertisement
পরিচিতি সিরাজগঞ্জে মিষ্টি চমক
চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকরা অত্যন্ত আনন্দিত ও স্বস্তিতে আছেন। আইএসডি ৪১ আইএসডি ৪২ আইএসডি ৪৩ এরি বন ও চুষে খাওয়া জাতের আখ মাঠে প্রচুর ফলন দিয়েছে ফলে সিরাজগঞ্জের ক্ষেতগুলো আগের চেয়ে আরও সবুজ ও উর্বর দেখাচ্ছে। বর্তমানে আখ মাড়াইয়ের মৌসুম পুরোদমে চলছে এবং নতুন গুড় বাজারে এসেছে যেখানে তিন পোয়া (প্রায় ১.৫ কেজি) গুড়ের দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।
কম খরচে বেশি লাভের ফসল
কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে এ বছর জেলায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। সিরাজগঞ্জের উঁচু দোআঁশ মাটি আখ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
Advertisement
| জাতের নাম | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| আইএসডি ৪১ | বেশি ফলন ও মিষ্টি স্বাদ |
| আইএসডি ৪৩ | দ্রুত বেড়ে ওঠে স্বল্প সময়ে প্রস্তুত |
| এরি | আর্দ্র মাটিতে ভালো ফলন |
| বন | উঁচু কান্ড ও বেশি রসযুক্ত |
কৃষকদের মতে তিন চোখবিশিষ্ট কলম লাগানোর কারণে গাছ দ্রুত বেড়েছে এতে খরচ কমে এবং লাভ বেড়েছে।
Advertisement
কোথায় চাষ হয়েছে বেশি
কাজীপুর বেলকুচি রায়গঞ্জ কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় আখ চাষ বেশি হয়েছে। উর্বর মাটি পর্যাপ্ত পানি ও শ্রমিক প্রাপ্যতার কারণে এসব এলাকা আখ চাষের জন্য আদর্শ।
Advertisement
আখের রস ও গুড়ে চাহিদা বৃদ্ধি
মাড়াই শেষে কাঁচা গুড় ও আখের রসের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।
| পণ্য | বাজারমূল্য |
|---|---|
| খাঁটি গুড় (কেজি প্রতি) | ১৫০–২০০ টাকা |
| তিন পোয়া গুড় | ১০০–১২০ টাকা |
| আখের রস (গ্লাস প্রতি) | ১৫–২০ টাকা |
ঐতিহ্যবাহী গুড় শিল্পের পুনর্জাগরণ
প্রায় ত্রিশ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে গুড় তৈরির প্রচলন ছিল যা ধীরে ধীরে কমে যায়। কৃষি বিভাগ আবারও এ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে সহায়তা করছে।
Also read:দুরে ফিশান সলিমের স্বীকারোক্তি আমি একবার বিলাসবহুল হোটেল থেকে নামাজের মাদুর চুরি করেছিলাম
কৃষকের লাভ ও অর্থনৈতিক প্রভাব
স্থানীয় কৃষক আব্দুল রশিদ বলেন “এবারের আখের ফলন এত ভালো হয়েছে যে সব খরচ বাদেও প্রায় ৩০ শতাংশ লাভ হয়েছে।” কৃষি বিভাগের উপপরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মোল্লাহ বলেন “আখ এখন শুধু লাভজনক নয় বরং টেকসই কৃষির দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
ভেজাল গুড়ের সমস্যা
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাঁটি গুড়ে চিনি ও আটা মিশিয়ে ভেজাল তৈরি করছে। এ কারণে কৃষি বিভাগ বাজারে নিয়মিত তদারকি শুরু করেছে যাতে ক্রেতারা বিশুদ্ধ ও নিরাপদ গুড় পায়।
আখ চাষের সুবিধা
| সুবিধা | ব্যাখ্যা |
|---|---|
| উচ্চ ফলন | কম খরচে বেশি উৎপাদন |
| খরা সহনশীল | তাপ বা পানির ঘাটতিতে ক্ষতি কম |
| মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি | ফসল চক্রে ভারসাম্য আনে |
| গ্রামীণ অর্থনীতি | গুড় ও রসের বাজারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি |
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আগামী মৌসুমে ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আখ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন যন্ত্রপাতি মোবাইল জুস ভ্যান ও মাড়াই ইউনিট চালু করে কৃষকদের সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
কৃষিবিদদের মতে সরকার যদি আখের জন্য সহায়তা মূল্য নির্ধারণ করে তবে আরও কৃষক এতে আগ্রহী হবে। ছোট গুড় ইউনিটগুলিকে ভর্তুকি দিলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও ব্যবসা উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।
উপসংহার
সিরাজগঞ্জের রেকর্ড আখ ফলন শুধু কৃষকদের মুখে হাসি ফোটায়নি বরং জেলার অর্থনীতিতেও প্রাণসঞ্চার করেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সিরাজগঞ্জ শিগগিরই দেশের শীর্ষ গুড় উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে পরিচিতি পাবে। এটি প্রমাণ করছে টেকসই কৃষিই গ্রামীণ সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি।
ঘোষণা
এই প্রতিবেদনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। প্রদত্ত তথ্য কেবল তথ্যগত ও বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য এবং একে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে প্রকাশিত মতামত লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদনের তথ্যের উপর নির্ভর করে কোনো ক্ষতি বা বিভ্রান্তি হলে তার দায় গ্রহণ করা হবে না।
