Thursday, March 12, 2026
Homeট্রেন্ডিংপেঁয়াজের দাম কমে কৃষকরা আর্থিক সংকটে

পেঁয়াজের দাম কমে কৃষকরা আর্থিক সংকটে

Advertisement

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পেঁয়াজের দরপতনে কৃষকদের আশা ভঙ্গ

রাজশাহীর দুর্গাপুরের কৃষকরা এখন মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন কারণ স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
পেঁয়াজের দাম এতটাই কমে গেছে যে কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত মজুদ ও বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম কমে গেছে ফলে হাজারো কৃষক ঋণে জর্জরিত ও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

মূল্য বিশ্লেষণ এক বছরে দামে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পতন

বাজারের নামবর্তমান দাম (প্রতি মণ)গত বছরের দাম (প্রতি মণ)পতনের হার
দুর্গাপুর বাজার১,০০০–১,৭০০ টাকা৪,৫০০–৭,০০০ টাকাপ্রায় ৫০–৬০%
হাট কানপাড়া১,৫০০–২,০০০ টাকা৫,০০০–৬,৫০০ টাকাপ্রায় ৫০%
আমগাছি বাজার২,০০০–২,৫০০ টাকা৫,৫০০–৭,০০০ টাকাপ্রায় ৫৫%

কৃষকদের দুরবস্থা “আমরা এখন বিলও দিতে পারছি না”

স্থানীয় কৃষক মনিরুল ইসলাম বলেন
“এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে খরচ অন্তত ৫০ হাজার টাকা কিন্তু এখন বাজারদর মাত্র ১,৬০০ টাকা মণ।
আমরা শ্রমিকের মজুরি দিতে পারছি না ঋণও শোধ করতে পারছি না।
পরের বছর হয়তো পেঁয়াজ চাষ করা সম্ভব হবে না।”
পাইকারি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন জানান এ বছর অতিবৃষ্টিতে জমি প্রস্তুতে বিলম্ব হওয়ায় নতুন ফসল কম এসেছে কিন্তু পুরনো মজুদের পরিমাণ বেশি থাকায় সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।

Advertisement

কৃষি কর্মকর্তাদের মতামত “বাজার শিগগির স্থিতিশীল হতে পারে”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে বর্তমানে ৩,৬২৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছে এবং প্রত্যাশিত উৎপাদন ৭৬,১২৫ মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লুবনা বলেন
“অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমি প্রস্তুতিতে সমস্যা হয়েছে যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে নতুন ফসল বাজারে এলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম স্থিতিশীল হবে বলে আশা করছি।”

Advertisement

বাজার বিশ্লেষণ সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যহীনতা

বিশ্লেষকদের মতে পাইকাররা বড় মজুদ কমাতে দামের চাপ সৃষ্টি করেছে।
গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম আরও কমেছে।
এছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজের প্রবাহ স্থানীয় বাজারের দামে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।

Advertisement

Also read:ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের চূড়ান্ত টি২০ দল ঘোষণা

সরকারের করণীয় ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন

প্রস্তাবিত পদক্ষেপউদ্দেশ্য
পেঁয়াজ চাষিদের আর্থিক সহায়তা প্রদানক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া
বাজারে মজুদ ও কারসাজি রোধে পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধিদামের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ পরিশোধ সহজীকরণকৃষকদের আর্থিক চাপ হ্রাস করা
স্থানীয় বাজারে চাহিদা ব্যবস্থাপনার উদ্যোগসরবরাহ ও বিক্রয় ভারসাম্য রাখা

এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা ও কৃষি অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে।

ঘোষণা

এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যগত ও বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে পরিবেশন করা হয়েছে এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে ধরা যাবে না। সংবাদে উল্লিখিত মতামত বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে তারা সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করে নিন। এই প্রতিবেদনের উপর নির্ভরতার ফলে কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য দায় নেওয়া হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত