Advertisement
বিএনপির প্রার্থী তালিকা ন্যায় এবং অসন্তোষ উস্কে দিল
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন ১৩তম সাধারণ নির্বাচনের জন্য ২৩৭টি আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে
তবে এই ঘোষণায় দলের ভিতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে কারণ কয়েকজন প্রবীণ ও দীর্ঘকালীন নেতাকে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে
Advertisement
তাদের মধ্যে রয়েছেন রুহুল কবির রিজভী, নজরুল ইসলাম খান, সালিমা রহমান, রুমিন ফারহানা এবং অ্যাডভোকেট সায়েদা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, যিনি বিএনপির মানবাধিকার সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য
Advertisement
পাপিয়ার হতাশা: “এটাই আমার রাজনৈতিক জীবনের মৃত্যু”
প্রার্থী পদ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় পাপিয়া আশরাফী গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন
Advertisement
“আমি বহু বছর ধরে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে সবই বৃথা গেছে
এখন ধীরে ধীরে দলীয় কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোই একমাত্র পথ
দল আমাকে কারো স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ‘পারিবারিক কোটা’-র আওতায় রাখে — এটি আমার রাজনৈতিক জীবনের একটি দুঃখজনক শেষ”
তার মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেক বিএনপি কর্মী দলের অভ্যন্তরীণ নীতি ও প্রার্থী নির্বাচনের ন্যায় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন
“নারীদের এখনও রাজনীতিতে স্থান লাভ করতে হয়” — পাপিয়ার অভিযোগ
পাপিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশে লিঙ্গ বৈষম্যের দিকেও সমালোচনা করেছেন
“শৈশব থেকেই আমি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলাম। আমার স্বপ্ন ছিল একদিন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হওয়া
কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদেরকে মানা হয় ন্যায্য সুযোগ হিসেবে নয়, বরং প্রতীকী পদ হিসেবে
বয়স ও ত্যাগ এখানে কোনো মূল্য পায় না — নারীরা পায় কেবল টোকেন সুযোগ”
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন তার বাদ পড়া কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং দলের ভবিষ্যতের জন্যও ক্ষতি
“এই সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য শুভ সংকেত নয়
তার প্রভাব আজ দেখা না গেলেও আগামীকাল স্পষ্ট দেখা যাবে”
বিএনপির অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে প্রশ্ন
বিএনপি নেতৃত্ব জানিয়েছে যে নতুন নিয়ম অনুযায়ী একই পরিবারের দুইজন সদস্য একসাথে প্রার্থী হতে পারবে না
পাপিয়ার স্বামী হারুনুর রশিদ — সিনিয়র বিএনপি নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা — চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসন থেকে পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন
পাপিয়া এই নিয়মকে “অন্যায্য ও অযৌক্তিক” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন
“যদি স্বামী ও স্ত্রী আলাদা দলের হয়, রাজনীতি তা নিন্দা করে
আর একই দলের হলে এক জনকে সরে দাঁড়াতে হয় — সাধারণত নারী
পারিবারিক রাজনৈতিক ভারসাম্য মানে নারীদের সুযোগ বঞ্চিত করা উচিত নয়
এই সিদ্ধান্ত দলের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে”
also read:সুলক্ষণা পণ্ডিতের প্রয়াণ বলিউড হারাল এক সোনালি কণ্ঠ
বিস্তৃত প্রতিফলন
পাপিয়ার মন্তব্য বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে লিঙ্গ সমতা ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে
বিশ্লেষকরা বলছেন তার প্রতিক্রিয়া নারী রাজনীতিবিদদের ক্রমবর্ধমান হতাশা প্রতিফলিত করে যারা বহু বছরের ত্যাগের পরও প্রান্তিক অবস্থায় রয়েছেন
পাপিয়ার নিজের কথায় —
“নারীদের জন্য রাজনীতিতে লড়াই কখনও শেষ হয় না — এমনকি তাদের নিজের দলের মধ্যেও”
ডিসক্লেমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং জনসমক্ষে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যমূলক এবং বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা প্রমাণিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদে প্রকাশিত মতামত, বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পাঠকগণ সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করুন। এই সংবাদে নির্ভর করে কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
