Advertisement
ভূমিকা: নেপালের সংকট আরও গভীর হচ্ছে
নেপাল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতিবিরোধী বৃহৎ বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর সেনারা কাঠমান্ডুর রাস্তায় টহল দিচ্ছে। এই বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং সেনাবাহিনীকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা তরুণরা বলছে, কিছু মানুষ তাদের বিপ্লবকে “হাইজ্যাক” করেছে। তবে মানুষ পরিবর্তন চাইলেও আরও সহিংসতার ভয়ও পাচ্ছে।
আমরা এখানে আলোচনা করবো কেন বিক্ষোভ শুরু হলো, কেন জেন জেড আন্দোলনের কেন্দ্রে আছে, এবং নেপালের দুর্বল গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে।
Advertisement
নেপালে মানুষ কেন বিক্ষোভ শুরু করল?
সরকারের ২৬টি সামাজিক মাধ্যম, যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ছিল প্রধান কারণ। যদিও কয়েক দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়, তবু এটি তরুণ প্রজন্মকে আরও ক্ষুব্ধ করে। এর আগেই তারা “নেপো কিড” আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধাভোগিতা ও স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল।
Advertisement
সরকারের দমনপীড়ন শান্তি আনেনি, বরং অস্থিরতা আরও বাড়িয়েছে। সোমবার পর্যন্ত সংঘর্ষে ১৯ জন নিহত হয়, আর মঙ্গলবার সংসদ ভবন, রাজনীতিবিদদের বাড়ি ও সরকারি দপ্তরে অগ্নিসংযোগ হয়।
Advertisement
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর সহিংসতার ছায়া
- টানা দুই দিনের সহিংসতায় ৩০ জন নিহত ও ১,০০০ জনেরও বেশি আহত
- সংসদ ও সুপ্রিম কোর্টের ভবনে অগ্নিসংযোগ
- প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িসহ রাজনীতিবিদদের বাড়িঘরে ভাঙচুর
- সারা দেশজুড়ে হাজার হাজার বন্দি কারাগার থেকে পালিয়ে যায়
সহিংসতায় মানুষ হতবাক। দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনকে অনেক নেপালি সমর্থন করলেও, জাতীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ললিতপুরের ব্যবসায়ী প্রভাত পাউডেল বলেন, “এগুলো আমাদেরই সম্পদ, নেতাদের নয়।”
জেন জেড বিক্ষোভকারীরা বলছে: “আমাদের আন্দোলন হাইজ্যাকড হয়েছে”
ছাত্রনেতারা বলছে প্রথম বিক্ষোভগুলো ছিল শান্তিপূর্ণ ও নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়:
“আন্দোলন তখনও এবং এখনো অহিংস। যারা সুযোগ নিতে চেয়েছিল, তারাই ঢুকে চুরি-ভাঙচুর করেছে।”
এখন তরুণরা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তারা এমন নেতৃত্ব চায়, যারা দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত নয়।
১৪ বছর বয়সী ক্সাং লামা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন:
“নেপালে দুর্নীতি অনেক দিন ধরে চলছে। আমি চাই এই আন্দোলন সত্যিকারের পরিবর্তন আনুক।
সেনাবাহিনীর প্রতিক্রিয়া: শান্তি আলোচনা ও কারফিউ
সেনারা ইতিমধ্যে:
- কাঠমান্ডু জুড়ে চেকপোস্ট বসিয়েছে
- বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে কারফিউ দিয়েছে
- ৩১টি অস্ত্র জব্দ ও ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে
সরকারি কর্মকর্তারাও বলছে—অশান্তির জন্য “অন্যপক্ষের অনুপ্রবেশকারীরা” দায়ী। সেনারা জেন জেড নেতাদের শান্তি আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তবে সতর্ক করেছে—ভবিষ্যতে সহিংস হলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
নেতৃত্বের শূন্যতায় সামনে কী?
প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করার পর নেপাল এখন নেতৃত্ব সংকটে। কে দায়িত্ব নেবে তা অনিশ্চিত। জেন জেড আন্দোলনকারীরা চায়:
- কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন নেতৃত্ব
- স্বচ্ছ শাসনব্যবস্থা
- দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অবসান
অনেক নেপালির জন্য এই অস্থিরতা ভয়ের হলেও কিছুটা আশাবাদও জাগিয়েছে। পূর্ব নেপালের রাকেশ নিরৌলা (৩৬) বলেন: “এটা নেতাদের জন্য শিক্ষা—তাদের ভালো হতে হবে।”
Also Read:কাতার আক্রমণের নির্দেশ কে দিল? ট্রাম্প জানালেন আসল
বড় ছবি: কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ
নেপালের সংকট শুধু দুর্নীতির কারণে নয়। এর ভেতরে আরও গভীর সমস্যা আছে:
- প্রজন্মের বিভাজন: জেন জেড সততা চায়, পুরনো রাজনৈতিক অভিজাত শ্রেণি ক্ষমতা আঁকড়ে আছে
- ডিজিটাল হতাশা: সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ হওয়ায় আস্থা আরও কমেছে
- জনরোষ: মানুষ চায় নেতা যেন দলের নয়, জনগণের কাছে জবাবদিহি করে
যদি শান্তিপূর্ণ সংস্কার পুরনো ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করতে পারে, তবে এই সংকট নেপালের রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় নেপাল কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় অস্থিরতার মুখে।
- জেন জেড বলছে, আন্দোলনকে সুযোগসন্ধানীরা দখল করেছে।
- কাঠমান্ডুতে এখন সেনা টহল ও কারফিউ চলছে।
- মানুষ পরিবর্তন চাইলেও সহিংসতায় আতঙ্কিত।
- ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে—স্বাধীন নেতৃত্ব উঠে আসবে কি না।
নেপালের বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: নেপালে বিক্ষোভ কীভাবে শুরু হলো?
সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে শুরু হলেও, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক অভিজাতদের প্রতি ক্ষোভ এটিকে বাড়িয়ে তোলে।
প্রশ্ন ২: বিক্ষোভের নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে?
মূলত জেন জেড শিক্ষার্থী ও তরুণ কর্মীরা। তবে কিছু গোষ্ঠী সুযোগ নিয়ে পরিস্থিতি খারাপ করেছে।
প্রশ্ন ৩: সেনারা এখন কী করছে?
সেনারা কারফিউ দিচ্ছে, সহিংসতা ঠেকাচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের শান্তি আলোচনায় ডাকছে।
প্রশ্ন ৪: নেপালে এরপর কী হবে?
অবস্থা অনিশ্চিত, তবে বিক্ষোভকারীরা স্বাধীন নেতৃত্ব ও সংস্কার দাবি করছে।
উপসংহার: অনিশ্চয়তার মধ্যেও আশা আছে
সহিংসতায় নেপাল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তরুণদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার দাবিই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে—নেপাল কি শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি আবার দুর্নীতি পথরোধ করবে।
