Wednesday, April 22, 2026
Homeখবর"আমার ভোট কোথায় গেল?" DUCSU নির্বাচনে স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন

“আমার ভোট কোথায় গেল?” DUCSU নির্বাচনে স্বচ্ছতার ওপর প্রশ্ন

Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিয় ছাত্র ইউনিয়ন (DUCSU) এবং হল পার্লামেন্ট নির্বাচনে সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ঘটনা এবং ধোঁকাধড়ির অভিযোগের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্বাধীন প্যানেলের প্রার্থী মোহাম্মদ সাজিব হুসাইন প্রশ্ন তুলেছেন যে এই নির্বাচন কি সত্যিই ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছভাবে হয়েছে কি না। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু ভোট বাতিল করা হয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গ করা হয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

“আমার ভোট কোথায় গেল?” প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

বুধবার মধুর ক্যান্টিনে একটি সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে সাজিব হুসাইন জানান, যদিও তিনি শাহিদুল্লাহ হলে ভোট দিয়েছিলেন, তা রেকর্ডে দেখা যায়নি। কুরজন হলে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ভোটিংয়ের সময় GS প্রার্থী সম্রাটের ভোট বাতিল দেখানো হয়। সাজিব হুসাইন প্রশ্ন তুলেছেন, “আমি নিজের হাতে ভোট দিয়েছি, তা কোথায় গেল?” তিনি আরও বলেন যে বাতিলকৃত ভোটগুলোর তথ্য প্রকাশ করা উচিত, যাতে সবাই জানে কি ঘটেছে।

Advertisement

তিনি আরও অভিযোগ করেছেন যে অনেক শিক্ষার্থী ভোটার স্লিপ ভোট কেন্দ্র থেকে মাত্র এক মিটার দূরে জমা দিয়েছেন, যা নিয়ম বিরোধী। তবে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সাজিব হুসাইন বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো গ্রুপকে অন্যের তুলনায় প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।

Advertisement

অন্য প্রার্থীদের উদ্বেগ

সেই সংবাদ সম্মেলনে, DUCSU For Change প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হুসাইন ঘাজী, যিনি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, নির্বাচনী কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, প্রার্থী স্লিপ বিতরণের সময় নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি এবং কমিশন কিছু প্রার্থীর সঙ্গে অন্যদের তুলনায় ভিন্ন আচরণ করেছে। এছাড়াও, এক গ্রুপ অতিরিক্ত সাহায্য পেয়েছে তাদের প্রচারণায়।

Advertisement

এই অভিযোগগুলো দেখায় যে শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা কমছে। নির্বাচনের সময় সব নিয়ম এবং বিধি মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

DUCSU নির্বাচনের ফলাফল

প্রকাশিত ফলাফলের অনুযায়ী:

  • উপাধ্যক্ষ (VP): আবিদ আল-ইসলাম খান ৫,৭০৮ ভোট পেয়েছেন, আর মোহাম্মদ আবু সাদিক ১৪,০৪২ ভোট পেয়েছেন। স্বাধীন প্রার্থী উমা ফাতেমা এবং শামিম হুসাইন যথাক্রমে ৩,৩৮৯ এবং ৩,৬৮১ ভোট পেয়েছেন।
  • সাধারণ সম্পাদক (GS): ফারহাদ ফাতেহ ৪৭ ভোট পেয়েছেন, আর তানভীর বারি হামিম ৫,২৮৩ ভোট পেয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মেঘমলার বসু ৪,৯৪৯ ভোট এবং আবু বকর মজমদার ২,১৩১ ভোট পেয়েছেন।
  • সহকারী সাধারণ সম্পাদক (AGS): মোহি উদ্দিন খান ১১,৭৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তানভীর এলহাদি মিদে ৫,০৬৪ ভোট পেয়েছেন।

কিছু প্রার্থী, যেমন আবিদ আল-ইসলাম খান এবং উমা ফাতেমা, অভিযোগ করেছেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

নির্বাচনের বিবরণ

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত DUCSU নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোট ৮টি ভোট কেন্দ্রে ৮১০টি বুথ ছিল। এইবার মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩৯,৮৭৪, যার মধ্যে ১৮,৯৫৯ জন নারী এবং ২০,৯১৫ জন পুরুষ।

DUCSU-এর ২৮টি আসনের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, এবং প্রতিটি হল পার্লামেন্টে ১৩ থেকে ১৮টি আসনের জন্য নির্বাচন হয়। ভোটারদের মোট ৪১টি ভোট দিতে হয়েছে, যা নির্বাচনের বিস্তৃত এবং সক্রিয় প্রকৃতি নির্দেশ করে।

Also Read:দীপিকার মেয়ের জন্মদিনে বিশেষ উপহার: “আমার ভালোবাসা…”

স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা

মোহাম্মদ সাজিব হুসাইন এবং অন্যান্য প্রার্থীরা বলেছেন যে, নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাবে শিক্ষার্থীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। ভোট বাতিল, আচরণবিধি ভঙ্গ এবং প্রার্থীদের অসমভাবে আচরণ করা—all এসব একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই দ্রুত এই ভোট বাতিলের কারণ খুঁজে বের করতে হবে, ঘটনা প্রকাশ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও, ভবিষ্যতের DUCSU নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এই অভিজ্ঞতা শিক্ষণীয় হতে পারে।

DUCSU নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ

শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বৃদ্ধি দেখায় যে তারা তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় আগ্রহী। এই নির্বাচন শুধুমাত্র প্রতিনিধিত্বের মাধ্যম নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা শেখায়।

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশ্চিত করতে হবে যে প্রতিটি ভোট ন্যায্য ও স্বচ্ছভাবে গণনা করা হবে, যাতে ভবিষ্যতের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের আস্থা বজায় থাকে।

উপসংহার

মোহাম্মদ সাজিব হুসাইন এবং অন্যান্য প্রার্থীদের অভিযোগ DUCSU নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ভোট বাতিল এবং অসম আচরণ দেখায় যে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনী কমিশনকে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ফলাফলের ওপর প্রশ্ন এবং স্বচ্ছতার দাবি ভবিষ্যতের DUCSU নির্বাচনের মান উন্নত করার সুযোগ প্রদান করছে। প্রতিটি ভোটের মূল্য দেওয়া উচিত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করা উচিত, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় থাকে।

কল টু অ্যাকশন

আপনি DUCSU নির্বাচন এবং ভোটিং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা সম্পর্কে কী মনে করেন? মন্তব্যে আপনার মতামত জানান এবং এই আর্টিকেলটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন, যাতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সম্পর্কে আরও মানুষ সচেতন হয়।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত