Advertisement
মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে এক বাংলাদেশি পরিবারকে আক্রমণ করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে সব কিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, যখন নেপালে বিলাসবহুল হোটেলবিরোধী সহিংস প্রতিবাদ চলছিল। এটি দেখায় যে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কতটা গুরুতর হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে বাংলাদেশের পর্যটকরা বিপদে পড়েন এবং কূটনৈতিককেও প্রভাবিত করে, যেমন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, যাঁর গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যখন তিনি নেপালে জাতীয় ফুটবল দলের পাশে সমর্থনের জন্য যাচ্ছিলেন।
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হামলার শিকার পরিবারটি পরে নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সেবার জন্য রাষ্ট্রদূতের বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। অশান্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হয়েছে।
Advertisement
কাঠমান্ডুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি
প্রতিবাদ শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞার পরে, যা দুর্নীতির বিরোধী প্রতিবাদে পরিণত হয় এবং সোমবার ১৯ জনের মৃত্যু হয়। মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। প্রতিবাদকারীরা এক পাঁচ-তারকা হোটেলে আগুন লাগায় এবং অন্য একটি হোটেল ক্ষতিগ্রস্ত করে যেখানে বাংলাদেশি পর্যটকরা অবস্থান করছিলেন।
Advertisement
বাংলাদেশি পরিবারটি হামলার সময় তাদের পাসপোর্ট লুকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবাদকারীরা তাদের কক্ষে প্রবেশ করে, তাদের মারধর করে এবং তাদের জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। হোটেল কর্মীরা পরিবারের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে এবং সাময়িকভাবে অন্য কক্ষে নিয়ে যায়, কিন্তু পরিবার আর কোথাও থাকতে চায়নি ভয় পাওয়ার কারণে, তাই তাদের দূতাবাসে নেওয়া হয়।
Advertisement
দূতাবাসের উদ্ধার কার্যক্রম
সংকটকালে বাংলাদেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, ৩০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ১০ জন ট্রিভুভন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং ২০ জন কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থান থেকে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রথমে সব উদ্ধারকৃতদের হোটেলে রাখে এবং তাদের সরাসরি নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া হয়।
দূতাবাস এখনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে যাতে আটকে পড়া ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ফ্লাইট ব্যবস্থা করা যায়। একটি সি-১৩০ বিশেষ বিমান ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুর জন্য রওয়ানা হবে। এর কাজ হলো ৫৪ জন বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা, যার মধ্যে ৩৮ জন ফুটবল দল, সাংবাদিক এবং ডিফেন্স কলেজের স্টাডি ট্যুরে থাকা অন্যান্য ব্যক্তি রয়েছেন।
কূটনৈতিক মিশনের উপর প্রভাব
রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেখায় যে “সেখানে” গৃহীত নৃশংসতা কূটনৈতিক মিশনের জন্য কতটা বিপজ্জনক। রাষ্ট্রদূত জাতীয় ফুটবল দলকে সমর্থন এবং লজিস্টিক সহায়তা দিতে চেষ্টা করলেও, তার কনভয়ের উপর হামলা দেখায় যে প্রতিবাদ কতটা অপ্রত্যাশিত এবং সহিংস হতে পারে।
দূতাবাস বাংলাদেশের সকল নাগরিককে নেপালে হোটেল বা নিজস্ব বাড়িতে থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে আরও সমস্যার সৃষ্টি না হয়। যারা নেপালে ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করছেন তাদেরও বলা হয়েছে যে, নিরাপত্তার অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভ্রমণ স্থগিত রাখা উচিত।
নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা পদক্ষেপ
কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে, বর্তমানে যারা বাংলাদেশি নেপালে রয়েছেন তারা ভারত দিয়ে যেতে পারবেন না কারণ তাদের কাছে ভারতীয় ভিসা নেই। তবে সমস্ত কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করে নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, আটকে থাকা নাগরিকরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবে। বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, নেপালের বাংলাদেশিরা স্থানীয়দের দ্বারা খারাপভাবে আচরণিত হচ্ছেন না। দূতাবাস নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
দূতাবাস কর্মীরা হামলার শিকার বা সম্পত্তি হারানোদের সুরক্ষায় সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে। রাষ্ট্রদূতের বাড়ি এবং এয়ারলাইন্সের সাহায্যে তৈরি সাময়িক শেল্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা ও মেডিকেল সহায়তা উপলব্ধ আছে।
সমস্যার পরিধি
রাজনৈতিক অশান্তি পর্যটক এবং স্থায়ীভাবে বসবাসরত লোকদের উপর প্রভাব ফেলেছে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ বাংলাদেশি পর্যটক এবং ৫০ জন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মী নেপালে রয়েছেন। দূতাবাস তাদের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং হোটেল ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে যাতে তাদের নিরাপদ রাখা যায়।
ঘটনাটি দেখিয়েছে যে, বিদেশে অবস্থানরতদের জন্য যখন প্রতিবাদ সহিংস হয়ে যায় এবং সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন এটি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
Also Read:“আমি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই”: ফজলুর প্রকাশ্য ঘোষণা
এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সহযোগিতা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আটকে থাকা মানুষদের দেশে ফিরে আসতে সহায়তা করছে। নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি, এয়ারলাইন্স বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে যাতে প্রভাবিত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে ঢাকায় আনা যায়। দূতাবাস কর্মকর্তারা সবসময় এয়ারলাইন্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন যাতে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা যায়।
সঙ্কট মোকাবেলার কৌশল
নেপালের অশান্তি প্রমাণ করে কিভাবে বিদেশে থাকা নাগরিক এবং কূটনৈতিক মিশন সঙ্কটকালীন পরিস্থিতি পরিচালনা করতে পারে। বাংলাদেশের দূতাবাসের দ্রুত পদক্ষেপ, এয়ারলাইন্স এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ, হামলার শিকার পরিবার এবং অন্যান্য নাগরিকদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে।
এই ঘটনা দেখিয়েছে যে, ভ্রমণ সতর্কতা আপডেট রাখা, বিদেশে থাকা নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি করা এবং কূটনৈতিক কর্মীদের অপ্রত্যাশিত নৃশংসতার জন্য প্রস্তুত রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশি পরিবারে হামলা এবং রাষ্ট্রদূতের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিষ্কারভাবে দেখায় যে রাজনৈতিক অশান্তির সময় বিদেশিদের জন্য পরিস্থিতি কতটা বিপজ্জনক হতে পারে। বাংলাদেশি দূতাবাস নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং ক্রাইসিসের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছে, কূটনীতি পরিচালনা, উদ্ধার ব্যবস্থা সংগঠিত করা এবং পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নেপালে থাকা বাংলাদেশিদের দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী অবস্থান করতে বলা হয়েছে। যারা নেপালে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদেরও অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে যতক্ষণ পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হয়। চলমান প্রচেষ্টা দেখায় যে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সঙ্কটের পূর্বাভাস অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিদেশে নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
বিদেশে থাকা বা ভ্রমণরত বাংলাদেশিরা উচিত তাদের দূতাবাসে নিবন্ধন করা এবং ভ্রমণ সতর্কতা মনোযোগ দিয়ে পড়া। এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন যাতে মানুষ জানে কিভাবে রাজনৈতিক অশান্তির সময় নিরাপদ থাকা যায় এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে খবর পাওয়া যায়।
