Advertisement
দেশজুড়ে মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই গুজবের পরিপ্রেক্ষিতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় একটি স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন বিবৃতি জারি করেছে। মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে জানিয়েছে যে ১৬ ডিসেম্বরের আগে কোনো সচল মোবাইল ফোন বন্ধ করা হবে না। এই ঘোষণাটি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে মোবাইল ফোন আমদানি এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আপনার ফোনের নিরাপত্তা এবং আইনি অবস্থান সম্পর্কে জানতে হবে এমন মূল সিদ্ধান্তগুলো কী কী? সমস্ত বিবরণ এবং কীভাবে গুজব মোকাবিলা করা হচ্ছে, তা জানতে পড়ুন।
ভিত্তিহীন গুজব: ১৬ ডিসেম্বরের আগে কোনো ফোন বন্ধ হবে না
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় কঠোরভাবে জনসাধারণকে গুজবগুলিতে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই ঘোষণাটি সেই সমস্ত গ্রাহকদের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে যারা তাদের ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
Advertisement
মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত ঘোষণা
| সময়সীমা | বিবরণ |
| সময়সীমা | ১৬ ডিসেম্বরের আগে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত কোনো হ্যান্ডসেট বিচ্ছিন্ন করা হবে না। |
| NEIR বাস্তবায়ন | ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হতে চলেছে। |
| NEIR এর পরে | NEIR কার্যকর হওয়ার পরে, শুধুমাত্র যে ফোনগুলিতে বৈধ আইএমইআই (IMEI) নেই (অবৈধভাবে আমদানি করা বা ক্লোন ফোন) সেগুলিতেই সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে। |
মোবাইল ফোন আমদানি ও বাজার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
১ ডিসেম্বর এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি একসাথে বৈঠক করে মোবাইল ফোন আমদানি এবং শুল্ক হার সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তগুলি সরাসরি গ্রাহকদের এবং স্থানীয় শিল্পকে প্রভাবিত করবে।
Advertisement
১. বিদেশিদের জন্য সহজ রেজিস্ট্রেশন
Advertisement
- ছাড়: ছুটিতে দেশে আসা বিদেশিরা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ৬০ দিন পর্যন্ত তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবেন।
- বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন: যদি আপনি ৬০ দিনের বেশি থাকেন, তাহলে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক হবে।
২. শুল্কমুক্ত ফোন আনার নতুন নিয়ম
- BMET কার্ডধারীরা: BMET-এ নিবন্ধিত ব্যক্তিরা তাদের ব্যবহৃত ফোন ছাড়াও আরও দুটি নতুন ফোন শুল্কমুক্তভাবে আনতে পারবেন। চতুর্থ ফোনের জন্য শুল্ক দিতে হবে।
- সাধারণ যাত্রী: BMET কার্ড না থাকলে, আপনি আপনার নিজের ফোন ছাড়াও একটি অতিরিক্ত ফোন শুল্কমুক্তভাবে আনতে পারবেন।
- গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ: চোরাচালান বন্ধ করতে, বিদেশ থেকে কেনা ফোনের জন্য অবশ্যই বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে।
৩. আইনগতভাবে আমদানি করা স্মার্টফোনে শুল্ক কমানো
- বর্তমান শুল্ক: বর্তমানে আইনগতভাবে দেশে আনা স্মার্টফোনগুলিতে প্রায় ৬১% শুল্ক রয়েছে।
- সরকারি পদক্ষেপ: সরকার শুল্কের হার কমানোর জন্য কাজ করছে যাতে আইনগতভাবে আমদানি করা ফোনগুলির বাজারে দাম কম হয়।
৪. স্থানীয়ভাবে তৈরি ফোনের জন্য পরিবর্তন
যদি আমদানি শুল্ক কমে যায়, তবে দেশে যে ১৩-১৪টি মোবাইল তৈরির কারখানা রয়েছে, সেগুলির বিদেশি বিনিয়োগ এবং স্থানীয় শিল্পকে রক্ষা করার জন্য কাস্টমস-ভ্যাট সমন্বয় করার প্রয়োজন হবে।
Also read:ব্রেকিং! তারেক রহমানের প্রিয় পোষা বিড়ালেরও পাসপোর্ট: কি দেশে ফেরা আসন্ন?
৫. সিম রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে সতর্কতা
মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে দৃঢ়ভাবে সতর্ক করেছে যে তাদের নামে নিবন্ধিত সিমগুলি যেন সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া, স্কিমিং এবং মোবাইল ব্যাংকিং জালিয়াতির জন্য ব্যবহৃত না হয়।
৬. অবৈধ ফোন বৈধ করার শেষ সুযোগ
- গ্রেস পিরিয়ড: বিটিআরসি ১৬ ডিসেম্বরের আগে বাজারে থাকা বৈধ আইএমইআই সহ অবৈধ স্টক ফোনগুলির একটি তালিকা তৈরি করার এবং কম শুল্কে সেগুলি পরীক্ষা করার জন্য কাজ করছে।
- নিষেধাজ্ঞা: তবে, ক্লোন বা রিফার্বিশড ফোন কেনার কোনো আইনি সুযোগ কখনোই থাকবে না।
৭. কঠোর নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ
ভারত, থাইল্যান্ড এবং চীন থেকে আসা ফ্লাইটগুলির উপর আরও বেশি নজরদারি করা হচ্ছে এবং কাস্টমস শীঘ্রই একটি বিশেষ অপারেশন চালাবে।
ডেটা সুরক্ষার আইন ও সুরক্ষা
প্রস্তাবিত “টেলিযোগাযোগ (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৫” ডেটা সুরক্ষার জন্য কঠোর নিয়মের আহ্বান জানিয়েছে। এই অধ্যাদেশে সিম ইকেওয়াইসি (eKYC) এবং আইএমইআই রেজিস্ট্রেশন তথ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া এই তথ্য ব্যবহার বা শেয়ার করার জন্য শাস্তিরও বিধান রয়েছে।
উপসংহার: নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার দিকে একটি মূল পদক্ষেপ
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটি কেবল মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার গুজবকেই শেষ করে না, বরং এটি মোবাইল ফোন বাজারকে আইনি করা এবং দেশের ডেটা আরও নিরাপদ করার দিকে একটি বড় পদক্ষেপ। শুল্ক হার কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের জন্য ফোন সস্তা করতে পারে এবং NEIR চোরাচালানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি কার্যকর সরঞ্জাম হবে।
ডিসক্লেমার
এই খবরটি বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরবরাহকৃত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যমূলক এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে, এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরে থাকা মতামত, বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা খাঁটি উৎসের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় না।
