Advertisement
বলিউডে গোপন সম্পর্ক এবং পর্দার পেছনের গল্প নিয়ে আলোচনা সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। একটা সময় ছিল যখন অভিনেতা অক্ষয় কুমার এবং অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-র জুটি ছিল সবচেয়ে বেশি আলোচিত। চলচ্চিত্রে তাঁদের অসাধারণ রসায়ন দেখে ভক্তরা অনুমান করতেন যে বাস্তব জীবনেও তাঁদের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এবার, প্রযোজক সুনীল দর্শন এই কথিত সম্পর্ক নিয়ে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি অবাক করা প্রকাশ করেছেন যে এই ব্যক্তিগত উত্তেজনার কারণে তাঁকে তাঁর ছবি থেকে অক্ষয় কুমারকে বাদ দিতে হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে কী ঘটেছিল এবং প্রযোজক কী কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন? এই পুরনো গুজবের পেছনের সম্পূর্ণ বিবরণ ও সত্যতা জানতে পড়ুন।
সফল অন-স্ক্রিন জুটি: গল্পের শুরু
অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া একসাথে বেশ কয়েকটি সফল চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং ফিল্ম জগৎকে অনেক হিট জুটি উপহার দিয়েছেন।
Advertisement
রসায়ন এবং প্রাথমিক সহযোগিতা
- সফল চলচ্চিত্র: তাঁরা ‘মুঝসে শাদী কারোগি’, ‘ওয়াক্ত’, ‘আন্দাজ’, এবং বিশেষভাবে ‘এতরাজ’-এর মতো বিখ্যাত ছবিতে একসাথে কাজ করেছেন।
- সুনীল দর্শনের প্রকাশ: প্রযোজক সুনীল দর্শন এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন যে একসময় প্রিয়াঙ্কা ও অক্ষয়ের মধ্যে কোনো অস্বস্তি ছিল না, এবং তাঁরা একে অপরের সাথে খুবই স্বচ্ছন্দ ছিলেন।
- ‘এতরাজ’-এর সত্যতা: দর্শন স্মরণ করেন যে প্রিয়াঙ্কা প্রথমে ‘ভ্যাম্প’ (নেগেটিভ চরিত্র)-এর ভূমিকা পাওয়ায় ‘এতরাজ’ ছবিটি করতে চাননি। কিন্তু পরে যখন তিনি দেখলেন যে তাঁর ভূমিকা আসলে ছবিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তখন তিনি অবিলম্বে তাঁকে অফিসে ডেকে ছবিতে সই করতে বলেন।
পর্দার পেছনের উত্তেজনা: ‘বরসাত’-এর সংঘাত
এই সুপারহিট জুটিকে চিরতরে আলাদা করে দেওয়া উত্তেজনা শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালের ছবি ‘বরসাত’-এর শ্যুটিংয়ের সময়।
Advertisement
‘বরসাত’ এবং অপ্রত্যাশিত মোড়
- কাস্টিং: অক্ষয় কুমারের সাথে ছবিতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং ক্যাটরিনা কাইফেরও কাজ করার কথা ছিল।
- শ্যুটিং শুরু: প্রযোজক বলেন, “আমরা অক্ষয় এবং প্রিয়াঙ্কার সাথে টাইটেল ট্র্যাকটি শ্যুট করেছিলাম।”
- সংঘাতের সূত্রপাত: “কিন্তু তারপর পর্দার পেছনে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।” সুনীল দর্শন স্পষ্ট করেন যে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে তিনি বুঝতে পারেন যে তাঁদের দু’জনকে একসাথে নিয়ে ছবিটির কাজ আর এগিয়ে নেওয়া যাবে না।
- প্রযোজকের কঠিন সিদ্ধান্ত: “আমাকে দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হয়েছিল।” দর্শনের মতে, এই সিদ্ধান্ত তাঁর জন্য খুব কঠিন ছিল।
সুনীল দর্শনের অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত: কেন অক্ষয়কে বাদ দিলেন?
এই কঠিন পরিস্থিতিতে সুনীল দর্শন এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা তাঁর সৎ এবং ন্যায্য নীতিকে প্রতিফলিত করে।
Advertisement
Also read:হাসপাতালের বাইরে বড় প্রকাশ! কনকচাঁপার ‘উদ্বেগজনক’ মন্তব্য কি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে?
নারী শিল্পীর পক্ষে সিদ্ধান্ত
- যুক্তির ভিত্তি: সুনীল দর্শন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যদি কেউ ভুল করে থাকেন, তাহলে একজন নারী শিল্পীকে কেন তার মূল্য দিতে হবে?”
- চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: “আমার যুক্তি খুব স্পষ্ট ছিল—আমি প্রিয়াঙ্কার সাথে যাব।”
- বড় ক্ষতি: এই সিদ্ধান্ত আর্থিকভাবেও খুব কঠিন ছিল কারণ ইতিমধ্যে অনেক শ্যুটিং হয়ে গিয়েছিল, যার সবটাই বাতিল করতে হয়েছিল।
- বিকল্প কাস্টিং: এরপর, এক বন্ধুর পরামর্শে অক্ষয় কুমারের বদলে ছবিতে ববি দেওলকে নেওয়া হয়। পরে ক্যাটরিনা কাইফও প্রজেক্ট থেকে বেরিয়ে যান এবং তাঁর জায়গায় বিপাশা বসু-কে নেওয়া হয়।
জুটির সমাপ্তি: আর কখনও একসাথে কাজ করেননি
‘বরসাত’-এর ঘটনার পর, এটাই সত্য যে অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আর কখনও একসাথে কাজ করেননি। সুনীল দর্শনের নতুন প্রকাশ এই পুরনো গুজবটিকে আবারও বলিউডে আলোচনার বিষয় করে তুলেছে, এবং ভক্তরা এখন এই গোপন সম্পর্কের কারণ নিয়ে আরও অনুমান করছেন।
উপসংহার: একটি যুগের সমাপ্তি এবং সত্যের প্রকাশ
সুনীল দর্শনের বিস্ফোরক বিবৃতি কেবল একটি সিনেমাটিক বাস্তবতা নয়, এটি বলিউডের পর্দার পেছনের উত্তেজনা এবং একজন প্রযোজকের নৈতিক সিদ্ধান্তকে প্রতিফলিত করে এমন একটি গল্প। অক্ষয় ও প্রিয়াঙ্কার এই বিখ্যাত জুটি একটি চলচ্চিত্র বিতর্কের শিকার হয়েছিল, যার পর তাঁরা রূপালী পর্দায় চিরতরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান।
ডিসক্লেমার
এই খবরটি বিভিন্ন বিশ্বস্ত সূত্র এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরবরাহকৃত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যমূলক এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে, এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরে থাকা মতামত, বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলি লেখকের ব্যক্তিগত মতামত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য সরকারি বা খাঁটি উৎসের সাথে যোগাযোগ করা উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায়িত্ব গ্রহণ করা হয় না।
