Friday, January 2, 2026
Homeস্পোর্টসসেনা টহলে কাঠমান্ডুতে আটকে বাংলাদেশ ফুটবল দল

সেনা টহলে কাঠমান্ডুতে আটকে বাংলাদেশ ফুটবল দল

Advertisement

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে কাঠমান্ডুর হোটেলে অবস্থান করছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিংস বিক্ষোভ ও কারফিউর কারণে তারা বাইরে যেতে পারছে না। রাস্তায় সেনা মোতায়েন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করলেও খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপদে ফেরার উদ্বেগ রয়ে গেছে।

কাঠমান্ডুতে আটকে বাংলাদেশ ফুটবল দল

বাংলাদেশ দল দুটি প্রীতি ফিফা ম্যাচ খেলতে নেপালে গিয়েছিল। প্রথম ম্যাচটি দাশরথ স্টেডিয়ামে গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়, তবে মঙ্গলবারের দ্বিতীয় ম্যাচটি সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় স্থগিত করা হয়।

Advertisement

এরপর থেকে খেলোয়াড়রা হোটেল থেকে বের হননি। বিক্ষোভে কাঠমান্ডুর স্বাভাবিক জীবন থমকে গেছে, এমনকি তাদের নির্ধারিত অনুশীলন সেশনও বাতিল হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার প্রতিবাদকারীরা দলের হোটেলের সামনে জড়ো হলেও ভেতরে কোনো সহিংসতা ঘটেনি। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দলটি বুধবার সকালে হোটেলের জিমে অনুশীলন করেছে এবং তারা এখনো “শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ” রয়েছে।

Advertisement

নিরাপত্তার দায়িত্বে সেনাবাহিনী

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবন, সংসদ ভবন ও যানবাহনে আগুন দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন সেনাবাহিনী দায়িত্বে আছে।

এক ভিডিও বার্তায় মিডফিল্ডার সোহেল রানা ভক্তদের উদ্দেশে বলেন:

“আমাদের অবস্থা গতকালের চেয়ে অনেক ভালো। আজ খুবই শান্ত। সেনাবাহিনী সবকিছু দেখাশোনা করছে, কোনো সমস্যা নেই। আমরা পরিবারগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি, তাদের উদ্বেগও এখন কমে গেছে।”

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সহিংসতা এড়াতে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে কারফিউ জারি থাকবে।

ফ্লাইট বিলম্ব ও বিমানবন্দর বন্ধ

দলটির সোমবার ঢাকায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সহিংসতার কারণে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (TIA) বন্ধ করে দেওয়া হয়, সব ফ্লাইট বাতিল হয়।

ফলে শুধু ফুটবলাররাই নয়, শত শত বাংলাদেশি নাগরিকও কাঠমান্ডুতে আটকা পড়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে সমন্বয় করছে, পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হবে।

সরকারের আশ্বাস: নিরাপদ প্রত্যাবর্তন

ঢাকায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়:

“আমরা কাঠমান্ডুতে আমাদের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করছি। খেলোয়াড়দের দ্রুততম সময়ে নিরাপদে ফেরাতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

শান্ত হলেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

সেনা টহল কিছুটা শান্তি ফিরিয়ে আনলেও কাঠমান্ডু এখনো বিক্ষোভের ক্ষত বহন করছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবন ও গাড়ি থেকে এখনো ধোঁয়া উঠছে, মানুষ কারফিউর কারণে ঘরেই থাকছে।

বাংলাদেশ দলের প্রধান অগ্রাধিকার নিরাপত্তা হলেও দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা তাদের ভাবাচ্ছে। খেলোয়াড়রা পরিবার, ভক্ত ও কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা তাদের জন্য প্রার্থনা করছেন।

Also read:ভারত বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত হাইলাইটস, এশিয়া কাপ ২০২৫: মাত্র ৪.৩ ওভারে রেকর্ড জয়

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ: শুধু ফুটবল নয়

বাংলাদেশ ফুটবল দলের এই পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে নিয়ে আসে:

  • খেলাধুলা ও ভূ-রাজনীতি: রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে আন্তর্জাতিক খেলাধুলাকে স্থবির করে দেয়।
  • অ্যাথলেট নিরাপত্তা: বিদেশ সফরে দলগুলোর জন্য শক্তিশালী জরুরি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা।
  • কূটনৈতিক সমন্বয়: বিদেশে নাগরিকদের নিরাপত্তায় দূতাবাস ও সরকারের ভূমিকা।

আগামী বড় টুর্নামেন্টগুলো সামনে রেখে খেলোয়াড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ঘটনাবলির তালিকা

  • রবিবার: বাংলাদেশ ও নেপালের প্রথম প্রীতি ম্যাচ গোলশূন্য ড্র।
  • সোমবার: বিক্ষোভের কারণে অনুশীলন বাতিল, বিমানবন্দর বন্ধ।
  • মঙ্গলবার: দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ স্থগিত, হোটেলের সামনে বিক্ষোভ।
  • বুধবার: সেনা টহল, খেলোয়াড়রা হোটেলের জিমে অনুশীলন, কারফিউ বাড়ানো হয়।

প্রশ্নোত্তর: নেপালে বাংলাদেশি ফুটবলাররা

প্রশ্ন ১: খেলোয়াড়রা কি নিরাপদে আছেন?
👉 হ্যাঁ। বাফুফে ও দূতাবাস জানিয়েছে পুরো দল হোটেলে নিরাপদে আছে, সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিচ্ছে।

প্রশ্ন ২: তাদের ফেরার ফ্লাইট কেন বাতিল হয়েছে?
👉 সহিংসতার কারণে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

প্রশ্ন ৩: কবে তারা ঢাকায় ফিরবেন?
👉 সরকার ও দূতাবাস ব্যবস্থা নিচ্ছে, তবে সময় নির্ভর করছে নেপালের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর।

প্রশ্ন ৪: নেপালের অস্থিরতা খেলাধুলায় কী প্রভাব ফেলেছে?
👉 বাংলাদেশ-নেপাল দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ স্থগিত হয়েছে, অন্যান্য ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বন্ধ।

উপসংহার

নেপালে আটকে থাকা বাংলাদেশি ফুটবলাররা নিরাপদে আছেন, তবে কারফিউর কারণে সেনা টহলাধীন কাঠমান্ডুতে হোটেল ছাড়তে পারছেন না। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও তারা কবে ফিরবেন তা নিয়ে পরিবার ও ভক্তদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।

সবাই আশা করছেন, খুব শিগগিরই জাতীয় দল নিরাপদে দেশে ফিরবে এবং আবারও খেলায় মনোযোগ দিতে পারবে। সরকার তাদের দ্রুত ও নিরাপদে ফেরাতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত