Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বৃদ্ধি কারণ ও সংকটের ব্যাখ্যা

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বৃদ্ধি কারণ ও সংকটের ব্যাখ্যা

Advertisement

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ১২০ টাকা কেজিতে কিন্তু শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬০ টাকা। নতুন কাটা পেঁয়াজের দামও ৮০ টাকা থেকে হঠাৎ ১২০ টাকায় উন্নীত হয়।

এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সরকারের নীতি আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং কৃষি সরবরাহ ব্যবস্থার নানা ঘাটতি স্পষ্ট করে তুলেছে।

Advertisement

ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের সরবরাহ সংকটের কারণ

স্থানীয় বাজারে পুরোনো পেঁয়াজের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে।
যে সামান্য মজুদ আছে তার দাম বাড়িয়ে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
শুক্রবার পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কোনো যোগানই পাওয়া যায়নি যা দামের আরও বৃদ্ধি ঘটায়।

Advertisement

দোকানিদের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার ১২০ টাকায় যে পেঁয়াজ কিনেছিলাম শুক্রবার সকালে তা ১৫০ টাকাতেও পাইকারিতে পাওয়া যায়নি।

Advertisement

নতুন কাটা পেঁয়াজেও সরবরাহ কমে গেছে।
পাইকারিতে বৃহস্পতিবার ছিল ৭০ টাকা কেজি।
শুক্রবার তা বেড়ে হয় ১০৫ থেকে ১১০ টাকা।
খুচরা বাজারে এর দাম হয় ১২০ টাকা।

মূল কারণসমূহ বিশদ বিশ্লেষণ

মৌসুমের শেষে মজুদ ঘাটতি

সংরক্ষিত পুরোনো পেঁয়াজ প্রায় শেষ।
নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে দেরি হচ্ছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

কৃষি বিভাগের মন্তব্য
অবিরাম বৃষ্টির কারণে যথেষ্ট পেঁয়াজ বাজারে আনার আগেই ক্ষতি হয়েছে।

আমদানি বন্ধ বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে

দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় পুরোপুরি দেশি উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে।
চাহিদা বাড়লে কোনো বিকল্প সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।

ব্যবসায়ীদের মত
আমদানি অনুমতি না এলে আগামী মাসেও দাম আরও বাড়তে পারে।

সংরক্ষিত পেঁয়াজের ওজন কমে যাওয়া

দীর্ঘদিন সংরক্ষণে পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যায়।
এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে বাধ্য হয় ফলে ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

Also read:শেষ মুহূর্তে চমক ঢাকায় পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশের কনসার্ট স্থগিত ভক্তদের তীব্র হতাশা

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ক্ষোভ ও অসহায়তা

ক্রেতারা আচমকা দামের এমন উল্লম্ফনে বিস্মিত।
এক ক্রেতা মাহমুদুল ইসলাম বলেন
গতকাল ১১৫ টাকায় যে পেঁয়াজ কিনেছি আজ সেটাই ১৬০ টাকা।
কিনতে গিয়েও কম নিতে হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলেও বৃহস্পতিবার ৮০ টাকা থেকে শুক্রবার ১২০ টাকায় দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি তীব্র হয়েছে।

কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে

নতুন ফসল বাজারে আসতে দেরি

বৃষ্টিতে রবি মৌসুমের রোপণ ব্যাহত হয়েছে
যে জমিতে ফসল ছিল সেগুলোরও ক্ষতি হয়েছে
ফলে বাজারে সরবরাহে বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে

দাম আরও এক মাস উচ্চমাত্রায় থাকতে পারে

কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীদের মতে
যথেষ্ট নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে মধ্য জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে
তার আগে বাজার স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম

ভোক্তাদের জন্য সম্ভাব্য সমাধান

পরিকল্পিত কেনাকাটা

একসাথে বেশি না কিনে সপ্তাহভিত্তিক ক্রয়
ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা

বিকল্প ব্যবহার

নতুন পেঁয়াজের বিকল্প হিসেবে
স্প্রিং অনিয়ন
মূলা
রসুন
বাজারে পাওয়া পেঁয়াজ পেস্ট ব্যবহার করা যেতে পারে

সরকারি হস্তক্ষেপ

ভোক্তাদের চাহিদা
জরুরি ভিত্তিতে সীমিত আমদানি অনুমোদন
কৃষকদের জন্য প্রণোদনা
সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নত নজরদারি

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন পেঁয়াজের দাম কি আরও বাড়তে পারে
উত্তর নতুন ফসল বাজারে না আসা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে।

প্রশ্ন বিদেশি পেঁয়াজ আমদানি কি দাম কমাতে সাহায্য করবে
উত্তর হ্যাঁ অল্প পরিমাণ আমদানিও বাজার স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্ন বাজার কবে স্বাভাবিক হবে
উত্তর বিশেষজ্ঞরা বলছেন জানুয়ারির শেষের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।

ডিসক্লেমার

এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে প্রকাশিত তথ্য শুধুমাত্র তথ্যগত ও বিনোদনমূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং এটিকে চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না। উল্লিখিত মতামত বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের সরকারি বা প্রামাণিক উৎস থেকে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিবেদন ভিত্তিতে কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য দায় গ্রহণ করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত