Advertisement
বিশ্বজুড়ে ভোজ্য তেলের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে পাম অয়েলের দাম দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায় এই বৈশ্বিক মূল্যহ্রাস কি সত্যিই সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি আনছে নাকি মূল্যস্ফীতি আগের মতোই চলবে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ভোজ্য তেলের প্রায় নব্বই শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তন সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে দাম কমার তেমন লক্ষণ নেই।
বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দামের বড় পরিবর্তন
বিশ্বে ব্যবহৃত মোট ভোজ্য তেলের প্রায় আশি শতাংশই পাম অয়েল। বাকি অংশ আসে সয়াবিন সূর্যমুখী সরিষা ও অলিভ অয়েল থেকে।
Advertisement
আগস্ট মাসে ক্রুড পাম অয়েলের বুকিং মূল্য ছিল প্রতি টনে প্রায় ১০৪৫ ডলার। নভেম্বরের শেষ নাগাদ তা কমে দাঁড়ায় ৯৫০ থেকে ৯৮০ ডলারের মধ্যে। অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে কয়েক দফা দাম কমে শেষ পর্যন্ত ৯৫৩ ডলারের নিচে নেমে যায় যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
Advertisement
মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড জানিয়েছে অক্টোবর মাসে উৎপাদন বেড়ে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০ লাখ টনের বেশি হয়েছে। অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম আরও কমেছে।
Advertisement
স্থানীয় বাজারে বাস্তব চিত্র
আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও স্থানীয় বাজারে ভোজ্য তেলের দাম এখনো বেশি। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় আগের উচ্চ দামের তালিকা এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে খুচরা বিক্রেতারা পুরনো দামে তেল বিক্রি করছেন।
পাইকারি বাজারে প্রতি মণ পাম অয়েলের দাম প্রায় ৪৫০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কিন্তু খুচরা পর্যায়ে সেই সুবিধা পৌঁছায়নি। দোকানদাররা পুরনো মজুদের অজুহাতে বেশি দামে বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন।
শীতকালে পাম অয়েল জমাট বাঁধায় চাহিদা কিছুটা কমে যায়। একই সঙ্গে চীনের মতো বড় ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়াও বিশ্ববাজারে দাম কমার একটি কারণ।
ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের অবস্থান
ভোজ্য তেল ব্যবসায়ীদের মতে বর্তমান মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে না। সাপ্লাই অর্ডারের দামে কিছুটা কমতি এলেও নগদ ক্রয়ের ক্ষেত্রে দাম এখনো বেশি।
রমজানকে সামনে রেখে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন সরকারকে দ্রুত আমদানি নীতি ও মূল্য সমন্বয় করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে সংকট তৈরি না হয়।
বিশ্ব ও স্থানীয় দামের তুলনা
| পণ্য | আগস্ট মাসের বৈশ্বিক মূল্য | নভেম্বর মাসের বৈশ্বিক মূল্য | কমেছে |
|---|---|---|---|
| পাম অয়েল প্রতি টন | ১০৪৫ ডলার | ৯৫০ ডলার | ৯৫ ডলার |
| মালয়েশিয়া বুকিং রেট | ৪৫০০ রিঙ্গিত | ৪০০০ রিঙ্গিত | ৫০০ রিঙ্গিত |
Also read:নোরা ফাতেহির নাচে কোনার গান মেহেন্দি ইন্টারনেটে ঝড় তুলেছে
ভোক্তাদের জন্য পরামর্শ
বর্তমান পরিস্থিতিতে কেনাকাটার সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যতালিকা দেখতে চাওয়া উচিত। সম্ভব হলে নির্ভরযোগ্য পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করা যেতে পারে।
সরকারের উচিত নিয়মিত মাসভিত্তিক মূল্য পর্যালোচনা করা মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারের সুবিধা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
উপসংহার
বিশ্ববাজারের প্রবণতা বলছে ভোজ্য তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। সরকার যদি সময়মতো উদ্যোগ নেয় এবং আমদানি ও বাজার তদারকি জোরদার করে তবে সামনের সপ্তাহগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোজ্য তেলের দামে স্বস্তি পেতে পারে।
ডিসক্লেইমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন প্রামাণিক উৎস এবং প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র তথ্য ও সাধারণ আগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত এবং কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। এখানে উল্লিখিত মতামত বিশ্লেষণ বা পূর্বাভাস লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি যা কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যাচাইয়ের জন্য নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্র অনুসরণ করতে। এই প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করে কোনো ধরনের ক্ষতি বা বিভ্রান্তির জন্য দায় গ্রহণ করা হবে না।
