Advertisement
সকালের নাস্তায় কলা শেক কিংবা জিমের পর শক্তি ফিরে পেতে দুধ ও কলার সংমিশ্রণ বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। অনেকেই একে শক্তি ও পুষ্টির ভাণ্ডার মনে করেন। তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান এবং প্রাচীন আয়ুর্বেদ এই সংমিশ্রণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে। যারা নিয়মিত দুধ ও কলা একসাথে খান তাদের জন্য এই বিষয়টি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুধ ও কলার পুষ্টিগুণ
দুধ ও কলা আলাদাভাবে অত্যন্ত উপকারী খাদ্য।
Advertisement
কলা দ্রুত শক্তি জোগায় কারণ এতে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ফাইবার পটাশিয়াম এবং ভিটামিন বি সিক্স।
দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ভিটামিন ডি স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং উচ্চমানের প্রোটিন।
Advertisement
এই কারণেই দুধ ও কলার শেককে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ও শক্তিবর্ধক খাবার হিসেবে ধরা হয় বিশেষ করে কায়িক শ্রমিক ও বডি বিল্ডারদের জন্য।
Advertisement
আধুনিক বিজ্ঞান বনাম আয়ুর্বেদ
এই সংমিশ্রণ নিয়ে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের মতামত
পুষ্টিবিদদের মতে ব্যায়ামের পর দুধ ও কলা একসাথে খেলে পেশি দ্রুত পুনরুদ্ধার হয়। এটি শরীরে গ্লাইকোজেনের ঘাটতি পূরণ করে এবং ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে।
আয়ুর্বেদের দৃষ্টিভঙ্গি
আয়ুর্বেদে দুধ ও কলার সংমিশ্রণকে বিরুদ্ধ আহার বলা হয় অর্থাৎ একে অপরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ খাদ্য।
কলা দ্রুত হজম হয় কিন্তু দুধ হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।
দুটি ভিন্ন প্রকৃতির খাদ্য একসাথে খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
এর ফলে শরীরে টক্সিন তৈরি হতে পারে এবং কফ বা শ্লেষ্মা বৃদ্ধি পেতে পারে।
কারা দুধ ও কলা একসাথে খাবেন না
কিছু ক্ষেত্রে এই সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলাই ভালো।
যাদের হজমের সমস্যা আছে যেমন গ্যাস অম্বল বা আইবিএস।
যারা দুধ হজম করতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে।
যাদের হাঁপানি সাইনাস বা ঘন ঘন সর্দি কাশি হয়।
যারা ওজন কমাতে চান কারণ একটি কলা শেকে প্রায় তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ ক্যালোরি থাকে।
Also read:লন্ডন নয় আপনার কাছেই তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ
দুধ ও কলা খাওয়ার সঠিক উপায়
যারা এই সংমিশ্রণ খেতে চান তারা কিছু নিয়ম মানলে ঝুঁকি কমাতে পারেন।
কলা খাওয়ার পর অন্তত বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট বিরতি দিয়ে দুধ পান করা।
শেকে এলাচ বা দারুচিনি গুঁড়া যোগ করা যাতে হজম সহজ হয়।
দিনের বেলায় বা ব্যায়ামের পর এটি খাওয়া ভালো রাতে শোবার আগে নয়।
উপসংহার
দুধ ও কলা দুটোই পুষ্টিকর হলেও একসাথে সবার জন্য উপযোগী নয়। যাদের হজমশক্তি ভালো এবং শ্লেষ্মাজনিত সমস্যা নেই তারা পরিমিত পরিমাণে এটি গ্রহণ করতে পারেন। তবে কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডিসক্লেইমার
এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত এবং চিকিৎসা পরামর্শ হিসেবে বিবেচিত নয়। এখানে উল্লিখিত মতামত বিশ্লেষণ বা ব্যাখ্যা লেখকের নিজস্ব এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে প্রয়োজনে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে সৃষ্ট কোনো ক্ষতি বা বিভ্রান্তির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
