Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংদুই বছরের ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে এক দাম্পত্য জীবন

দুই বছরের ভালোবাসা আর বিচ্ছেদের দ্বারপ্রান্তে এক দাম্পত্য জীবন

Advertisement

বিয়ে শুধু আইনি বন্ধন নয় এটি বিশ্বাস সম্মান আর আনুগত্যের এক গভীর সম্পর্ক। কিন্তু এই সম্পর্কে যখন তৃতীয় একজন মানুষ প্রবেশ করে নিজেকে নিরীহ সেরা বন্ধু হিসেবে তুলে ধরে তখন অনেক সময় সেই সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়।

আজকের এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চার বছরের প্রেমের পর যাকে বিয়ে করেছিলেন একজন পুরুষ সেই সম্পর্ক মাত্র দুই বছরের মাথায় এসে দাঁড়িয়েছে বিচ্ছেদের মুখে। এই গল্পে এমন কিছু বাস্তব শিক্ষা আছে যা প্রতিটি দম্পতির জানা জরুরি।

Advertisement

সেরা বন্ধুর উপস্থিতি যেভাবে ভালোবাসাকে তিক্ততায় রূপ দিল

এই দম্পতির বিয়ের আগে দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক ছিল। স্ত্রী পেশায় একজন নার্স আর স্বামী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। বিয়ের আগে স্ত্রীর একজন পুরুষ সেরা বন্ধুকে স্বামী খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্বই হয়ে ওঠে দাম্পত্য জীবনের সবচেয়ে বড় সংকট।

Advertisement

সীমাহীন সম্পর্ক আর মিথ্যার শুরু

সমস্যার শুরু হয় একটি ভ্রমণকে কেন্দ্র করে। স্ত্রী জানিয়েছিলেন তিনি নারী বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণে যাচ্ছেন। পরে স্বামী দেখতে পান ট্রেনে তোলা ছবিতে সেই পুরুষ বন্ধুর কাঁধে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছেন তার স্ত্রী। এই একটি মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে স্বামীর বিশ্বাস।

Advertisement

এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন সেই বন্ধু স্ত্রীর জন্য ব্যক্তিগত উপহার দেন যা সামাজিক ও নৈতিকভাবে স্বামীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত বলে ধরা হয়। স্বামী আপত্তি জানালে তাকে বলা হয় বিষাক্ত মানসিকতার মানুষ এবং সেকেলে চিন্তার অধিকারী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর সীমারেখার প্রশ্ন

স্বামী সবচেয়ে বেশি আঘাত পান বিয়ের একটি ভিডিও দেখে। সেখানে দেখা যায় সেই পুরুষ বন্ধু পেছন থেকে স্ত্রীকে তুলে ধরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে হলুদ লাগাচ্ছেন। এই দৃশ্য স্বামীর জন্য ছিল অসম্মানজনক।

স্বামীর ভাষায় স্ত্রীর ফোন থেকে বন্ধুটিকে বার্তা পাঠালে সে যে উত্তর দেয় তা একজন স্বামীর আত্মসম্মানে গভীর আঘাত হানে। এখান থেকেই উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বিয়ের পর বিপরীত লিঙ্গের সেরা বন্ধুর সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠতা কি গ্রহণযোগ্য। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন দাম্পত্য জীবনে স্পষ্ট সীমারেখা না থাকাই অধিকাংশ সমস্যার মূল কারণ।

নিকাহনামা দেনমোহর আর সামাজিক চাপ

এই গল্পের আরেকটি বেদনাদায়ক দিক হলো নিকাহনামার অপব্যবহার। বিচ্ছেদের প্রসঙ্গ উঠতেই স্ত্রী বিদ্রূপ করে বলেন অল্প দেনমোহরের কারণেই হয়তো স্বামী তাকে সস্তা ভাবছেন। এতে বোঝা যায় সম্পর্ক ভাঙলে অর্থকেও অনেক সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

রাগের মাথায় স্বামী দেনমোহরের বেশি অর্থ দেওয়ার কথাও বলেন। কিন্তু ততক্ষণে তার অনুভূতি পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে।

Also read:বিএনপির বড় সিদ্ধান্ত চার নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার

সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে এমন পরিস্থিতিতে কিছু বিষয় অনুসরণ করা জরুরি।
স্বচ্ছতা বজায় রাখা বিশেষ করে অন্য মানুষের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ নিয়ে
বিয়ের পর এমন বন্ধুত্ব থেকে দূরে থাকা যা সম্পর্কে আঘাত করতে পারে
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কাউন্সেলিং গ্রহণ করা যাতে আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত না হয়

উপসংহার

সম্পর্কে বিশ্বাসভঙ্গ শুধু শারীরিক নয় মানসিক বিশ্বাসঘাতকতাও সমান কষ্টদায়ক। স্বামী এক মাস ধরে আলাদা থাকছেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এই দাম্পত্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে তা এখনো অনিশ্চিত।

ডিসক্লেইমার

এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস ও প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র তথ্য ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এখানে উল্লেখিত মতামত বিশ্লেষণ বা ধারণা লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক সূত্র অনুসরণ করতে। এই তথ্যের ওপর নির্ভর করে সৃষ্ট কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত