Advertisement
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে একটি ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা প্রচলিত কালো টাকার রাজনীতির ধারণাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঢাকা ৯ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা নির্বাচনী প্রচারের খরচ চালাতে সাধারণ মানুষের সহায়তা চান। ফলাফল শুধু চমকপ্রদ নয়, বরং ঐতিহাসিক বলেও মনে করছেন অনেকে।
সাত ঘণ্টায় বারো লক্ষ টাকার বেশি অনুদান
মঙ্গলবার ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ভোরে ডা. তাসনিম জারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। তিনি জানান, মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যে সাধারণ মানুষ তার অ্যাকাউন্টে বারো লক্ষ টাকারও বেশি অনুদান পাঠিয়েছেন।
Advertisement
পোস্টে তিনি লেখেন যে মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন তাদের প্রত্যাশার অনেক বাইরে এবং তিনি সবার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।
Advertisement
তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্য ও বর্তমান অবস্থা
ডা. তাসনিম জারা তার প্রচারণার অর্থব্যবহার নিয়ে পূর্ণ স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তহবিল সংগ্রহের বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
Advertisement
| বিষয় | পরিমাণ |
|---|---|
| মোট লক্ষ্যমাত্রা | ৪৬ লক্ষ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা |
| সাত ঘণ্টায় সংগৃহীত | ১২ লক্ষ টাকার বেশি |
| বাকি লক্ষ্যমাত্রা | প্রায় ৩৪ লক্ষ টাকা |
তিনি আরও জানান, রাত দুইটার পর বিকাশের লেনদেন সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় অনুদান পাঠাতে সমস্যা হচ্ছিল। এখন মূলত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে।
পাঁচ ও দশ টাকার অনুদানেই নতুন রাজনীতির সূচনা
ডা. তাসনিম জারা বলেন, এই তহবিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর চরিত্র। অধিকাংশ অনুদান এসেছে খুবই ছোট অঙ্কে, যেমন পাঁচ টাকা, দশ টাকা, পঞ্চাশ টাকা কিংবা একশ টাকা।
একজন শিক্ষার্থী তাকে বার্তায় লিখেছেন যে তিনি একজন ছাত্র, তাই যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকুই দিচ্ছেন। এই ঘটনাই প্রমাণ করে সাধারণ মানুষ রাজনীতিতে কালো টাকা ও বড় পুঁজির প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে চায়।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি
যেখানে রাজনীতিতে দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহার একটি পরিচিত শব্দ, সেখানে ডা. তাসনিম জারা ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে সংগৃহীত প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এই অর্থ শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহার করা হবে এবং পরে বিস্তারিত ব্যয় বিবরণী প্রকাশ করা হবে।
প্রচলিত রাজনীতি ও জনগণের রাজনীতির তুলনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রচারণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিচের তুলনামূলক চিত্রটি বিষয়টি স্পষ্ট করে।
| বিষয় | প্রচলিত রাজনীতি | তাসনিম জারার প্রচারণা |
|---|---|---|
| অর্থের উৎস | বড় পুঁজিপতি ও কালো টাকা | সাধারণ মানুষ |
| জবাবদিহি | দলীয় নেতৃত্বের কাছে | সরাসরি জনগণের কাছে |
| ব্যয় পদ্ধতি | অস্বচ্ছ ও অতিরিক্ত | স্বচ্ছ ও প্রয়োজনভিত্তিক |
Also read:মাধুরী দীক্ষিত কেন সালমান খানকে দুষ্টু ও বিরক্তিকর বললেন
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডা. তাসনিম জারা কে
তিনি একজন পরিচিত চিকিৎসক এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব। তিনি ঢাকা ৯ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিনি কেন জনগণের কাছে অর্থ সহায়তা চেয়েছেন
বড় ব্যবসায়ী ও ধনী দাতাদের প্রভাবমুক্ত রাজনীতি গড়ে তুলতেই তিনি সাধারণ মানুষের সহায়তা চান।
অনুদান দেওয়ার সুযোগ কি এখনও রয়েছে
হ্যাঁ, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলে তা বন্ধ করা হবে।
উপসংহার
ডা. তাসনিম জারার সাত ঘণ্টার তহবিল সংগ্রহ প্রমাণ করে দিয়েছে যে জনগণের আস্থা থাকলে রাজনীতিতে অংশ নিতে কোটিপতি হওয়া জরুরি নয়। এই উদ্যোগ শুধু ঢাকার জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির জন্য একটি আশার দৃষ্টান্ত হতে পারে।
ডিসক্লেইমার
এই প্রতিবেদনটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র ও প্রকাশ্যে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি শুধুমাত্র তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এখানে দেওয়া মতামত ও বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সঙ্গে তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের অনুরোধ করা হচ্ছে প্রয়োজন অনুযায়ী অফিসিয়াল ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করার জন্য।
