Friday, January 2, 2026
Homeফোটোগ্যালারিখাওয়ার পর এই চারটি কাজ করুন আর চর্বি কমিয়ে ফেলুন ডাক্তাররা সাধারণত...

খাওয়ার পর এই চারটি কাজ করুন আর চর্বি কমিয়ে ফেলুন ডাক্তাররা সাধারণত যে জাদুকরী পদ্ধতির কথা বলেন না

Advertisement

আজকের দ্রুতগতির বিশ্বে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যায়ামের অভাবের কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের ওজন বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে একবার ওজন বেড়ে গেলে তা কমানো সবসময় সহজ হয় না। তবে আপনি আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন এনে কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং হ্রাস করতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে ওজন কমানো কেবল আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপর নির্ভর করে না বরং খাওয়ার পর আপনি কী করছেন তার ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। রাতের খাবারের পরের অভ্যাসগুলো আপনার বিপাক বা মেটাবলিজম বাড়ানো বা কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১. রাতের খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করা

মানুষের ওজন বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো রাতের খাবার খেয়েই সাথে সাথে বিছানায় শুয়ে পড়া। বিশেষজ্ঞদের মতে খাওয়ার পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে তা হজমে অনেক সাহায্য করে।

Advertisement

রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখা হাঁটা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে।

Advertisement

সতর্কতা খাওয়ার ঠিক পরেই ভারী ব্যায়াম করবেন না কারণ এটি আপনার হজম প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

Advertisement

২. ভেষজ বা গ্রিন টি পান করা

রাতের খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট পর এক কাপ গ্রিন টি বা ভেষজ চা যেমন মৌরি বা আদা চা পান করলে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিপাক প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এটি গভীর রাতে মিষ্টি বা নোনতা খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমিয়ে দেয় যা আপনাকে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ থেকে বিরত রাখে।

৩. মানসিক স্ট্রেস বা চাপ কমানো

আপনি কি জানেন যে মানসিক চাপ আপনার অজান্তেই ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে? আপনি যখন চাপে থাকেন তখন আপনার শরীরে কর্টিসল নামক একটি হরমোন তৈরি হয় যা শরীরকে চর্বি বিশেষ করে পেটের চর্বি জমা করতে নির্দেশ দেয়।

সমাধান ঘুমানোর আগে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান করা।

উপকারিতা একটি শান্ত মন আপনাকে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করে এবং আপনার শরীরকে ওজন কমানোর জন্য উপযুক্ত করে তোলে।

৪. গভীর ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ঘুমের গুরুত্ব আপনি কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারেন না। সুস্থ থাকার জন্য প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

হরমোনের ভারসাম্য যখন আপনি পর্যাপ্ত ঘুমান না তখন আপনার ক্ষুধার হরমোনগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে যা আপনাকে পরের দিন অতিরিক্ত খাবার খেতে বাধ্য করে।

পরামর্শ ভালো ঘুমের জন্য রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর অভ্যাস করুন এবং ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করুন।

also read:২৭ ডিসেম্বর শনিবার কেন ব্যাংক খোলা থাকবে নির্বাচনের আগের এই সিদ্ধান্তে সবাই অবাক

ওজন কমানোর বিস্তৃত পরিকল্পনা অভ্যাস ও প্রভাব

অভ্যাসের উপযুক্ত সময়প্রভাব
খাওয়ার ৫ থেকে ১০ মিনিট পরহজমে সাহায্য করে এবং ক্যালরি পোড়ায়
ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগেশরীরকে দ্রুত চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে
ঘুমানোর আগেমন শান্ত করে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে
রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের টিস্যু মেরামত করে

সাধারণ জিজ্ঞাসা এবং উত্তর

১ গ্রিন টিতে কি চিনি দেওয়া যাবে?

আপনি যদি ওজন কমাতে চান তবে চিনি বা মধু ছাড়া গ্রিন টি পান করা সবচেয়ে ভালো।

২ গভীর রাতে খাবার খেলে কি ওজন বাড়ে?

হ্যাঁ ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা উচিত যাতে আপনার শরীর খাবার হজম করার পর্যাপ্ত সময় পায়।

৩ খাওয়ার পর হাঁটার গতি কেমন হওয়া উচিত?

এটি খুব ধীর গতিতে হওয়া উচিত। খাওয়ার পর দ্রুত হাঁটা বা পাওয়ার ওয়াক করার প্রয়োজন নেই।

সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত

ওজন কমানো মানেই কেবল জিমে যাওয়া বা কঠোর ডায়েট অনুসরণ করা নয়। রাতের খাবারের পর এই চারটি সহজ পদক্ষেপ আপনার জীবন বদলে দিতে পারে। মনে রাখবেন ছোট ছোট পদক্ষেপই বড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়।

আপনি আজ রাত থেকে কোন অভ্যাসটি শুরু করতে চান? ওজন কমানোর জন্য আপনার কি নিজস্ব কোনো পরীক্ষিত পদ্ধতি আছে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং এই দরকারী প্রতিবেদনটি আপনার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

সতর্কবার্তা

এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিসিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত