Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংগাজীপুরে নৃশংসতা স্ত্রীকে হত্যার পর শ্বশুরকে ফোন করে লাশ নিয়ে যেতে বলল...

গাজীপুরে নৃশংসতা স্ত্রীকে হত্যার পর শ্বশুরকে ফোন করে লাশ নিয়ে যেতে বলল পাষণ্ড স্বামী

Advertisement

বাংলাদেশের শিল্পনগরী গাজীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিটি অপরাধ করার পর তার শ্বশুরকে ফোন করে জানিয়ে দেয় যে তিনি যেন এসে তার মেয়ের লাশ নিয়ে যান। শুক্রবার পুলিশ একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে কিন্তু অভিযুক্ত স্বামী এখনো পলাতক রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত মরদেহ উদ্ধার

গাজীপুরের বাসন থানার অন্তর্গত চান্দনা গ্রামে রমিজ আলীর মালিকানাধীন একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Advertisement

নিহত মান্তুরা আক্তার বা মানসুরা আক্তার সুমা ২৮ বছর বয়সী এক নারী যিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

Advertisement

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন ৩০ বছর বয়সী জালালউদ্দিন ডলু যার বাড়ি রংপুরে।

Advertisement

পটভূমি তারা দুজনেই ইউরোটেক্স বিডি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন এবং একটি ভাড়া ঘরে একসাথে থাকতেন।

শ্বশুরের কাছে সেই ভয়ংকর ফোন আমি ওকে মেরে ফেলেছি

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের মতে এই দম্পতির মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বৃহস্পতিবার রাতে তারা ডিউটি থেকে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তবে শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে জালালউদ্দিন তার শ্বশুরকে ফোন করে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বলে

আমি সুমাকে মেরে ফেলেছি। এখন বাড়িতে এসে ওর লাশ নিয়ে যান।

ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে নিহতের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান এবং আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া দেখতে পান।

পুলিশি পদক্ষেপ এবং আইনি তথ্য

বাসন থানার ওসি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ নিশ্চিত করেছেন যে পুলিশ তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং বিছানার ওপর কম্বল দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

আইনি তথ্যাবলি

ময়নাতদন্ত মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মৃত্যুর কারণ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা পারিবারিক কলহের জেরে শ্বাসরোধ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

মৃত্যুর সময় ধারণা করা হচ্ছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল সাতটার মধ্যে এই অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতার প্রবণতা গাজীপুর প্রেক্ষাপট

শিল্পাঞ্চলগুলোতে পারিবারিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা নিয়ে সমাজবিজ্ঞানীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিভাগবিবরণপ্রভাব
ভিকটিম প্রোফাইলমূলত কর্মজীবী নারী (গার্মেন্টস কর্মী)অর্থনৈতিক বোঝা এবং মানসিক চাপ
প্রাথমিক কারণপারিবারিক কলহ এবং আর্থিক সমস্যাপারিবারিক কাঠামোর ধ্বংস
আইনি অবস্থা৩০২ ধারায় মামলা দায়েরঅভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে বিলম্ব

সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা এবং উত্তর

১ অভিযুক্ত জালালউদ্দিন কি গ্রেপ্তার হয়েছে?

না জালালউদ্দিন বর্তমানে পলাতক রয়েছে। তাকে ধরার জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

২ নিহত সুমার বাড়ি কোথায় ছিল?

নিহত মানসুরা আক্তার সুমা ময়মনসিংহের বাসিন্দা ছিলেন।

৩ ঝগড়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল কি?

দম্পতিটি প্রায়ই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঝগড়া করত বলে জানা গেছে তবে হত্যার সঠিক কারণ এখনো তদন্তাধীন।

also read:মালতী চাহারের বিস্ফোরক তথ্য ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অন্ধকার রহস্য যা সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে

সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত

গাজীপুরের এই ট্র্যাজেডি সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার এক ভয়াবহ প্রতিফলন। নিজের ঘরে একজন কঠোর পরিশ্রমী নারীর এই হত্যাকাণ্ড আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আপনার মতে পারিবারিক সহিংসতা রোধে সামাজিকভাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? এই ধরনের অপরাধীদের কি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন? আপনার চিন্তাভাবনা কমেন্টে জানান এবং সচেতনতা বাড়াতে এই পোস্টটি শেয়ার করুন।

সতর্কবার্তা

এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিসিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত