Advertisement
বাংলাদেশে সরকারি কর্মচারীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের পর কর্মচারী সংগঠনগুলো অবশেষে নবম পে-স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে নিয়মিত আন্দোলন শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ শুক্রবার ২৬শে ডিসেম্বর বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে যেখানে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ এবং কৌশল ঘোষণা করা হবে। উল্লেখ্য যে এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সংগঠনগুলো তাদের কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল।
আন্দোলনের সময়সূচী নতুন বছরের শুরু থেকেই রাজপথে নামার প্রস্তুতি
কর্মচারী সংগঠনগুলোর সূত্রমতে সরকার যদি অবিলম্বে পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন শুরু হবে।
Advertisement
প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচি
Advertisement
প্রতীকী অনশন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শুরুতে অনশন কর্মসূচি পালন করা হবে।
Advertisement
বিক্ষোভ ও সমাবেশ জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
দৈনিক কর্মবিরতি সরকারি অফিসগুলোতে প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টার প্রতীকী ধর্মঘট বা কাজ বন্ধ রাখা হবে।
মহাসমাবেশ রাজধানীতে সকল কর্মচারীদের নিয়ে একটি বিশাল মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।
শৃঙ্খলা রক্ষা আমরা রাষ্ট্রের বিদ্রোহী নই
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ এবং অন্যান্য জোট স্পষ্ট করেছে যে তারা কোনো অবস্থাতেই রাষ্ট্রের কাজের ক্ষতি করতে চায় না। তারা সার্ভিস রুলস বা চাকরির বিধিমালা লঙ্ঘন করবে না।
সংগঠনের নেতারা বলছেন আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী এবং আমাদের প্রতিবাদ হবে আইনের সীমার মধ্যে। আমরা শৃঙ্খলা বজায় রেখে আমাদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলব। এই বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারকে আশ্বস্ত করা যে কর্মচারীরা বিশৃঙ্খলা নয় বরং তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা চাচ্ছেন।
পে-কমিশন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান
কর্মচারীদের উদ্বেগের প্রধান কারণ হলো পে-কমিশনের মন্থর গতি এবং সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য।
জুলাই ২০২৪ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধা এবং বেতনের বৈষম্য দূর করতে পে-কমিশন গঠন করেছিল।
৬ মাসের সময়সীমা কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নভেম্বরের বড় ঘোষণা অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন যে নতুন পে-স্কেল সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচিত সরকার গ্রহণ করবে। এই ঘোষণায় কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা সৃষ্টি হয়েছে কারণ বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির বাজারে নতুন সরকারের জন্য অপেক্ষা করা তাদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
also read:বিএনপি-তে বড় ধাক্কা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পদত্যাগ ও স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা
বেতন বৈষম্য এবং মুদ্রাস্ফীতির তুলনামূলক চিত্র
সরকারি কর্মচারীদের দাবিগুলো নিচের অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তুলে ধরা হলো
| উপাদান | বর্তমান পরিস্থিতি | কর্মচারীদের দাবি |
| সর্বশেষ পে-স্কেল | ২০১৫ (অষ্টম পে-স্কেল) | অবিলম্বে নবম পে-স্কেল |
| মুদ্রাস্ফীতির হার | রেকর্ড ১০ শতাংশের বেশি | মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতি রেখে বেতন বৃদ্ধি |
| বেতনের ব্যবধান | উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থদের মধ্যে বিশাল পার্থক্য | বৈষম্য দূরীকরণ ও সুযোগ সুবিধার সুষম বণ্টন |
| পেনশন সুবিধা | সীমিত সুযোগ সুবিধা | অবসরপ্রাপ্তদের জন্য উন্নত প্যাকেজ |
সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর
১ আজ কি কোনো ধর্মঘট আছে?
না আজ শুধুমাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি এবং ভবিষ্যৎ কৌশল ঘোষণা করা হবে।
২ সরকার কেন নতুন পে-স্কেল দিচ্ছে না?
সরকারের অবস্থান হলো দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় কোনো আর্থিক সিদ্ধান্তের বোঝা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের নেওয়া উচিত।
৩ কর্মচারীদের প্রধান দাবি কী?
কর্মচারীদের দাবি হলো পে-কমিশনকে অবিলম্বে রিপোর্ট জমা দিতে হবে এবং মুদ্রাস্ফীতির সাথে তাল মিলিয়ে বেতন বাড়াতে হবে।
সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত
সরকারি কর্মচারীদের এই আন্দোলন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। একদিকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অন্যদিকে লাখ লাখ কর্মচারীর জীবন বাঁচানোর প্রশ্ন। আপনি কি মনে করেন বর্তমান মুদ্রাস্ফীতিতে নতুন পে-স্কেলের দাবি যৌক্তিক? সরকারের কি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নাকি এখনই জরুরি ভিত্তিতে কোনো ত্রাণ বা সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং এই খবরটি শেয়ার করুন।
সতর্কবার্তা
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিসিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।
