Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংপ্রতিহিংসা না কি উন্মাদনা সৌদি ফেরত প্রেমিকের হাতে খুন সাবেক প্রেমিক প্রেমকে...

প্রতিহিংসা না কি উন্মাদনা সৌদি ফেরত প্রেমিকের হাতে খুন সাবেক প্রেমিক প্রেমকে খুনে রূপান্তরকারী সেই গোপন রহস্য

Advertisement

ভালোবাসা বিশ্বাসভঙ্গ এবং প্রতিহিংসার এক লোমহর্ষক কাহিনী নারায়ণগঞ্জ থেকে সামনে এসেছে যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আল আদিয়াত সায়ের নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক প্রেমিকা এবং সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা তার বর্তমান প্রেমিকের যোগসাজশে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে এবং প্রধান নারী সন্দেহভাজন ও সৌদি প্রবাসী প্রেমিকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

খুনের নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত ছবি এবং ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত বিরোধ

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী ভুক্তভোগী আল আদিয়াত সায়ের এবং প্রধান অভিযুক্ত তাসলিমা আক্তারের (১৮) মধ্যে আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সময়ে সায়ের তাসলিমার কিছু ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি গোপনে সংরক্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে তা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement

পরবর্তীতে তাসলিমা সৌদি আরবে বসবাসরত আরাফাত হোসেনের সাথে নতুন সম্পর্কে জড়ান। আরাফাত যখন এই ছবি ছড়িয়ে পড়ার কথা জানতে পারেন তখন তিনি তাসলিমাকে শান্ত থাকতে বলেন এবং আশ্বস্ত করেন যে তিনি দ্রুত দেশে ফিরে বিষয়টি দেখে নেবেন। এরপরই মূলত খুনের পরিকল্পনাটি সাজানো হয় বলে অভিযোগ।

Advertisement

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাক্রম প্রেমের ফাঁদ থেকে নৃশংস হত্যা পর্যন্ত

প্রযুক্তি এবং গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে ডিবি (ওয়ারী বিভাগ) পুরো ঘটনার ক্রমবিন্যাস পুনর্গঠন করেছে।

২ নভেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত হোসেন সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে পৌঁছান।

৩ নভেম্বর তাসলিমা আক্তার বেড়াতে যাওয়ার বাহানায় সায়েরকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় ডেকে আনেন।

মৃত্যুর পথে যাত্রা সেখান থেকে তারা গাজীপুরের উলুখোলায় যান যেখানে রাকিব নামে একজন ইজিবাইক চালক এবং অন্যান্য সহযোগীরা আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল।

নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পুবাইল থানার অধীনে বন্ধন রোডে ইজিবাইকের ভেতরে আরাফাত ও রাকিব মিলে সায়েরের গলা টিপে ধরেন এবং অন্য চারজন তার হাত পা চেপে ধরেন। সায়েরের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা তার মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

পুলিশি ব্যবস্থা এবং গ্রেপ্তার

ভুক্তভোগীর বাবা মিজানুর রহমানের করা আবেদনের ভিত্তিতে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। ২৬ নভেম্বর তদন্তের দায়িত্ব পায় ডিবি ওয়ারী বিভাগ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন

১ তাসলিমা আক্তার ভুক্তভোগীর সাবেক প্রেমিকা

২ আরাফাত হোসেন প্রধান অভিযুক্ত ও সৌদি প্রবাসী

৩ মো সাাকিব খান

৪ নাঈন মিয়া

৫ নূর জামান শিমুল

৬ রাকিব মিয়া ইজিবাইক চালক

পুলিশ অপরাধে ব্যবহৃত ইজিবাইকটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

রমজানের আগেই কি সব শেষ চাল ও চিনির দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ সোশ্যাল মিডিয়া এবং যুব সমাজ

মনোবিজ্ঞানীদের মতে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় খুনের মতো ঘটনা ঘটানো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসহিষ্ণুতা ও আইনি সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন ঘটায়। পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে ডিজিটাল গোপনীয়তা এবং অনলাইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রজন্মকে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যসারসংক্ষেপ

বিষয়ের নামবিস্তারিত তথ্য
ভুক্তভোগীআল আদিয়াত সায়ের (১৭)
প্রধান অভিযুক্তআরাফাত হোসেন ও তাসলিমা আক্তার
হত্যাকাণ্ডের স্থানপুবাইল গাজীপুর
তদন্তকারী সংস্থাডিবি ওয়ারী বিভাগ

সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা ও উত্তর

১ সায়ের কি অভিযুক্তকে ব্ল্যাকমেইল করছিলেন?

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে সায়ের ছবি শেয়ার করেছিলেন যা অভিযুক্তদের প্রতিহিংসাপরায়ণ করে তোলে এবং তারা সায়েরকে ফাঁদে ফেলে হত্যা করে।

২ অভিযুক্তদের কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

পুলিশ ফতুল্লা ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সকল সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

৩ প্রধান অভিযুক্ত কি আবারো পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন?

হ্যাঁ আরাফাত হোসেন আবারো আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ তাকে আটক করে।

সারসংক্ষেপ এবং আপনার মতামত

সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিজিটাল সম্পর্ককে যারা খেলা হিসেবে মনে করে তাদের জন্য এই ঘটনাটি একটি কঠোর সতর্কবার্তা।

আপনার কি মনে হয় আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যারা ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল? আপনার মতামত কমেন্টে জানান এবং সত্য সংবাদের সাথে থাকতে আমাদের অনুসরণ করুন।

সতর্কবার্তা

এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্য ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। সংবাদের মতামত বা বিশ্লেষণ লেখকের ব্যক্তিগত এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। সময়ের সাথে সাথে তথ্যের পরিবর্তন হতে পারে তাই যাচাইয়ের জন্য পাঠকদের অফিশিয়াল উৎসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই সংবাদের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা ক্ষতির জন্য দায় স্বীকার করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত