Advertisement
বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে পুলিশের জন্য দেশের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন নিরাপত্তা অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২4 সালের জুলাই–আগস্টের সহিংস বিদ্রোহের পর এখনো ১,৩৬৮টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২,৫৭,০০০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা যায়নি। এ কারণে পুলিশ তাদের কৌশল পরিবর্তন করেছে। প্রচলিত অভিযানের পরিবর্তে এবার গোয়েন্দা-তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হবে, যাতে সশস্ত্র সহিংসতা, নাশকতা কিংবা ভ্রান্ত কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা যায়।
এ পরিবর্তন সরকারের শান্তি বজায় রাখা, নির্বাচন সুরক্ষিত রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বকে প্রকাশ করে।
Advertisement
কেন গোয়েন্দা-তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান গুরুত্বপূর্ণ
এই বছরের কৌশল পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল। তখন “কম্বিং অপারেশন” করে বিস্তৃত এলাকায় তল্লাশি চালানো হতো।
Advertisement
পুলিশ সদর দপ্তরের এক ডিআইজি বলেন—
“আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাব। পরিকল্পনা ও বিশ্লেষণ চলছে। সরকার থেকে অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করব।”
Advertisement
এভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি না করেই দ্রুত হুমকির জবাব দেওয়া সম্ভব হবে।
চুরি হওয়া অস্ত্রের ভয়াবহতা
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বড় ধরনের নিরাপত্তা ফাঁক তৈরি হয়। বিক্ষোভকারীরা থানায় ও আউটপোস্টে হামলা চালিয়ে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র লুট করে।
২০২৪ সালের বিদ্রোহে লুট হওয়া অস্ত্র ও সরঞ্জাম:
- ৫,৭৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র
- ৬,৫১,৮৩২ রাউন্ড গুলি
- ৩২,০০৫ টিয়ারশেল
- ১,৪৫৫ টিয়ারগ্যাস গ্রেনেড
- ৪,৬৯২ সাউন্ড বোমা
- ২৯০ স্মোক গ্রেনেড
- ৫৫ স্টান বোমা
- ৮৯৩ মাল্টিপল স্টান গ্রেনেড
- ১৭৭ টিয়ারগ্যাস ক্যানিস্টার
পুলিশ এখন পর্যন্ত ৪,৩৯৫টি অস্ত্র এবং প্রায় ৩,৯৪,১১৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। তবে অবশিষ্ট অস্ত্র এখনো জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
Also Read:মাত্র এক মাসে বাংলাদেশের শারিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকগুলিতে আমানতের পরিমাণ ৮,০০০ কোটি টাকার বেশি বেড়েছে
অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা
জনগণকে সহযোগিতায় উদ্বুদ্ধ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বড় অঙ্কের নগদ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে:
- প্রতিটি এলএমজি’র জন্য ৫ লক্ষ টাকা
- প্রতিটি চাইনিজ রাইফেল বা এসএমজি’র জন্য ১ লক্ষ টাকা
- প্রতিটি শটগান বা পিস্তলের জন্য ৫০ হাজার টাকা
- প্রতিটি গুলির জন্য ৫০০ টাকা
তবুও নতুন করে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্ধার হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংগঠিত গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র মজুত করে রেখেছে, যা নির্বাচনের সময় ব্যবহার হতে পারে।
নজিরবিহীন পরিস্থিতির প্রস্তুতি
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলো এসব অস্ত্র দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখানো, ভোটগ্রহণ ব্যাহত করা বা সহিংসতা ঘটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য—
- পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে।
- ২০২৪ সালের হামলায় জড়িত নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত আছে।
- সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিকল্পিতভাবে হুমকি নিরসন করতে চায়, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে এই নির্বাচন ভিন্ন কেন
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র লুট হয়েছে।
- ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
- রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠীগুলো গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করে নতুন ধরনের নাশকতার কৌশল নিচ্ছে।
তাই গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান এখন আর বিকল্প নয়; বরং অপরিহার্য।
জনগণের করণীয়
- কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে।
- গুজব বা আতঙ্ক ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অস্ত্রের অপব্যবহার ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জনগণের সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচনকে নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করা সম্ভব নয়।
গণতন্ত্রের পরীক্ষা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের স্থায়িত্বেরও পরীক্ষা। হাজারো অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। গণতন্ত্র শান্তিপূর্ণভাবে চলবে নাকি সহিংসতায় ব্যাহত হবে—তা নির্ভর করছে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানের সাফল্যের ওপর।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরস্কার কর্মসূচি এবং পুলিশের কৌশলগত অভিযান গণতন্ত্র রক্ষায় সাহসী পদক্ষেপ।
আহ্বান
আপনার মতে, নির্বাচনী নিরাপত্তায় গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান কতটা কার্যকর হবে? অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা কি মানুষকে সহযোগিতায় উৎসাহিত করবে? নিচে আপনার মন্তব্য দিন।
