Advertisement
গত এক দশক ধরে গৃহযুদ্ধের আগুনে পুড়তে থাকা ইয়েমেন এখন এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে দেশটি দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দক্ষিণের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (STC) দক্ষিণ আরব নামে একটি নতুন স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে যখন এই অঞ্চলে সামরিক অভিযান এবং কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এএফপির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
Advertisement
বিমান হামলা এবং সামরিক অভিযানের তীব্রতা বৃদ্ধি
দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রযাত্রার প্রতিক্রিয়ায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে। চিকিৎসা ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
Advertisement
হাদরামাউত অঞ্চল: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাদরামাউত এলাকার দুটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যেখানে বেশ কয়েকজন STC যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
Advertisement
স্থাপনার ওপর হামলা: বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অগ্রগতি রুখতে একটি বিমানবন্দর এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সম্প্রতি দখল করা দুই প্রদেশ থেকে সরে না আসা পর্যন্ত আকাশপথে অভিযান বন্ধ হবে না।
দক্ষিণ আরব: আইদারাস আল জুবাইদির পরিকল্পনা কী
এসটিসি সভাপতি আইদারাস আল জুবাইদি তার সাম্প্রতিক বিবৃতিতে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন। তার মতে পূর্ণ স্বাধীনতার আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় থাকবে যার মধ্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া হবে:
আলোচনা: বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া নিয়ে উত্তর ইয়েমেনের সাথে আলোচনা করা।
গণভোট: দক্ষিণ ইয়েমেনের জনগণের ইচ্ছা নির্ধারণের জন্য একটি গণভোটের আয়োজন করা।
সতর্কবাণী: আল জুবাইদি সতর্ক করেছেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে বা দক্ষিণে আবার আক্রমণ করা হলে এসটিসি অবিলম্বে এবং একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।
উল্লেখ্য যে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন উত্তর এবং দক্ষিণ এই দুই পৃথক রাষ্ট্রে বিভক্ত ছিল। তিন দশক পর ইতিহাস এখন আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করার দ্বারপ্রান্তে।
Also read:কিয়ান নাসিরি এবং মাহিরা সিং এক হলেন: ৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিয়ের প্রথম ছবি ভাইরাল
সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা
বিশ্লেষকরা বলছেন যে ইয়েমেন সংকট এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয় বরং এটি সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের প্রতিফলন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিচে দুই পক্ষের অবস্থানের একটি তুলনা দেওয়া হলো:
| সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান | সৌদি আরবের উদ্বেগ |
| তারা দাবি করে যে তারা সব সৈন্য প্রত্যাহার করেছে | ইয়েমেনের বিভাজন আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াবে বলে মনে করে |
| সংলাপের মাধ্যমে শান্তির কথা বলে তবে এসটিসিকে সমর্থন দেয় | উত্তর ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হওয়ার ভয় পায় |
সচরাচর জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী
১. ইয়েমেনের ভেঙে যাওয়া কি এখন অনিবার্য?
যদিও এসটিসি ঘোষণা দিয়েছে তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং সৌদি আরব এখনও ইয়েমেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতা সমর্থন করে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিভাজনের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২. দক্ষিণ আরব সৃষ্টি সাধারণ মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলবে?
গৃহযুদ্ধ ইতিমধ্যে ইয়েমেনকে একটি মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। নতুন উত্তেজনা বাস্তুচ্যুতি এবং খাদ্য সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৩. হুথিরা কি এই পরিস্থিতি থেকে লাভবান হবে?
হ্যাঁ বিশ্লেষকদের মতে দক্ষিণের অভ্যন্তরীণ সংঘাত উত্তর ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে পারে।
মতামত
ইয়েমেনের এই বিভাজন কি অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে নাকি এটি একটি নতুন এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সূচনা করবে? মধ্যপ্রাচ্য কি আরও একটি নতুন রাষ্ট্রের বোঝা বইতে প্রস্তুত?
কমেন্টে আপনার চিন্তাভাবনা শেয়ার করুন এবং এই গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবেদনটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।
দাবিত্যাগ
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সরবরাহকৃত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা কোনো চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। সংবাদের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং এটি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য অফিসিয়াল বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সহায়তা নিতে অনুরোধ করা হচ্ছে। এই সংবাদের বিষয়বস্তুর উপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
