Advertisement
ক্রমবর্ধমান শীত এবং ঘন কুয়াশা কেবল জনজীবনের গতিই কমিয়ে দেয়নি, বরং সরাসরি মানুষের পকেটেও প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর নিউ মার্কেট ও রাও বাজারসহ প্রধান বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে যে, সরবরাহ সংকটের কারণে সবজি, মাছ এবং মুরগির দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তাপমাত্রা হ্রাসের সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রান্নাঘরের খরচ। সবজি বিক্রেতাদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় প্রতি কেজি সবজির দাম ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
Advertisement
সবজি বাজারের চিত্র: শীতকালীন সবজি এখন অগ্নিমূল্য
সাধারণত শীতকালে সবজির দাম কম থাকে, কিন্তু এ বছর ঘন কুয়াশার কারণে পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পাইকারি বাজারে সবজির আমদানি কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম আকাশচুম্বী।
Advertisement
সবজির বর্তমান বাজারদর (প্রতি কেজি):
Advertisement
- বেগুন: ৮০ থেকে ১০০ টাকা (গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা)
- শিম: ৬০ টাকা (গত সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা)
- টমেটো: ৮০ থেকে ১০০ টাকা
- স্থানীয় শসা: ১২০ টাকা
- ফুলকপি ও বাঁধাকপি: ৪০ থেকে ৫০ টাকা (প্রতি পিস)
ভোক্তাদের জন্য একমাত্র স্বস্তির খবর হলো পেঁয়াজের দাম হ্রাস। নতুন স্থানীয় পেঁয়াজ এখন ৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে, আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়।
মাছ ও মুরগি: প্রোটিন এখন সাধারণের নাগালের বাইরে
শীতকালে মাছের চাহিদা বাড়ে, কিন্তু এ মৌসুমে প্রতি কেজিতে দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন।
মাছের বাজারদর:
- রুই (মাঝারি): ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি
- পাঙ্গাস: ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি
- চিংড়ি: ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি
- ইলিশ (পদ্মা, ৪০০ গ্রাম ওজন): ১,২০০ টাকা কেজি
মুরগি ও মাংসের দাম:
মুরগির মাংসও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি যা গত সপ্তাহে ১৫০ টাকা ছিল, তা এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
- গরুর মাংস: ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি
- খাসির মাংস: ১,১০০ টাকা কেজি
- ডিম: ১০০ থেকে ১১০ টাকা ডজন
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া
বেসরকারি চাকরিজীবী রকিব হাসান কেনাকাটার সময় তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“ভরা মৌসুমেও যদি সবজির দাম এভাবে বাড়তে থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে বাঁচবে? আমরা ভেবেছিলাম নতুন সরকার বাজার মনিটর করবে, কিন্তু পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। মনে হচ্ছে সরকার কেবল ব্যবসায়ীদের স্বার্থে কাজ করছে।”
অন্যদিকে রাও বাজারের ব্যবসায়ী নাঈম বেপারি বলেন:
“মূল্যবৃদ্ধি আমাদের ইচ্ছায় হয়নি, বরং ঘন কুয়াশার কারণে সরবরাহ কমে গেছে। আবহাওয়া উন্নত হলেই দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
Also read:হাদি হত্যাকাণ্ড: ডিবির তথ্যে স্তব্ধ জাতি! কে সেই ব্যক্তি যিনি খুনের নির্দেশ দিয়েছিলেন?
দামের তুলনামূলক চিত্র
| পণ্য | গত সপ্তাহ (টাকা) | বর্তমান দাম (টাকা) | বৃদ্ধি |
| ব্রয়লার মুরগি | ১৫০ থেকে ১৬০ | ১৭০ থেকে ১৮০ | +২০ |
| বেগুন | ৪০ থেকে ৬০ | ৮০ থেকে ১০০ | +৪০ |
| পাঙ্গাস মাছ | ১৮০ | ২২০ | +৪০ |
| পেঁয়াজ (দেশি) | ৬০ | ৫০ | ১০ (হ্রাস) |
বিশ্লেষণ: এটি কি কৃত্রিম মুদ্রাস্ফীতি?
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আবহাওয়া ও কুয়াশা বড় কারণ হলেও বাজার মনিটরিংয়ের অভাবও দাম বাড়ার পেছনে দায়ী। মজুতদাররা প্রায়ই এ ধরনের পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে দেয়। সরকারের উচিত বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা এবং কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা উন্নত করা যাতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
১. সবজির দাম কবে কমবে?
ব্যবসায়ীদের মতে, কুয়াশা কমলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমতে পারে।
২. ডিমের দাম কি আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে?
শীতকাল চলায় ডিমের উচ্চ চাহিদা থাকে, তাই আপাতত দাম কমার সম্ভাবনা কম।
৩. পেঁয়াজের দাম কি আরও কমবে?
হ্যাঁ, নতুন পেঁয়াজ বাজারে পুরোপুরি চলে এলে দাম আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আপনার মতামত কী?
আপনার এলাকায় কি সবজি ও মাছের দাম বেড়েছে? এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য আপনি কাকে দায়ী করেন?
আপনার মূল্যবান মন্তব্য নিচে জানান এবং প্রতিদিনের বাজার আপডেট পেতে এই প্রতিবেদনটি শেয়ার করুন।
ডিসক্লেইমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা একটি চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত, বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য অফিসিয়াল বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সহায়তা নেওয়া উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
