Tuesday, March 3, 2026
Homeখবররমজানের আগে মূল্যস্ফীতির পরমাণু বোমা! চাল, ডাল এবং মুরগি সাধারণ মানুষের নাগালের...

রমজানের আগে মূল্যস্ফীতির পরমাণু বোমা! চাল, ডাল এবং মুরগি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে; গরিব কোথায় যাবে?

Advertisement

রমজান আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ইতিধ্যেই আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী বাজারে নতুন চালের সরবরাহ থাকলেও পুরনো চালের দাম উল্টো বেড়েছে। চালের পাশাপাশি ডাল, চিনি এবং মুরগির দামও সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

১৭ জানুয়ারি ২০২৬ শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে যে গত ১০ থেকে ১৫ দিনে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

চালের দাম: নতুন ফসল আসার পরেও কমেনি স্বস্তি

বাজারে আমন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করলেও অবাক করার মতো বিষয় হলো পুরনো চালের দাম প্রতি কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে।

Advertisement

বিভিন্ন জাতের চালের দাম:

Advertisement

মাঝারি মানের চাল (বিআর-২৮, বিআর-২৯):

নতুন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় যেখানে পুরনো চালের দাম ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি।

মিনিকেট চাল:

জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম বেড়ে ৮৩ থেকে ৮৪ টাকা হয়েছে যা কয়েকদিন আগেও ৩ থেকে ৪ টাকা কম ছিল।

নাজিরশাইল চাল:

দেশি নাজিরশাইল ৭২ থেকে ৮৫ টাকা এবং আমদানিকৃত জাতগুলো ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দোকানিদের মতে নতুন চালের সরবরাহ স্থিতিশীল হওয়ার আগেই পুরনো চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যা রমজানে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

চিনি ও ডাল: ১০০ টাকার গণ্ডি পার

গত ৩ থেকে ৪ মাস ধরে চিনির দাম ১০০ টাকার নিচে থাকলেও এখন তা আবার সেই সীমা অতিক্রম করেছে।

চিনি:

পাইকারি বাজারের অস্থিরতার কারণে খোলা চিনি ১০০ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসুর ডাল (মোটা):

এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ টাকা বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ছোট দানার ডাল:

উন্নত মানের ছোট দানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে।

মুরগির বাজার: দীর্ঘ স্থিতিশীলতার পর দামের লাফ

ব্রয়লার মুরগির দাম গত কয়েক মাস স্থিতিশীল থাকলেও এখন তা বাড়তে শুরু করেছে।

ব্রয়লার মুরগি:

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে এখন প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

দেশি/গোল্ডেন মুরগি:

দাম ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে যা মধ্যবিত্তের জন্য প্রোটিনের জোগান দেওয়া কঠিন করে তুলেছে।

also read:আয়ারল্যান্ডের ভারত যেতে অস্বীকৃতি? ওয়ার্ল্ড কাপের আগে বড় সংকট; বাংলাদেশের চাল ব্যর্থ

মূল্য তুলনা (বাজার রিপোর্ট – জানুয়ারি ২০২৬)

পণ্যপূর্বের মূল্য (টাকা)বর্তমান মূল্য (টাকা)বৃদ্ধির পরিমাণ
চিনি (খোলা)৯০ থেকে ৯৫১০০ থেকে ১০২৫ থেকে ১০
ব্রয়লার মুরগি১৫০ থেকে ১৬০১৬৫ থেকে ১৭৫১৫
মিনিকেট চাল৭৮ থেকে ৮০৮৪ থেকে ৮৬
মসুর ডাল (মোটা)৫৫ থেকে ৬০৬০ থেকে ৬৫

বিশ্লেষণ: এটি কি কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি?

অর্থনীতিবিদ এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে রমজানের আগে প্রায়ই কৃত্রিম মজুতদারির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষকে বাজারের অস্থিরতা পর্যবেক্ষণ করে সরকারি রেট অনুযায়ী কেনাকাটা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রমজানের সময় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পাইকারি বাজারে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

১. ২০২৬ সালের রমজানে চিনির দাম কত হতে পারে?

যদি সরবরাহের উন্নতি না হয় তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

২. চালের দাম বাড়ার কারণ কী?

আমন মৌসুমের নতুন ফসল এখনও পুরোপুরি বাজারে আসেনি অন্যদিকে পুরনো চালের বাড়তি চাহিদার কারণে দাম বেড়ে গেছে।

৩. মুরগির দাম কি আরও বাড়বে?

খাবার এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে মুরগির দাম প্রতি কেজিতে আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়তে পারে।


ডিসক্লেইমার

এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা একটি চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য অফিসিয়াল বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সহায়তা নেওয়া উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত