Advertisement
বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিস্ফোরক মোড় লক্ষ্য করা গেছে যখন নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার পুনর্গঠন তদারকি এবং এর অন্তর্বর্তীকালীন শাসন পরিচালনার জন্য একটি বৈশ্বিক “বোর্ড অফ পিস” বা “শান্তি বোর্ড” গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য তার রুশ প্রতিপক্ষ ভ্লাদিমির পুতিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং ক্রেমলিন এখন এই আমন্ত্রণের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সোমবার ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি বড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হলো এই পদক্ষেপ।
Advertisement
ক্রেমলিনের নিশ্চিতকরণ: পুতিন আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছেন
সোমবার এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন যে প্রেসিডেন্ট পুতিন কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে শান্তি বোর্ডে যোগদানের জন্য একটি সরকারি আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
Advertisement
পেসকভের মতে:
Advertisement
“ক্রেমলিন বর্তমানে আমন্ত্রণটি পর্যালোচনা করছে। আমরা আশা করি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডের কাঠামো এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করবে যাতে রাশিয়া একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
“বোর্ড অফ পিস” আসলে কী? ট্রাম্পের মহাপরিকল্পনা
ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কমিটিকে “এখন পর্যন্ত গঠিত সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোর্ড” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে দুই বছরের ধ্বংসাত্মক সংঘাতের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন, এলাকাটিকে নিরস্ত্রীকরণ এবং একটি সাময়িক প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা এই বোর্ডের প্রধান লক্ষ্য। জানা গেছে এই পরিকল্পনাটি জাতিসংঘের সমর্থনপুষ্ট যা এর আন্তর্জাতিক আইনি বৈধতাকে শক্তিশালী করছে।
সম্ভাব্য বোর্ড সদস্য: বিশ্ব নেতাদের এক সমাবেশ
ট্রাম্প নিজে এই শান্তি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি যারা আমন্ত্রিত হয়েছেন বা যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| নাম | পদবি / দেশ | অবস্থা |
| ডোনাল্ড ট্রাম্প | মার্কিন প্রেসিডেন্ট | চেয়ারম্যান |
| টনি ব্লেয়ার | সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী | সদস্য |
| মার্ক কার্নি | কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদ | সদস্য |
| মার্কো রুবিও | মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী | সদস্য |
| ভ্লাদিমির পুতিন | রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট | আমন্ত্রিত |
| রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান | তুরস্কের প্রেসিডেন্ট | আমন্ত্রিত |
| আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি | মিশরের প্রেসিডেন্ট | আমন্ত্রিত |
| জাভিয়ের মিলেই | আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট | আমন্ত্রিত |
also read:মোস্তাফিজের বাজিমাত! উইজডেনের বর্ষসেরা দলে জায়গা; বাংলাদেশি ক্রিকেটের বড় এক অর্জন
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: তুরস্ক, আর্জেন্টিনা এবং মিশর
তুরস্ক, আর্জেন্টিনা এবং মিশর সরকারও শান্তি বোর্ডে যোগদানের আমন্ত্রণ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। মুসলিম বিশ্বে বোর্ডের গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে গাজার সীমান্ত বিশেষ করে রাফাহ ক্রসিং ব্যবস্থাপনায় প্রেসিডেন্ট আল-সিসির ভূমিকা প্রধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
১. শান্তি বোর্ডের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন করা এলাকাটিকে নিরস্ত্রীকরণ করা এবং স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত একটি সাময়িক শাসন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা।
২. প্রেসিডেন্ট পুতিন কি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন?
না রাশিয়া জানিয়েছে যে তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে এবং আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে।
৩. জাতিসংঘ কি এই বোর্ডের অংশ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইনি সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য এই পরিকল্পনার পেছনে জাতিসংঘের পরোক্ষ সমর্থন রয়েছে।
ডিসক্লেইমার
এই সংবাদটি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য উৎস এবং জনসমক্ষে উপলব্ধ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রদত্ত বিষয়বস্তু শুধুমাত্র তথ্যগত এবং বিনোদনের উদ্দেশ্যে যা একটি চূড়ান্ত বা নিশ্চিত বিবৃতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। খবরের অন্তর্ভুক্ত মতামত বিশ্লেষণ বা ভবিষ্যদ্বাণীগুলো লেখকের ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। তথ্য সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে তাই পাঠকদের যাচাইকরণের জন্য অফিশিয়াল বা নির্ভরযোগ্য উৎসের সহায়তা নেওয়া উচিত। এই খবরের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করার ফলে উদ্ভূত কোনো ক্ষতি বা ভুল বোঝাবুঝির জন্য কোনো দায় গ্রহণ করা হবে না।
