Advertisement
ভূমিকা
রবিবার বিকেলে ঢাকাসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই ভূমিকম্প শহরগুলোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ভূমিকম্পটি বিকেল ৫:১৪ মিনিটে ঘটেছে এবং কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছে। অনেক মানুষ আতঙ্কে বাড়ি ও অফিস ছেড়ে বাইরে বেরিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, এটির উৎপত্তি কেন্দ্র ভারতের উদালগুড়ি থেকে ১৪ কিমি পূর্বে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিমি। নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও চীনের কাছাকাছি দেশগুলোতেও সিসমিক কার্যক্রম নথিভুক্ত হয়েছে, যা দেখায় যে এই ভূমিকম্প পুরো অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে।
Advertisement
ভূমিকম্প ও এর কেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য
- রিখটার স্কেলে মাত্রা: ৫.৯
- সময়: বিকেল ৫:১৪ মিনিট
- স্থায়ীত্ব: কয়েক সেকেন্ড
- উৎপত্তি কেন্দ্র: ভারতের উদালগুড়ি থেকে ১৪ কিমি পূর্বে
- গভীরতা: ১০ কিমি
- প্রভাবিত এলাকা: ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা এবং ভারতের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চল
- আঞ্চলিক প্রভাব: নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন ও ভারত
বিশেষজ্ঞরা বলেন, উৎপত্তি কেন্দ্র ভারতের মধ্যে হলেও, ১০ কিমির অগভীর গভীরতার কারণে বাংলাদেশের ভূমিকম্প অনুভূতি অত্যন্ত তীব্র হয়েছে।
Advertisement
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ও দ্রুত ব্যবস্থা
ঢাকায় অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাড়ি ও অফিস ত্যাগ করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জনগণকে শান্ত থাকার, জনসমাগম এড়ানোর এবং ভূমিকম্প নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
Advertisement
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর বা বড় ধরনের স্থাপত্য ক্ষতির কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা যেমন বহুতল ভবন এবং জলমগ্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুতি
বাংলাদেশ হিমালয়ের সিসমিক সক্রিয় অঞ্চলের কাছাকাছি, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। বিশেষজ্ঞরা নির্দেশ দেন:
- নির্মাণ নিরাপত্তা: ভবনগুলোর ভূমিকম্প সুরক্ষা মান অনুসরণ করা
- জনসচেতনতা: ভূমিকম্প ড্রিল এবং নিরাপদভাবে বাইরে যাওয়ার প্রশিক্ষণ
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা: স্থানীয় সরকারের দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি
- জরুরি যোগাযোগ: কমিউনিটি অ্যালার্ট নেটওয়ার্ক এবং সতর্কবার্তা ব্যবস্থা
ড. সেলিনা রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় ছোট ভূমিকম্পও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে। ঝুঁকি কমাতে ধারাবাহিক শিক্ষা ও নির্মাণে পরিবর্তন অপরিহার্য।”
আঞ্চলিক প্রভাব
৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প নিম্নলিখিত অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে:
- ভারত: আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে প্রভাবিত
- নেপাল ও ভুটান: কম উচ্চতার এলাকায় ছোট কম্পন
- মিয়ানমার ও চীন: সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন, ক্ষতি কম
ভূমিকম্পবিদরা সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী ছোট কম্পন আসতে পারে, তাই জনগণকে সচেতন থাকতে হবে।
Also Read:ঢাকায় শাস্তিসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৯ আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মী গ্রেপ্তার
ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ থাকার উপায়
- Drop, Cover, and Hold On: শক্তপোক্ত ফার্নিচারের নিচে থাকুন
- জানালা থেকে দূরে থাকুন: ভাঙা কাচের কারণে আহত হওয়ার সম্ভাবনা
- যদি নিরাপদ না হয়, বাইরে যান: ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে খোলা এলাকায় যান
- গ্যাস বা বৈদ্যুতিক সমস্যা খুঁজুন: আগুন ব্যবহার করবেন না
- সরকারি খবর অনুসরণ করুন: BMD ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য
বিশেষজ্ঞ মতামত
ভূমিকম্পবিদরা বলেন, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় ভারত ও ইউরেশিয়ান প্লেটগুলোর চাপের কারণে সিসমিক কার্যক্রম বেশি। উৎপত্তি কেন্দ্র ভারতের মধ্যে হলেও ঢাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ড. আহসান করিম, ভূতত্ত্ববিদ, বলেন, “ছোট ভূমিকম্পও বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হতে পারে কারণ ঢাকার মাটি অগভীর।”
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষকরা প্রস্তাব দেন, শহরের অবকাঠামোকে আরও স্থিতিশীল করতে এবং স্কুল, হাসপাতাল ও বহুতল ভবনের ভূমিকম্প প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা আপডেট করতে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: ঢাকায় ভূমিকম্প কতটা শক্তিশালী ছিল?
উত্তর: কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী, রিখটার স্কেলে ৫.৯ মাত্রা
প্রশ্ন ২: উৎপত্তি কেন্দ্র কোথায় ছিল?
উত্তর: ভারতের উদালগুড়ি থেকে ১৪ কিমি পূর্বে, গভীরতা ১০ কিমি
প্রশ্ন ৩: বাংলাদেশে কেউ মারা গেছে কি?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি
প্রশ্ন ৪: কোন দেশগুলোতে কম্পন অনুভূত হয়েছে?
উত্তর: নেপাল, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান এবং চীন
প্রশ্ন ৫: পরবর্তী কম্পনের সময় কি করতে হবে?
উত্তর: নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করুন, আতঙ্কিত হবেন না এবং সরকারি সতর্কবার্তা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
করণীয়
বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প সম্পর্কিত সব খবর মনিটর করুন। নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন, নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন এবং সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চ্যানেলগুলো অনুসরণ করুন।
