Advertisement
প্রস্তাবনা
রংপুর, দেশের খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বর্তমানে একটি মারাত্মক সার সংকটের মুখোমুখি। আমন মরশুমের মাঝপথে সার না পাওয়ায় কৃষকরা বড় চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এক দিকে, কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাজারে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।
অন্য দিকে, যথেষ্ট পরিমাণে সার ব্যবহার না করায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
Advertisement
সরকার যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করে, কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
Advertisement
কৃষকদের সংগ্রাম
রংপুরের কৃষকরা বর্তমানে গ্রীষ্মকালীন সবজি ও আমন ধান চাষ করছেন, যেমন:
Advertisement
- আমন ধান
- ভুট্টা
- লাউ
- বেগুন
- কাঁচা মরিচ
- করলা
কৃষকরা জানিয়েছেন:
“ডিলারের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছি না। সরকার নির্ধারিত মূল্যের ১০০–৩০০ টাকা বেশি দিয়ে গেলে ডিলার সরবরাহ করছেন।”
রংপুরের বিভিন্ন জেলায় ধানক্ষেত হলুদ হতে শুরু করেছে—সারের অভাবের স্পষ্ট চিহ্ন।
দৈনিক প্রতিবাদ করেও কৃষকরা সাহায্য পাননি।
কৃষকদের অভিজ্ঞতা
রংপুরের কৃষক সাজিব, সাহিলম, তারিক, ফিরদৌস এবং সুপন জানান, সার সংকটের কারণে তারা তাদের সবজি ও আমন ফসলের যথাযথ যত্ন নিতে পারছেন না।
তারা বলেন:
“ফসলের একটি নির্দিষ্ট বৃদ্ধি সময়কাল থাকে। একবার সময় পার হলে, সার দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না।”
ডিলারদের দৃষ্টিভঙ্গি
একজন ডিলার অজ্ঞাতনামা শর্তে জানিয়েছেন:
“আমাদের গুদাম থেকে সার আসছে না; কোম্পানির সরবরাহ কমে গেছে।”
তারা কালোবাজারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বলেছেন:
“সার থাকলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি করতাম।”
অন্যান্য ডিলাররা বলেছেন, সরকার বরাদ্দকৃত কোটার অনুযায়ী সার বিক্রি হচ্ছে, তাই বেশি দাম নেওয়ার সুযোগ নেই।
কৃষি বিভাগের ব্যাখ্যা
কৃষি বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে রংপুরে বরাদ্দকৃত সার:
- ইউরিয়া: ৫,৫৬৫ মেট্রিক টন
- টি.এস.পি: ৯৩২ মেট্রিক টন
- ডি.এ.পি: ৩,৭২৪ মেট্রিক টন
- এম.ও.পি: ২,৬১৪ মেট্রিক টন
সরকারি মূল্য:
- ইউরিয়া: ১,৩৫০ টাকা প্রতি বস্তা
- টি.এস.পি: ১,৩৫০ টাকা প্রতি বস্তা
- ডি.এ.পি: ১,০৫০ টাকা প্রতি বস্তা
- এম.ও.পি: ১,০০০ টাকা প্রতি বস্তা
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ডিডি মোহাম্মদ সিরাজ ইসলাম বলেন:
“সরকার সারমূল্য নির্ধারণ করে; অতিরিক্ত দাম নেওয়া যাবে না। অভিযোগগুলি দ্রুত সমাধান করা হবে।”
তিনি কৃষকদের ধৈর্য ধরার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
Also Read:“তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে লাফ দিলেন!”: হাসপাতালে যাওয়ার পর কারিশ্মা শর্মা কী বললেন
সম্ভাব্য সমাধান ও সুপারিশ
সার সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
- সরকারি ডিলারের গুদামে অবিলম্বে সরবরাহ নিশ্চিত করা
- অতিরিক্ত চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বাড়ানো, যাতে কৃষক বেশি দাম না দেন
- কৃষকদের বিকল্প চাষ এবং কম সার ব্যবহারযোগ্য ফসল সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া
- জেলায় মনিটরিং ও দ্রুত-প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা সক্রিয় করা
কৃষকদের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ
সার সংকট রংপুরের সবজি ও ধান উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলে।
কৃষকরা তাদের আয় ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে চিন্তিত।
যদি অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
কল টু অ্যাকশন
- আপনার মতামত শেয়ার করুন, কৃষকদের সমস্যার সমাধানে কী করা উচিত।
- এই প্রতিবেদন শেয়ার করে সচেতনতা বৃদ্ধি করুন।
- রংপুরসহ অন্যান্য অঞ্চলের সর্বশেষ কৃষি খবর পেতে আমাদের নিউজলেটার সাবস্ক্রাইব করুন।
