Friday, January 2, 2026
Homeখবরবাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য বাড়াতে প্রস্তুত: অধ্যাপক ইউনূস

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য বাড়াতে প্রস্তুত: অধ্যাপক ইউনূস

Advertisement

ভূমিকা: বাণিজ্যের নতুন অধ্যায়

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস সোমবার বলেছেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে টেকসই ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে।

তিনি এ কথা বলেন ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ-এর সঙ্গে বৈঠকের সময়।

Advertisement

বাণিজ্য সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

  • যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৫% থেকে কমিয়ে ২০% করেছে।
  • অধ্যাপক ইউনুস এ সিদ্ধান্তকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের এক “গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” বলে অভিহিত করেন।
  • উভয় পক্ষ বাণিজ্য ঘাটতি কমানো ও নতুন আমদানির সুযোগ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করে।

বাংলাদেশের অগ্রাধিকার: কোন পণ্যগুলো আমদানি হবে?

অধ্যাপক ইউনুস পরিষ্কার করে জানান, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিম্নলিখিত খাতে আমদানি বাড়াতে চায়:

Advertisement

  • কৃষি পণ্য: তুলা, সয়াবিন
  • জ্বালানি খাত: এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas)
  • বিমান পরিবহন: যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ
  • ফার্মাসিউটিক্যাল ও নিয়ন্ত্রণ নীতি: মাদকবিরোধী সহযোগিতা

শ্রম পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের সুযোগ

বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১১ দফা শ্রম কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিজেদের অগ্রগতি উপস্থাপন করে। এর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক শ্রম অধিকার মানদণ্ড ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নীতি নিশ্চিত করা।

Advertisement

অধ্যাপক ইউনুস বলেন:
“আমরা চাই, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের দরজা বাংলাদেশের জন্য আরও উন্মুক্ত হোক।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা

ব্রেন্ডান লিঞ্চ বলেন:

  • “আপনারা শক্তিশালী একটি দল পাঠিয়েছেন, যারা দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনা করেছে।”
  • তিনি জোর দেন যে শুল্কচুক্তি ও ক্রয় প্রতিশ্রুতি সময়মতো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি (তথ্যসমৃদ্ধ)

  • ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি
  • যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি অংশীদার, বিশেষ করে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে
  • বাণিজ্য ঘাটতি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে, তাই আমদানি বৃদ্ধি ভারসাম্য আনার জন্য জরুরি পদক্ষেপ।

প্রত্যাশিত প্রভাব: জনগণ ও ব্যবসার জন্য এর মানে কী?

  • ব্যবসার সুযোগ: দেশীয় শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও কাঁচামাল থেকে উপকৃত হবে।
  • কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: জ্বালানি ও বিমান খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
  • ভোক্তাদের সুবিধা: উন্নতমানের পণ্য কম দামে পাওয়া যেতে পারে।
  • বিনিয়োগ বৃদ্ধি: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Also read:যুবশক্তি: উন্নত বাংলাদেশের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের বার্তা

চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

  • চ্যালেঞ্জ: বাণিজ্য প্রতিশ্রুতির সময়মতো বাস্তবায়ন
    সমাধান: স্বচ্ছতা ও সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত কৌশল
  • চ্যালেঞ্জ: শ্রম অধিকার নিয়ে বৈশ্বিক চাপ
    সমাধান: শ্রম কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

প্রশ্ন: যুক্তরাষ্ট্র কেন বাংলাদেশের ওপর শুল্ক কমিয়েছে?
উত্তর: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার ও বাণিজ্যের ভারসাম্য আনার জন্য।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোন পণ্য বেশি আমদানি করবে?
উত্তর: তুলা, সয়াবিন, এলপিজি ও যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ।

প্রশ্ন: শ্রম কর্মপরিকল্পনা কী?
উত্তর: যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত ১১ দফা পরিকল্পনা, যা শ্রম অধিকার ও স্বচ্ছ বাণিজ্য নিশ্চিত করার জন্য তৈরি।

প্রশ্ন: এ সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত হবে?
উত্তর: মানসম্মত পণ্যের সহজলভ্যতা, নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসবে।

উপসংহার ও আহ্বান

অধ্যাপক ইউনুসের বক্তব্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে প্রস্তুত। আমদানি বৃদ্ধি ও শুল্ক হ্রাস শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমাবে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনেও সরাসরি সুফল বয়ে আনবে।

আপনার মতে, কোন খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে বাংলাদেশ সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেবে? মন্তব্যে জানান, খবরটি শেয়ার করুন, এবং বাণিজ্য ও অর্থনীতি সম্পর্কিত আরও আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত