Friday, January 2, 2026
Homeখবরফারুকপুরের সহিংসতার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হবে: ডিআইজি রেজাউল

ফারুকপুরের সহিংসতার জন্য দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হবে: ডিআইজি রেজাউল

Advertisement

ভূমিকা: একটি উদ্বেগজনক ঘটনা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে জনসাধারণ

ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় সোমবারের সহিংস আন্দোলন দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফরিদপুর-৪ আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে এ আন্দোলন শুরু হয়, যা স্থানীয়দের ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং সরকারি ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) রাজাউল করিম ঘোষণা করেছেন—সহিংসতার জন্য দায়ীদের যেকোনো মূল্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

ডিআইজি রাজাউলের বক্তব্য ও পুলিশের কৌশল

সোমবার রাতে ভাঙ্গা থানা প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ডিআইজি রাজাউল বলেন:

Advertisement

  • “সহিংসতায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।”
  • “পুলিশ ও প্রশাসন যৌথভাবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিচ্ছে।”
  • “চার থেকে পাঁচজন পুলিশ আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

Advertisement

ভাঙ্গায় কী ঘটেছিল?

  • বিক্ষোভকারীরা ভাঙ্গা থানা, উপজেলা পরিষদ, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি এবং পৌরসভা অফিসে হামলা চালায়।
  • স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
  • কয়েকটি সরকারি গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়।
  • নতুন আসনসীমা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ থেকেই সহিংসতা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসকের প্রতিক্রিয়া

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা বলেন:

Advertisement

  • “জনগণের অনুভূতি আমরা রিপোর্ট আকারে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়েছি।”
  • “দুটি ইউনিয়নের পুনঃসীমা নির্ধারণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে, যা রোববার শুনানি হবে।”
  • “আমরা জনগণকে ধৈর্য ধরতে, আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষা করতে এবং আর কোনো সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই।”

Also Read:সুনামগঞ্জে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ডিসি অফিসের দুই কর্মচারী নিহত হয়েছেন।

জননিরাপত্তা ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব

ডিআইজি রাজাউল জানিয়েছেন:

  • ভাঙ্গা থানার ক্ষয়ক্ষতি পুলিশ নিজে মূল্যায়ন করছে।
  • উপজেলা পরিষদ ও অন্যান্য ভবনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জেলা প্রশাসক করছেন।
  • অচিরেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।

আসনসীমা নির্ধারণ ও বাংলাদেশের জনঅসন্তোষ

বাংলাদেশে আসনসীমা নির্ধারণ নিয়ে এর আগেও বিরোধ দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন:

  • পুনঃসীমা নির্ধারণ প্রায়শই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়।
  • জনগণ মনে করেন তাদের প্রতিনিধিদের রাজনৈতিক প্রভাব কমে যেতে পারে।
  • স্বচ্ছতা ও জনঅংশগ্রহণ ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত সহজেই সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ: সহিংসতা ঠেকাতে করণীয়

  • স্বচ্ছ যোগাযোগ: নির্বাচন কমিশনকে সময়মতো জনগণকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
  • আইনি প্রক্রিয়া: বিরোধ আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে, রাস্তায় নয়।
  • পুলিশের প্রস্তুতি: প্রশিক্ষিত বাহিনী মোতায়েন করতে হবে যাতে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • জনঅংশগ্রহণ: পুনঃসীমা নির্ধারণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত নিতে হবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (ভাঙ্গা সহিংসতা)

প্রশ্ন: সহিংসতা কেন শুরু হয়েছিল?
উত্তর: বিক্ষোভকারীরা ফরিদপুর-৪ আসনের নতুন সীমানা নির্ধারণের বিরোধিতা করেছিলেন।

প্রশ্ন: কী কী ক্ষতি হয়েছে?
উত্তর: থানাসহ উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা অফিস ও কয়েকটি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

প্রশ্ন: পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
উত্তর: বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে এবং মূল দোষীদের গ্রেপ্তারের তদন্ত চলছে।

প্রশ্ন: এখন করণীয় কী?
উত্তর: হাইকোর্টে রিট শুনানি চলছে। কর্তৃপক্ষ জনগণকে ধৈর্য ধরতে ও আইনি প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখতে আহ্বান জানাচ্ছে।

উপসংহার: ধৈর্য ও ন্যায়বিচারই সমাধান

ডিআইজি রাজাউলের স্পষ্ট বার্তা হলো—সহিংসতায় জড়িতরা অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হবে। তবে স্থায়ী শান্তির জন্য জনগণকেও ধৈর্য ধরতে হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রাখতে হবে।

আপনার মতে, আসনসীমা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধ ঠেকাতে নির্বাচন কমিশনকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত? মন্তব্যে জানিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন সর্বশেষ আপডেটের জন্য।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত