Advertisement
ভূমিকা
যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহৎ সামুদ্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যার লক্ষ্য চীনের বৈশ্বিক বন্দরের নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং পশ্চিমা শক্তির কৌশলগত বন্দরে আধিপত্য বৃদ্ধি করা। ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিকল্পনা তৈরি করে, কারণ ভবিষ্যতে চীনের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল: চীনের বন্দরের প্রভাব কমানো
- বর্তমান বাণিজ্যিক জাহাজ বহর যুদ্ধকালীন সহায়তার জন্য যথেষ্ট নয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন।
- বিদেশি জাহাজ ও বন্দরের ওপর ভারী নির্ভরতা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করে।
- মার্কিন বা পশ্চিমা কোম্পানিকে চীনের অংশীদারিত্ব অর্জনে সহায়তা করার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে, যেমন ব্ল্যাকরক-এর সি.কে. হাচিসনের হংকং বন্দরের অংশ কিনার প্রস্তাব।
গুরুত্বপূর্ণ বন্দরসমূহ
- গ্রীস: পিরিয়াস পোর্ট — ৬৭% COSCO অংশীদারিত্ব
- স্পেন: ভ্যালেন্সিয়া ও বিলবাও কনটেইনার টার্মিনাল
- ক্যারিবিয়ান: কিংস্টন টার্মিনাল, জামাইকা
- যুক্তরাষ্ট্র: লস এঞ্জেলেস ও লং বিচ পোর্ট
- অন্যান্য কৌশলগত স্থান: পানামা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া (ডারউইন পোর্ট)
চীনের প্রতিক্রিয়া
বেইজিং জানিয়েছে:
Advertisement
“চীন সর্বদা অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী।”
চীনের কর্মকর্তারা মার্কিন উদ্যোগকে হেজেমোনিয়াল ও অর্থনৈতিক চাপে ভিত্তিক বলে অভিহিত করেছেন। চীনের বন্দরের নেটওয়ার্ক (COSCO, China Merchants, SIPG) বিশ্বব্যাপী ১২৯টি প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে।
Advertisement
গ্রীসের পিরিয়াস পোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ
- পিরিয়াস পূর্ব মধ্যসাগরে অবস্থিত এবং ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট সংযুক্ত করে।
- COSCO-এর উপস্থিতি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এ থেকে গুপ্তচরবৃত্তি ও সামরিক ব্যবহার হতে পারে।
- মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর COSCO-কে চীনা সামরিক সংস্থার সাথে সংযুক্ত হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
ক্যারিবিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
- চীনের অংশীদারিত্ব জামাইকার কিংস্টন টার্মিনাল ও নিকটবর্তী পোর্ট কাইজারে মার্কিন নিরাপত্তার উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
- CSIS এই বন্দরগুলোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
- সিনেটর রুবিও চীনের এই কৌশলকে “শিকারি” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা ন্যূনতম মূল্যে সম্পদ অর্জন করছে।
Also read:গাজার ওপর তীব্র বোমা বর্ষণ: মার্কো রুবিওর ইসরায়েলের পাশে থাকার ঘোষণার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা
- ট্রাম্প নির্বাহী আদেশ জারি করে দেশীয় জাহাজনির্মাণ ও বহর শক্তিশালী করেছেন।
- ভির্জিন দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন জাহাজনিবন্ধন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা চলছে, যাতে আরও বেশি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে।
- চীনা নির্মিত বা চীনা পতাকার জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে ফি আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।
- আর্কটিক ও গুরুত্বপূর্ণ শিপিং লেনের নিকটে গ্রিনল্যান্ডে বন্দরের সম্ভাব্য অধিগ্রহণ যাচাই করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ: যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক কৌশল
- যুক্তরাষ্ট্র মিত্র ও অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করছে যাতে চীনের বৈশ্বিক প্রভাব হ্রাস পায়।
- চীনের সামুদ্রিক শিল্প বর্তমান মার্কিন বহরের তুলনায় ২৩১ গুণ বড়, তাই এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয় মনে করা হচ্ছে।
- এটি ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে সবচেয়ে বিস্তৃত মার্কিন সামুদ্রিক কৌশল, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নৌসামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সাহায্য করবে।
বৈশ্বিক উত্তেজনা
- এই কৌশল বেইজিং-এর বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগকে প্রভাবিত করছে।
- স্পেন ও গ্রীসে চীনের নিয়ন্ত্রিত বন্দরের ওপর মার্কিন চাপ বাড়ছে।
- অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন পোর্ট পুনর্দখল ও ক্যারিবিয়ান বিনিয়োগ পর্যবেক্ষণও এই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার অংশ।
মূল তথ্য
- চীনের নেটওয়ার্ক: COSCO, China Merchants, SIPG
- যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ: বহর শক্তিশালী, নিবন্ধন সম্প্রসারণ, ফি আরোপ, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ
- গুরুত্বপূর্ণ বন্দর: পিরিয়াস, ভ্যালেন্সিয়া, বিলবাও, কিংস্টন, লস এঞ্জেলেস, লং বিচ
- নিরাপত্তার উদ্বেগ: গুপ্তচরবৃত্তি, সামরিক সুবিধা, সরবরাহ চেইনের ব্যাঘাত
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)
প্রশ্ন ১: যুক্তরাষ্ট্র কেন চীনের বন্দরের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে?
উত্তর: চীনের বৈশ্বিক বন্দরের নেটওয়ার্ক যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Advertisement
প্রশ্ন ২: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর কোনগুলো?
উত্তর: গ্রীস, স্পেন, ক্যারিবিয়ান, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কৌশলগত বন্দর।
প্রশ্ন ৩: চীন কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে?
উত্তর: বেইজিং এটিকে হেজেমোনিয়াল ও অবৈধ বলে অভিহিত করেছে।
প্রশ্ন ৪: যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
উত্তর: জাহাজনির্মাণ বাড়ানো, নিবন্ধন সম্প্রসারণ, চীনা জাহাজে ফি আরোপ, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ।
উপসংহার
এই সামুদ্রিক উদ্যোগ ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে সবচেয়ে বিস্তৃত মার্কিন নৌসামরিক কৌশল। এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যিক রুট, চীনের বন্দরের প্রভাব এবং মার্কিন নিরাপত্তার সংযোগ তুলে ধরে। বিনিয়োগ ও শিপিং নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত উত্তেজনা ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে পারে।
