Advertisement
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) হারানো একটি বড় ঝামেলা। এই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হারালে অধিকাংশ মানুষ অসহায় বোধ করেন। এতদিন পর্যন্ত নতুন NID তুলতে হলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (GD) করা বাধ্যতামূলক ছিল, যা সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলাপূর্ণ একটি কাজ।
কিন্তু সুখবর হলো—জনসাধারণের এই ভোগান্তি কমাতে নির্বাচন কমিশন (EC) অবশেষে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
Advertisement
নতুন সিদ্ধান্ত কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অধিদপ্তর ঘোষণা করেছে যে এখন থেকে হারানো NID কার্ড পুনরায় তুলতে আর কোনো সাধারণ ডায়েরি (GD) করতে হবে না।
Advertisement
এই ঘোষণা নাগরিকদের জন্য এক বিশাল স্বস্তি। এর ফলে NID পুনঃপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে এবং মানুষের মূল্যবান সময় সাশ্রয় হবে।
Advertisement
(প্রতীকী ছবি: একজন মানুষ হাতে NID কার্ড ধরে আছেন, যিনি এখন আর জিডির ঝামেলা এড়াতে পারবেন।)
এই নতুন সিদ্ধান্তের পেছনে কে?
নির্বাচন কমিশন (EC) দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে নাগরিকদের জন্য NID সেবা সহজ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএসএম হুমায়ুন কবীর এই চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে EC-এর একটি বড় পদক্ষেপ।
শুধু গত বছরেই এই অধিদপ্তর প্রায় ৯.৫ লাখ NID সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তি করেছে, যা প্রমাণ করে যে NID-সম্পর্কিত সেবার চাহিদা কতটা ব্যাপক।
Also Read:ফ্যাসিবাদী আ. লীগ সরকার ধ্বংস করেছে প্রতিটি সেক্টর: শামা ওবায়েদ
NID পুনরুদ্ধারের নতুন প্রক্রিয়া কী হবে?
যদিও বিস্তারিত ধাপগুলো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে আশা করা হচ্ছে যে নতুন পদ্ধতিতে জিডির পরিবর্তে একটি সহজ অনলাইন বা অফলাইন ফর্ম ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে হারানো NID কার্ডের তথ্য সরাসরি EC-কে জানানো যাবে।
সম্ভাব্য ধাপগুলো:
- অনলাইন আবেদন: EC-এর ওয়েবসাইটে একটি নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে হারানো NID-এর জন্য আবেদন।
- ফি পরিশোধ: নির্ধারিত ফি অনলাইনে বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান।
- সরাসরি যোগাযোগ: প্রয়োজনে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে সরাসরি আবেদন জমা।
এই প্রক্রিয়া জিডির তুলনায় অনেক দ্রুত ও ঝামেলাহীন হবে, যা সরাসরি নাগরিক ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে।
ভোটার তালিকা: কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২,৬৩০৭,৫০৪ জন। এর মধ্যে—
- পুরুষ ভোটার: ৬৪,১০০,৪৫৫
- নারী ভোটার: ৬২,২০৫,৮১৯
- তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার: ১,২৩০
এত বিপুল সংখ্যক ভোটারের জন্য সহজ NID সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজ।
(একটি ইনফোগ্রাফিক: বাংলাদেশের বর্তমান ভোটার সংখ্যা ও লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন।)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: এই নতুন নিয়ম কি এখনই কার্যকর?
উত্তর: হ্যাঁ, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে এটি কার্যকর হয়েছে।
প্রশ্ন: এখন যদি আমার NID হারিয়ে যায় তবে কী করব?
উত্তর: বিস্তারিত প্রক্রিয়া শীঘ্রই EC ঘোষণা করবে। আপাতত আপনি EC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে খোঁজ নিতে পারেন।
প্রশ্ন: এই নিয়ম কি শুধু হারানো NID-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য?
উত্তর: প্রাথমিকভাবে এই ঘোষণা শুধুমাত্র হারানো NID পুনঃপ্রাপ্তির জন্য।
আমাদের মতামত
NID সংশোধন ও অন্যান্য সেবা সহজ করার এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি “ডিজিটাল বাংলাদেশ”-এর দিকে আরেকটি অগ্রগতি। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে EC আরও সহজ প্রক্রিয়া চালু করবে, যাতে প্রতিটি নাগরিকের জীবন আরও আরামদায়ক হয়।
