Advertisement
ভূমিকা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন ২০% পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য বড় হুমকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪% পর্যন্ত কমতে পারে, যা দেশের জন্য প্রায় ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে পোশাক ও গার্মেন্টস শিল্পের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে, কারণ এটি বাংলাদেশের মার্কিন বাজারে রপ্তানির বৃহত্তম অংশ গঠন করে।
Advertisement
RAPID বিশ্লেষণ: রপ্তানিতে প্রভাব
- পোশাক রপ্তানি থেকে প্রায় ১.০৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য ক্ষতি।
- অন্যান্য পণ্য রপ্তানিতে প্রভাব কম, তবে লক্ষ্যনীয়।
RAPID-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল রাজ্জাক বলেন:
Advertisement
“বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে কিছু ব্যবসা পেতে পারে, তবে বাজার সংকীর্ণ হওয়ায় মোট রপ্তানি বৃদ্ধিতে সমস্যা হবে।”
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: অন্যান্য দেশগুলোর অবস্থা
- চীন: ৫৮% সম্ভাবনা কমার
- ভারত: ৪৮% সম্ভাবনা কমার
- ভিয়েতনাম: ২৮% সম্ভাবনা কমার
- ইন্দোনেশিয়া: ২৭% সম্ভাবনা কমার
ভারতের শুল্ক ২০% হ্রাস করলে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৭.৪৬% কমতে পারে।
Advertisement
বাংলাদেশের মার্কিন বাজারে অবস্থান
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার।
- পোশাক মার্কিন বাজারে রপ্তানির ৯০%-এর বেশি।
- মার্কিন বাজারে বার্ষিক রপ্তানি: প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার
- আমদানি: প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার → ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি।
- বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ, চীন ও ভিয়েতনামের পরে। মার্কিন পোশাক বাজারে ৯.৩% অংশ।
বাজার সমস্যা ও প্রতিযোগিতা
মোহাম্মদ আবদুল রাজ্জাক উল্লেখ করেছেন:
- ইউরোপীয় বাজারও খুব প্রতিযোগিতামূলক।
- বেশি প্রতিযোগিতা দাম কমিয়ে দিতে পারে।
- দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নির্ভর করবে: মার্কিন নীতি, বৈশ্বিক উৎস প্রবণতা এবং বাংলাদেশের অভিযোজন ক্ষমতার উপর।
Also read:বৈশ্বিক সোনার দাম ইতিহাসিক উচ্চতায়: আউন্স প্রতি $৩,৬৮০ অতিক্রম
সরকারের এবং মার্কিন প্রতিনিধি দলের উদ্যোগ
- মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্র্যান্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি মার্কিন ট্রেড গ্রুপ বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।
- BGMEA নেতারা মার্কিন দূতাবাসে বৈঠকে অংশ নিয়েছে।
- শুল্ক কমানো রপ্তানি চালু রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বাংলাদেশের কৌশলগত পরামর্শ
- রপ্তানি বাজার বৈচিত্র্য করুন: মার্কিন বাজারের বাইরে অন্যান্য দেশে মনোযোগ দিন।
- নীতি পরিবর্তন: শ্রম আইন ও বাণিজ্য নীতি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উন্নত করুন।
- উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: BGMEA ও অন্যান্য সংগঠন মান ও কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
- বৈশ্বিক প্রবণতা পর্যবেক্ষণ: বাজারের পরিবর্তন অনুযায়ী পরিকল্পনা করুন।
মোহাম্মদ আবদুল রাজ্জাক বলেছেন:
“শুল্ক কাঠামো যতটা খারাপ নয়, তবে অমনোযোগ বা বিঘ্ন রপ্তানিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।”
বিনিয়োগকারী ও উৎপাদকদের জন্য পরামর্শ
- মার্কিন শুল্ক এবং বৈশ্বিক বাজার পর্যবেক্ষণ করুন।
- ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প বাজার দেখুন।
- মান ও উৎপাদনশীলতা উন্নত করুন, প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার জন্য।
- শুল্কের প্রভাব বিবেচনা করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করুন।
উপসংহার
মার্কিন শুল্কের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুঁকির মুখে আছে, তবে দ্রুত পদক্ষেপ, বাজার বৈচিত্র্য এবং শিল্প সংস্কার গ্রহণ করলে ক্ষতি কমানো সম্ভব।
“মার্কিন বাজার এখনও গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি নির্ভর করবে বৈশ্বিক প্রবণতা ও নীতি সিদ্ধান্তের উপর।”
