Advertisement
ভয়ঙ্কর অস্ত্রোপচারে উচ্চ মৃত্যুর ঝুঁকি
দীর্ঘদিন ধরে মানুষ বাংলাদেশ পুলিশের সমালোচনা করে আসছে, কারণ তারা আইন প্রয়োগে সামরিক কর্মকাণ্ডের মতো আচরণ করে। প্রমাণ দেখাচ্ছে যে জুলাই ২০২৪ সালের বিদ্রোহের আগে থেকেই পুলিশে এমন মারাত্মক অস্ত্র ছিল যা জনসংখ্যাকে হত্যা করার জন্য ব্যবহৃত হতে পারত। এই অস্ত্রগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল শান্তি রক্ষা নয়।
দ্য ডেইলি স্টার-এর অনুসন্ধানী তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ ২.৪৯ কোটি ইউনিট মারাত্মক গুলি কিনেছে। অন্যদিকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাসের মতো ৩০ লাখ অ-ঘাতক রাউন্ড কেনা হয়েছিল।
Advertisement
এই তথ্য দিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন যে সরকার একটি শক্তিশালী সামরিক-সদৃশ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলছে।
Advertisement
সরকারী নির্দেশনা এবং বিতর্ক
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, শেখ হাসিনার বিতর্কিত নির্দেশের পর, পুলিশি হত্যাযন্ত্রের প্রভাব স্পষ্ট হয়। বিদ্রোহ চলাকালীন পুলিশি ক্রিয়াকলাপে বহু মানুষ মারা যায়।
Advertisement
বিশ্লেষকরা মনে করেন, কেনা অস্ত্রের ধরন ও পরিমাণ দেখায় যে পুলিশ সাধারণ আইন প্রয়োগের চেয়ে অনেক বেশি প্রস্তুতি নিয়েছিল।
শুল্ক ও আমদানির তথ্য অনুযায়ী, মারাত্মক অস্ত্রে ২৪০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যা অ-ঘাতক অস্ত্রের ১৯১ কোটি টাকার চেয়ে প্রায় ১.৫ গুণ বেশি। এই অমিল সরাসরি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়।
মানবাধিকার ও নীতি প্রভাব
- হত্যা সামগ্রী বেশি কেনার ফলে সাধারণ জনগণ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
- টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটের জন্য পর্যাপ্ত তহবিল ছিল না, যা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হত্যারসামগ্রীতে অমিল সরকারি নীতি ও মানবাধিকার উভয়ের জন্য বিপজ্জনক সংকেত।
সিভিল সোসাইটি গ্রুপগুলি চাইছে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, যাতে পুলিশ হত্যারসামগ্রী ভুলভাবে ব্যবহার না করে।
পুলিশকে নেওয়া শিক্ষা
- অ-ঘাতক অস্ত্রকে প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া
- অস্ত্র ক্রয় ও ব্যবহার প্রকাশ্য করা
- মানবাধিকার প্রশিক্ষণ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে সীমিত বল প্রয়োগ
- স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা
Also read:জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অনুমোদিত: অর্থ ‘হোয়াইটনিং’ প্রভিশন বাতিল
আর্থিক দিক
- মারাত্মক অস্ত্রে ব্যয়: ২৪০ কোটি টাকা
- অ-ঘাতক অস্ত্রে ব্যয়: ১৯১ কোটি টাকা
- ইউনিট অনুপাত: ৭:১
এটি হত্যার প্রতি প্রাধান্য দেওয়ার প্রমাণ, যা নৈতিক ও শাসনগত সমস্যা তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক মনোযোগ
জুলাই বিদ্রোহের সময় পুলিশের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
উপসংহার
জুলাই বিদ্রোহ দেখিয়েছে যে পুলিশি নীতি কার্যকর হয়নি। মারাত্মক অস্ত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যা বহু সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে।
নীতি পরিবর্তন, স্বচ্ছতা, এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করলে ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক ও সিভিল সোসাইটি এখনও সরকারকে সতর্ক করছে, যাতে পুলিশ একটি রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে থাকে, ধ্বংসাত্মক বাহিনী নয়।
বাংলাদেশ এখন সংকটমুখী: আজকের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের নাগরিক স্বাধীনতা, জনবিশ্বাস ও মানবাধিকারের ওপর প্রভাব ফেলবে।
