Advertisement
ভূমিকা
বিদেশে কি কোনো সরকার বিক্ষোভ বন্ধ করতে পারে?
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেনের মতে, সহজ উত্তর হলো: কোনো বিক্ষোভই থামানো সম্ভব নয়। বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন, যখন প্রধান উপদেষ্টার আসন্ন জাতিসংঘ সফর এবং সম্ভাব্য বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়।
লন্ডনের সাম্প্রতিক ঘটনার পর এ বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। তবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, প্রচারিত অনেক খবরই ছিল ভুল, আর গণতান্ত্রিক দেশে বিক্ষোভ ঠেকানো অসম্ভব।
Advertisement
কেন বিক্ষোভ অনিবার্য?
সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন:
Advertisement
“পশ্চিমা দেশে কেউ—না আমরা, না স্বাগতিক সরকার—কোনোভাবেই সমাবেশ, স্লোগান বা বিক্ষোভ ঠেকাতে পারে না। আসল প্রয়োজন শুধু প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
Advertisement
বিক্ষোভ অনিবার্য হওয়ার কারণ:
- মতপ্রকাশের স্বাধীনতা: যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশে বিক্ষোভ মৌলিক অধিকার।
- প্রবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অভিবাসীরা সহজেই বিক্ষোভ আয়োজন করতে পারে।
- স্বাগতিক সরকারের সীমাবদ্ধতা: তারা নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে পারে না।
এ কারণেই প্রায় সব বিদেশ সফরকারী প্রতিনিধিদলকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়।
লন্ডনের ঘটনা: বাস্তবতা বনাম গুজব
সাম্প্রতিক লন্ডন বিক্ষোভের পর খবর ছড়ায় যে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের গাড়িতে হামলা হয়েছে। তৌহিদ হোসেন বিষয়টি পরিষ্কার করেন:
- যে গাড়িতে হামলা হয়েছিল, সেখানে মাহফুজ আলম ছিলেন না।
- তিনি অন্য একটি নিরাপদ গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন।
- ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে, এবং অনেক সংবাদ বিভ্রান্তিকর ছিল।
এটি প্রমাণ করে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব অনেক সময় পরিস্থিতিকে বাস্তবের চেয়ে বেশি ভয়াবহ করে তোলে।
নিউইয়র্ক সফর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন যে জাতিসংঘ সফরে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি থাকবে না:
- নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞ।
- গাড়িগুলোকে তিন-গাড়ি দূরত্বে রাখা হয়, যাতে ভিড় কাছে আসতে না পারে।
- অতীতে বড় বড় প্রতিনিধিদল কোনো বড় সমস্যা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
এর মানে হলো:
- বিক্ষোভ হবেই, কিন্তু নিরাপত্তার কোনো বাস্তব হুমকি নেই।
- মূল মনোযোগ থাকা উচিত কূটনৈতিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আলোচনায়।
Also read:“একজন নায়িকাকে এভাবে ডাকতে সাহস হলো কীভাবে?” – সাংবাদিককে লক্ষ্মী মাঞ্চুর তীব্র জবাব
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: গণতান্ত্রিক প্রকাশ হিসেবে বিক্ষোভ
বিদেশে শুধু বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলই নয়, বিশ্বের বহু নেতা একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন:
- চীনের প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রে প্রো-ডেমোক্রেসি বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়।
- ভারতীয় নেতারা কানাডা ও যুক্তরাজ্যে প্রবাসী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ দেখেন।
- মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবাদের টার্গেট হন।
তাই বিক্ষোভ সরকার দুর্বল হওয়ার নিদর্শন নয়, বরং গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বাস্তবতা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন ১: বাংলাদেশ কি স্বাগতিক দেশকে বিক্ষোভ বন্ধ করতে বলতে পারে?
না। পশ্চিমা আইন শান্তিপূর্ণ সমাবেশ রক্ষা করে। সরকার কেবল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
প্রশ্ন ২: বিক্ষোভ কি কূটনৈতিক সফরে ক্ষতি করে?
সাধারণত না। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিক্ষোভ সীমিত থাকে।
প্রশ্ন ৩: নিউইয়র্ক সফর কি ঝুঁকিতে?
না। NYPD–র অভিজ্ঞতার কারণে সফর শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
উপসংহার ও বার্তা
বিদেশে বিক্ষোভ গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক অংশ। আসল বিষয় হলো প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের কণ্ঠকে শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা।
আপনি কী মনে করেন? বিদেশে বিক্ষোভকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, নাকি কূটনৈতিক লক্ষ্যকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত? মন্তব্যে আপনার মতামত শেয়ার করুন।
