Advertisement
ভূমিকা
নেপালে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে, যখন সুষিলা কার্কিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই পদে আসীন হলেন। এই নিয়োগ ঘটে যুবাদের তীব্র আন্দোলনের পর, যা কমপক্ষে ৭২ জনের মৃত্যুর এবং হাজার হাজার আহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এই বিক্ষোভগুলি শুরু হয় সংক্ষিপ্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ, বিস্তৃত দুর্নীতি এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে, যা জেনারেশন জেড (১৯৯৭–২০১২ সালে জন্মগ্রহণকারী)কে রাস্তায় নামাতে প্ররোচিত করেছে।
Advertisement
সুষিলা কার্কির রাজনৈতিক ও আইনগত যাত্রা
প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা:
Advertisement
- জন্ম: ১৯৫২
- প্রাথমিকভাবে নেপালি কংগ্রেস পার্টির ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পরে তিনি রাজনীতি ছেড়ে আইনজীবীর পথ অবলম্বন করেন।
আইনি সেবা ও নারীর অধিকার:
Advertisement
- ২০১২ সালে দুর্নীতির কারণে একজন মন্ত্রীকে জেলে পাঠিয়েছিলেন।
- নেপালি নারীদের অধিকার নিয়ে লড়াই করেছেন, যাতে তারা তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দিতে পারে।
- ২০১৬–২০১৭ সালে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের পক্ষে কাজ করেছেন।
- ২০১৭ সালে সরকার তাকে অপসারণের চেষ্টা করলেও, জাতিসংঘ ও আদালত এই রাজনৈতিক প্রভাবিত প্রচেষ্টা খারিজ করে।
অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভূমিকা
- নিয়োগের পর সংসদ ভেঙে ফেলা হয় এবং নতুন নির্বাচন নির্ধারিত হয় ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে।
প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ:
- বিক্ষোভের সময় ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি অফিস ও সংসদ ভবন পুনর্নির্মাণ।
- সময়মতো নির্বাচন পরিচালনা এবং ক্ষমতার নির্বিঘ্ন হস্তান্তর নিশ্চিত করা।
- দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিবিদ ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
- সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার আস্থা অর্জন।
- দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে জাতীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
নেপালে নারী নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়
- তার নিয়োগ দেখাচ্ছে, নারীর প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- ২০১৫ সংবিধান অনুসারে, নারী পদে আসীন হয়েছে যেমন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি এবং সংসদ স্পিকার।
- রাজনৈতিক বিশ্লেষক আদিব ভুষিতা বাসিষ্ঠ বলেন, এই নিয়োগ শুধুমাত্র লিঙ্গের মাইলফলক নয়, বরং এটি জনতার দ্বারা চালিত, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিপ্লব।
যুবাদের ভূমিকা
- জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ সরকার এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিকে প্ররোচিত করেছে।
- জেনারেশন জেড সমন্বয়কারী রক্ষা বাম বলেন:
“আমরা শুধু প্রতিবাদ করছি না; আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এখানে আছি।”
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং জাতিসংঘসহ অনেক দেশ কার্কির নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়েছে।
- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি নির্মূলে মনোযোগ দেবে।
নেপালের ভবিষ্যতের মূল বিষয়সমূহ
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরাপত্তা বাহিনী, যুবক, সামাজিক গোষ্ঠী এবং বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন উপভোগ করছে।
- প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো দুর্নীতিগ্রস্ত বুরোক্রেসির সাথে কাজ করে স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- রাজনৈতিক দলগুলো এখন জনস্বার্থ, প্রজন্মের মধ্যে সংলাপ এবং জবাবদিহিতামূলক নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য।
সারসংক্ষেপ ও উপসংহার
- সুষিলা কার্কির নিয়োগ নেপালে নারী নেতৃত্বের জন্য মাইলফলক এবং গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ সরকারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যুবাদের আকাঙ্ক্ষা, রাজনৈতিক সংস্কার এবং দুর্নীতি বিরোধী পদক্ষেপের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
- নেপালের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত তার নেতৃত্বের সাফল্য বা ব্যর্থতার উপর নির্ভর করবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন ১: সুষিলা কার্কি কখন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হন?
উত্তর: ফেব্রুয়ারি ২০২৫, যুবাদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের পর।
প্রশ্ন ২: তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি সাফল্য কী?
উত্তর: নারীদের তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত একজন মন্ত্রীকে জেলে পাঠানো।
প্রশ্ন ৩: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ কী?
উত্তর: ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পুনর্নির্মাণ, সময়মতো নির্বাচন পরিচালনা এবং দুর্নীতি নির্মূল করা।
