Friday, January 2, 2026
Homeফোটোগ্যালারিকণিকা সদানন্দের কাস্টিং কাউচ অভিজ্ঞতা: “ক্ষুধার্ত সিংহদের খাওয়াও,” বড় ব্যানারের ছবি থেকে...

কণিকা সদানন্দের কাস্টিং কাউচ অভিজ্ঞতা: “ক্ষুধার্ত সিংহদের খাওয়াও,” বড় ব্যানারের ছবি থেকে বাদ পড়লেন তিনি

Advertisement

ভূমিকা

বলিউড বরাবরই তার আভিজাত্য, ঝলমলে আলো আর বিশালতায় মুগ্ধ করেছে দর্শকদের। তবে এই ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক অন্ধকার দিক—কাস্টিং কাউচ। বছরের পর বছর ধরে বহু অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, যেখানে শিল্পের ভেতরের বিষাক্ত ক্ষমতার রাজনীতি ফাঁস হয়েছে। সর্বশেষ যিনি মুখ খুললেন, তিনি নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কণিকা সদানন্দ

চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে তাঁর প্রভাবশালী পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পরিচিত কণিকা খ্যাতি ও স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। কিন্তু বলিউডে সাফল্য অনেক সময়েই আসে বড় মাশুল দিয়ে। সম্প্রতি তিনি এক ভয়াবহ ঘটনার কথা জানান, যেখানে শুধুমাত্র আপস করতে রাজি না হওয়ার জন্যই বড় ব্যানারের একটি ছবির সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল তাঁর। তাঁর এই কাহিনি শুধু বিনোদন জগতের নারীদের সংগ্রামই নয়, বরং শোষণ ও পরিবর্তনের জরুরি প্রয়োজন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

Advertisement

কণিকা সদানন্দ: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় মুখ

নব্বইয়ের দশকে কণিকা সদানন্দ অসংখ্য বলিউড ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি নায়িকা না হলেও তাঁর উপস্থিতি পর্দায় ছাপ ফেলেছিল। ভক্তরা পছন্দ করতেন তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বকে। ফলে তিনি সেই সময়ের অন্যতম পরিচিত পার্শ্ব অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন।

Advertisement

তবে তাঁর কেরিয়ার খুব একটা সহজ ছিল না। সাফল্য ও জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁকে শিল্পের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল কাস্টিং কাউচ সংস্কৃতি, যেখানে প্রতিভা বা দক্ষতার বাইরের শর্তে কাজের সুযোগ পাওয়া যেত।

Advertisement

কাস্টিং কাউচের অভিজ্ঞতা: “ক্ষুধার্ত সিংহদের খাওয়াও”

এক চাঞ্চল্যকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে কণিকা বলেন, তাঁকে একবার একটি বড় প্রযোজনা সংস্থার সিনেমার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। সব আলোচনা সম্পন্ন হয়েছিল এবং সাইনিং অ্যামাউন্ট নিতে তাঁকে অফিসে ডাকা হয়। তখন তিনি ভেবেছিলেন তাঁর কেরিয়ার বড় মোড় নিতে চলেছে।

কিন্তু সবকিছু হঠাৎ করেই ভয়ঙ্কর দিকে মোড় নেয়। কণিকার দাবি, এক নারী প্রযোজক তাঁকে অবমাননাকর প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন:

“আমাকে বলা হয়েছিল, যেহেতু তারা দু’জন ক্ষুধার্ত সিংহ নিয়ে আসছে, তাই আমাকে তাঁদের মাংস খাওয়াতে হবে।”

এই কুরুচিপূর্ণ উপমাই বোঝাচ্ছিল প্রকৃত অর্থ। কণিকা আপস করতে রাজি হননি, আর সেই কারণেই তাঁর সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন:

“আমি সাইনিং অ্যামাউন্ট নিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে জানানো হয় আমি বদলে গেছি কারণ আমি তাঁদের শর্ত মানিনি।”

এই অপমান তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়। শুধু বড় সুযোগ হারাননি, বরং অপমানিত হয়েছিলেন এই ভেবে যে প্রতিরোধ করায় তাঁকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়েছে।

এক নারী দ্বারা আরেক নারীর শোষণ

কণিকার এই কাহিনিকে আরও ভয়ঙ্কর করে তুলেছে যে প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন একজন নারী প্রযোজক। সাধারণত কাস্টিং কাউচকে পুরুষ প্রযোজক বা প্রভাবশালী পুরুষদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। তবে এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে ক্ষমতার অপব্যবহার লিঙ্গ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়

এটি দেখায়, কীভাবে বলিউডে শোষণ এতটাই প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল যে নারী কর্তৃপক্ষও সেই চক্রের অংশ হয়ে উঠেছিল।

Also Read:ক্র্যাবির মায়াময় অরণ্যে দেব-ইধিকার প্রেম: ‘রঘু ডাকাত’-এর নতুন গান ঝিলমিল লাগে রে দর্শকদের মাতাচ্ছে!

দর্শকদের সমর্থন ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া

কণিকার প্রকাশ্য মন্তব্যের পর ভক্তরা বিস্ময় ও সমর্থন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে প্রশংসা করা হচ্ছে সাহসের জন্য, এত বছর পর মুখ খোলার পরও। অনেকেই বলেছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা অগণিত শিল্পীর গল্পকে প্রতিফলিত করে, যারা ভয়ে চুপ থেকে যায়।

অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে #MeToo আন্দোলন-এর তুলনা করেছেন। তাঁদের মতে, অগ্রগতি হলেও বলিউড থেকে শোষণ দূর করার পথ এখনও দীর্ঘ।

কেন কণিকার প্রকাশ আজও প্রাসঙ্গিক

কণিকার এই অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, আজকের বিনোদন জগতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।

  • কাস্টিং কাউচ এখনও প্রাসঙ্গিক: সচেতনতা প্রচার সত্ত্বেও শোষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
  • লিঙ্গভিত্তিক ধ্যানধারণা ভাঙা: তাঁর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে নারীরাও শোষণের অংশীদার হতে পারে।
  • আপসের চেয়ে সাহস: কণিকা কেরিয়ারের বড় সুযোগ হারিয়েছিলেন, কিন্তু আত্মসম্মান বজায় রেখেছেন।
  • নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: তাঁর গল্প তরুণ শিল্পীদের জানায় যে আত্মমর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা সবার আগে।
  • শিল্পের দায়িত্ববোধ: নিরাপদ কাজের পরিবশ ও জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করা জরুরি।

কণিকা সদানন্দের কাস্টিং কাউচ কাহিনি: সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQs)

প্রশ্ন ১. কণিকা সদানন্দ কে?
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী, যিনি চলচ্চিত্র ও টিভিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য পরিচিত।

প্রশ্ন ২. তাঁর কাস্টিং কাউচ অভিজ্ঞতায় কী ঘটেছিল?
তিনি বড় ব্যানারের ছবির জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন, কিন্তু আপত্তিকর শর্ত মানতে অস্বীকার করায় তাঁকে বাদ দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৩. এখন কেন তাঁর প্রকাশ গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ এটি প্রমাণ করে যে বলিউডে এখনও শোষণ রয়েছে এবং নতুন প্রজন্মকে সতর্ক করে।

প্রশ্ন ৪. প্রস্তাবটি কে দিয়েছিলেন?
আশ্চর্যজনকভাবে, একজন নারী প্রযোজক এই অপমানজনক শর্ত দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন ৫. দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন?
অধিকাংশ ভক্ত তাঁর সাহসকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং আলোচনায় নতুন করে আগুন জ্বেলেছেন।

উপসংহার

কণিকা সদানন্দের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বলিউডের ঝলকানির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার জগৎ, যেখানে অনেককেই ভূমিকায় সুযোগ পাওয়ার জন্য আপস করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। বহু বছর পর সাহস করে মুখ খোলা তাঁর জন্য যেমন তা ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বৃহত্তর সমাজের জন্যও তা আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে।

শোষণের কাছে মাথা নোয়ানোর বদলে মর্যাদার পথ বেছে নিয়ে কণিকা আজকের প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর গল্প প্রমাণ করে, খ্যাতি ও সাফল্যের প্রলোভন যত বড়ই হোক, আত্মমর্যাদা কোনোদিন বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।

কণিকার এই চাঞ্চল্যকর কাস্টিং কাউচ অভিজ্ঞতা নিয়ে আপনার কী মত? আপনি কি মনে করেন বলিউড নব্বইয়ের দশকের পর থেকে পরিবর্তন হয়েছে? মন্তব্যে জানাতে ভুলবেন না এবং আরও বলিউড আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত