Advertisement
ভূমিকা
ভাবুন তো, প্রায় দুই দিন ধরে এয়ারপোর্টে বসে আছেন, কিন্তু জানেনই না কখন বাড়ি ফিরতে পারবেন। বিমানের প্রায় ১৮০ জন যাত্রী এমনই এক দুঃসহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন দুবাইয়ে। মঙ্গলবার রাতে ফ্লাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা দুবাইতে আটকা পড়েন।
এটা শুধু একটি ছোটখাটো বিলম্ব নয়; বরং বিমানের নিরাপত্তা, প্রস্তুতি এবং সুনাম নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
Advertisement
দুবাইয়ে কী ঘটেছিল?
- মঙ্গলবার রাতে দুবাই থেকে ঢাকাগামী একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু ফ্লাইটটি প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে ছাড়তে পারেনি।
- যাত্রীদের হোটেলে পাঠানো হয় এবং বলা হয় দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে।
- বুধবার খুচরা যন্ত্রাংশ আনা হলেও মেরামত কাজ সফল হয়নি।
- রাতে আবার যাত্রীদের এয়ারপোর্টে ডাকা হয়, কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।
- অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে একটি বোয়িং ৭৭৭ পাঠানো হয় দুবাইয়ে।
- যাত্রীরা প্রায় ৪৬ ঘণ্টা অপেক্ষার পর দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
এটাই প্রথম ঘটনা নয়। গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার বিমানের ফ্লাইটে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ছিল:
Advertisement
- টায়ার ফেটে যাওয়া,
- ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক কম্পন,
- কেবিনে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপদেষ্টা এস. কে. বশিরউদ্দিন বলেছেন:
Advertisement
“বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যা সরাসরি যাত্রীদের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। ম্যানেজমেন্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগকে দ্রুত দায়িত্বশীলভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
যাত্রীদের ভোগান্তি ও মানসিক চাপ
৪৬ ঘণ্টার অপেক্ষায় যাত্রীরা ভীষণ কষ্টের মধ্যে পড়েন।
- বারবার ফ্লাইট সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।
- বয়স্ক ও শিশু যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা ছিল সবচেয়ে কষ্টকর।
- হোটেল দেওয়া হলেও স্পষ্ট ও সময়মতো তথ্য না পাওয়ায় হতাশা বেড়েছে।
আজকের এয়ারলাইন শিল্পে আস্থা ও গ্রাহকসেবা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ঘটনা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে।
Also read:যশোর সীমান্তে ১০ বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার চেষ্টা করতে ধরা হয়েছে
বড় ছবি: বহরের সমস্যা ও সুনামের ঝুঁকি
দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের কাছে প্রথম পছন্দ ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু বারবার প্রযুক্তিগত সমস্যায় সেই বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে।
মূল সমস্যাগুলো হলো:
- পুরনো উড়োজাহাজ, যেগুলোতে বারবার মেরামতের প্রয়োজন হয়,
- জরুরি অবস্থায় দুর্বল সংকট ব্যবস্থাপনা,
- যাত্রীদের মনে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ ও তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীরা যাত্রীদের আস্থা সহজেই দখল করে নিতে পারে।
এয়ারলাইনসগুলোর শেখার বিষয়
- প্রেডিক্টিভ মেইনটেন্যান্স: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগেভাগে সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করা।
- পরিষ্কার যোগাযোগ: যাত্রীদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া।
- ব্যাকআপ এয়ারক্রাফট: জরুরি সময়ে বিকল্প উড়োজাহাজ প্রস্তুত রাখা।
- যাত্রী সেবা: শুধু হোটেল নয়, খাবার, চিকিৎসা সহায়তা ও ডিজিটাল আপডেট নিশ্চিত করা।
প্রশ্নোত্তর
যাত্রীদের এত দেরি কেন হলো?
– নির্ধারিত ৭৮৭ ড্রিমলাইনারে সমস্যা হয়েছিল, মেরামত ব্যর্থ হয়, এবং নতুন উড়োজাহাজ পাঠাতে সময় লাগে।
কতগুলো উড়োজাহাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে সম্প্রতি?
– গত দুই মাসে অন্তত ১০ বার প্রযুক্তিগত সমস্যা রিপোর্ট হয়েছে।
বিমান কি নিরাপদ?
– আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখলেও বারবার ব্যর্থতা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও আস্থার উপর প্রভাব ফেলছে।
কর্তৃপক্ষ কী করেছে?
– বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ইঞ্জিনিয়ারিং ও অপারেশনসে দ্রুত পরিবর্তন আনার নির্দেশ দিয়েছে।
শেষকথা
দুবাইয়ের ঘটনা প্রমাণ করে, বিমানের বহর ব্যবস্থাপনা ও সংকট মোকাবিলা প্রক্রিয়া দ্রুত উন্নত করা জরুরি। নইলে যাত্রীদের আস্থা হারানোর পাশাপাশি জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের সুনামও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
