Advertisement
ভূমিকা
সোমবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে স্বল্প সময়ের জন্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের আহত বা ভবনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলায়।
যদিও কম মাত্রার ছিল, তবে এটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে সিলেট ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং প্রস্তুত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
Advertisement
ভূমিকম্পের তথ্য
- সময়: দুপুর ১২টা ২০ মিনিট
- মাত্রা: রিখটার স্কেলে ৪.০
- কেন্দ্রস্থল: সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা
- প্রভাবিত এলাকা: সিলেট ও আশপাশ
কম মাত্রার হলেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল, ফলে মানুষ ঘর-বাড়ি ও অফিস থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় ছুটে যায়।
Advertisement
সিলেটের ভূমিকম্প ইতিহাস
- সিলেট বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকির সিসমিক জোন-২ এ অবস্থিত, যা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল।
- গত দশ বছরে এলাকায় কয়েকটি ছোটখাটো ভূমিকম্প হয়েছে।
- ভুটান, ভারত ও মিয়ানমারের ফল্ট লাইনের কাছাকাছি অবস্থান করায় বড় ভূমিকম্পের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
আবহাওয়া অধিদপ্তর:
“এই ভূমিকম্প খুব বেশি শক্তিশালী ছিল না, তাই কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। তবে সিলেটের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে এবং ভূমিকম্পে নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে হবে।”
Advertisement
ভূতাত্ত্বিকরা:
ছোট ভূমিকম্প অনেক সময় বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ে জরুরি প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের প্রতিক্রিয়া
- অনেকেই ঘরবাড়ি ও অফিস ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ সরাসরি অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন শেয়ার করেছেন—“এটা কি শুধু ছোট একটা কম্পন, নাকি বড় কিছুর ইঙ্গিত?”
ভূমিকম্পে করণীয় নিরাপত্তা নিয়ম
যদি ঘরের ভেতরে থাকেন:
- মজবুত আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।
- কাচ বা জানালার কাছ থেকে দূরে থাকুন।
যদি বাইরে থাকেন:
- ভবন, গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি থেকে দূরে যান।
- খোলা জায়গায় অবস্থান করুন।
ভূমিকম্পের পর:
- গুজবে কান দেবেন না, কেবল সরকারি সূত্র থেকে তথ্য নিন।
- জরুরি ব্যাগে পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ইত্যাদি প্রস্তুত রাখুন।
বাংলাদেশের ভূমিকম্প পরিস্থিতি
- গত পাঁচ বছরে দেশে ৫০টির বেশি ছোট ভূমিকম্প হয়েছে।
- সিলেট, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—স্কুল, অফিস ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া চালানো উচিত।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- জাপান ও নেপাল ভূমিকম্প ঝুঁকি কমাতে উন্নত ভবন কোড ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
- বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবন নিরাপত্তা বিধি কঠোর করার পরিকল্পনা করছে।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
প্রশ্ন ১: ৪.০ মাত্রার ভূমিকম্প কি বিপজ্জনক?
সাধারণত এই মাত্রার ভূমিকম্প হালকা হয় এবং বড় কোনো ক্ষতি করে না।
প্রশ্ন ২: সিলেটে কেন এত ভূমিকম্প হয়?
এলাকাটি একাধিক ফল্ট লাইনের কাছাকাছি হওয়ায় ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন ৩: সরকার কী করছে?
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ইউনিট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
উপসংহার ও আহ্বান
যদিও সোমবারের ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতি হয়নি, এটি প্রমাণ করে যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ঘরে, স্কুলে ও কর্মস্থলে নিয়মিত ভূমিকম্প নিরাপত্তা অনুশীলন করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
