Friday, January 2, 2026
Homeট্রেন্ডিংস্মার্ট ডিভাইসে আসক্তি: শিশু ও কিশোরদের জন্য একটি ঝুঁকি

স্মার্ট ডিভাইসে আসক্তি: শিশু ও কিশোরদের জন্য একটি ঝুঁকি

Advertisement

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫— আজকাল শিশুরা ও কিশোররা অনেক বেশি ডিজিটাল ডিভাইস, যেমন স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ব্যবহার করছে। সব বয়সের শিশুরা দিনের অধিকাংশ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটায়। গাজী আয়ান ও রায়হানের কাহিনী দেখায় যে, ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্য ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ফোনের আসক্তি শিশুদের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে

শিক্ষাগত ফলাফলের হ্রাস

গাজী আয়ানের মা, তামন্না তানিয়া, বলেন যে তাঁর ছেলে সারাদিন ফোনে ব্যস্ত থাকে এবং মাত্র এক বা দুই ঘন্টা পড়াশোনার সময় পায়।
ফলে শিশুরা শেখার প্রতি আগ্রহ হারায় এবং শিক্ষাগত উন্নয়ন ধীরগতি লাভ করে।

Advertisement

পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের প্রভাব

রায়হান ও রেইজার সহ অনেক শিশুর মতোই ফোন না থাকলে তারা অস্থির ও রাগান্বিত হয়ে ওঠে।
ফলে বাড়িতে ঝগড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

Advertisement

শারীরিক স্বাস্থ্য প্রভাব

স্ক্রিনের সামনে অতিরিক্ত সময় কাটালে ঘুমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি, চোখের সমস্যা হতে পারে।
প্রফেসর ড. এ.বি.এম. আবদুল্লাহ বলেন, ডিভাইস থেকে নির্গত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

Advertisement

গবেষণা ও পরিসংখ্যান

  • CDC-এর ২০২২ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৬ মিলিয়ন শিশু ও কিশোর অতিরিক্ত স্ক্রিন সময়ের কারণে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছে।
  • ভারতীয় চার্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কর্নিয়া ও রেটিনার ক্ষতি করতে পারে।
  • ড. নিকোলাস কার্ড্রাস এটিকে “ডিজিটাল ড্রাগ আসক্তি” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

মানসিক প্রভাব

আচরণ ও অনুভূতির পরিবর্তন

  • শিশুরা ফোন ব্যতীত উদ্বিগ্ন, রাগান্বিত ও সামাজিকভাবে দূরে থাকার প্রবণ হয়ে ওঠে।
  • বিশেষজ্ঞরা বলেন, মনোযোগ সময়কাল ও ধৈর্য কমে যায়, যা আচরণ ও শেখার উপর প্রভাব ফেলে।

আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক দক্ষতা হ্রাস

  • অনলাইন গেম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন এবং নতুন মানুষের সাথে মেলামেশা করতে কঠিন করে তোলে।
  • স্ক্রিনের বেশি সময় সৃজনশীলতা কমিয়ে দেয়।

পিতামাতার জন্য পরামর্শ

  • শিশুদের দৈনিক ২ ঘণ্টার বেশি স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করতে দেবেন না।
  • শিশুদের বাইরে খেলতে উৎসাহিত করুন। পার্ক, খোলা মাঠ ও শারীরিক কার্যক্রম সাহায্য করে স্ক্রিন থেকে মন সরাতে।
  • শিশুকে বয়স উপযোগী বই, গল্প ও সৃজনশীল কাজ দিন।
  • নিজেই ভালো উদাহরণ স্থাপন করুন: শিশুরা আপনার ব্যবহার দেখে শিখবে।
  • নিয়মিত রুটিন বজায় রাখুন: খাওয়া বা ঘুমের সময় ফোন ব্যবহার করবেন না।

আসক্তি কমানোর উপায়

  • শিশুদের জন্য অ্যাপ কন্ট্রোল ব্যবহার করুন এবং স্ক্রিন সময় পর্যবেক্ষণ করুন।
  • সপ্তাহে অন্তত দুইবার ফোন ছাড়া পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।
  • শেখার জন্য উপকারী অ্যাপগুলো মজা করার অ্যাপের উপরে রাখুন।
  • সামাজিক খেলা, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো ও সোশ্যাল কার্যক্রম উৎসাহিত করুন।

Also read:ব্রিটিশ ক্রাউন-এর আসল মূল্য: ঐতিহাসিক ধনসম্পদের এক ঝলক

বিশেষজ্ঞদের মতামত

  • ড. কাজী সাব্বির আনোয়ার: ছোট শিশুদের বেশি ডিভাইস ব্যবহার করা উচিত নয়, এটি চোখ ও মস্তিষ্কের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • ড. নিহাল করিম: “শিশুদের মেডিকেল সহনশীলতা সীমিত; অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় মানসিক ও ভিজ্যুয়াল সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়।”
  • প্রফেসর এ.বি.এম. আবদুল্লাহ: “ডিভাইসের আসক্ত শিশুদের ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়।”

শেষ কথা

স্মার্ট ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু ও কিশোরদের শিক্ষাগত, শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।
পিতামাতাদের উচিত:

  • ফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা স্থাপন করা
  • শিশুদের বাইরে খেলার ও সৃজনশীল কাজ করার জন্য উৎসাহিত করা
  • নিরাপদভাবে ডিভাইস ব্যবহার শেখানো

এই পদক্ষেপগুলো শিশুদের স্বাস্থ্য, পড়াশোনা ও সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

কল টু অ্যাকশন (CTA):


আপনার সন্তান কি অতিরিক্ত সময় ফোন ব্যবহার করছে? আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন এবং আরও সহায়তার জন্য আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত