Saturday, January 3, 2026
Homeএন্টারটেইনমেন্টকানপুরে বর্বর যেৎপাতের ঘটনা: দুলালীর বাড়িতে সাপ অবমুক্ত করল শ্বশুরবাড়ি

কানপুরে বর্বর যেৎপাতের ঘটনা: দুলালীর বাড়িতে সাপ অবমুক্ত করল শ্বশুরবাড়ি

Advertisement

কানপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — কানাইলগঞ্জ, কানপুরে একটি চাঞ্চল্যকর ও ভয়ানক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেশমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা মহিলা দুলালীর বাড়িতে সাপ অবমুক্ত করেছেন কারণ তারা তাদের দাহপত্রের দাবি পূরণ না হওয়ায় রেশমাকে শাস্তি দিতে চেয়েছিলেন।

রেশমার বোন রিজওয়ানা অবশেষে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যদিও সাপের কামড় দেওয়ার পর প্রথমে কোনো সাহায্য করা হয়নি।

Advertisement

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকেও জানানো হয়েছে, যারা এখন মামলার তদন্ত করছেন।

Advertisement

সাপের আক্রমণের ঘটনা

রেশমার বোন রিজওয়ানা জানান:

Advertisement

  • ১৯ মার্চ ২০২১ রেশমা শাহনাওয়াজের সঙ্গে বিয়ে করেন।
  • বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আরও দাহপত্র দাবি করেন।
  • প্রথমে তাকে ১.৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে শ্বশুরবাড়ি আরও ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, শ্বশুরবাড়ি তার বাড়িতে সাপ অবমুক্ত করে, যা রেশমাকে কামড় দেয়।
  • রেশমা চিৎকার করলেও শ্বশুরবাড়ি সাহায্য করতে আসে না। শেষমেষ রেশমা বোন রিজওয়ানার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং রিজওয়ানা তাকে উদ্ধার করতে ছুটে যান।

রেশমার হাসপাতালের অবস্থান

রেশমাকে প্রচণ্ড ব্যথা ও কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ডাক্তাররা জানান, তার অবস্থা সংকটাপন্ন এবং অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন।
হাসপাতালের নথিতে দেখা যায়, তার পা খুবই ফোলা এবং বিষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

আইনগত পদক্ষেপ

রিজওয়ানা পুলিশকে জানানোর পর শাহনাওয়াজ, তার মা ও বাবা-কে অভিযুক্ত করা হয়।
মামলায় আরও কয়েকজন শ্বশুরবাড়ির লোকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যার চেষ্টাসহ অন্যান্য অপরাধ।

দাহপত্র সংক্রান্ত সহিংসতা: ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ

এই ঘটনা দেখায় যে দেশে দাহপত্র সংক্রান্ত সহিংসতা ও নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাহপত্রের দাবির কারণে মহিলাদের প্রতি অত্যাচার ও চাপ বাড়ে।
অনেক নারী সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও সুরক্ষা পান না।
এ ধরনের ঘটনা বন্ধ করতে সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা দ্রুত কার্যকর করতে হবে।

সামাজিক ও আইনি দিক

সামাজিক:

  • নারীর অধিকার লঙ্ঘন
  • পারিবারিক চাপ ও নির্যাতন
  • মহিলাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি

আইনি:

  • পুলিশ ও আদালতকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
  • দাহপত্র সংক্রান্ত সহিংসতার বিরুদ্ধে আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা জরুরি।
  • আক্রান্তদের সুরক্ষা ও অবিলম্বে চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।

Also read:দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম সর্বকালের উচ্চে পৌঁছালো

বিশেষজ্ঞের মতামত

সামাজিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞ:

“দাহপত্রকে কেন্দ্র করে সহিংসতা দেখায় সমাজে নারীদের প্রতি কেমন আচরণ করা হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে নারীদের আইনি সুরক্ষা ও সহায়তা অবিলম্বে প্রদান করা জরুরি।”

আইনি পেশাজীবী:

“মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা উচিত, যাতে অপরাধীরা দন্ডিত হয়। আইন আছে, কিন্তু সব সময় অনুসরণ করা হয় না।”

পরামর্শ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

  • নারীদের এবং পরিবারের সদস্যদের দাহপত্র সংক্রান্ত আইন সম্পর্কে সচেতন করা।
  • পুলিশ এবং কমিউনিটি সার্ভিসের জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা আপডেট রাখা।
  • পরিবারকে নিশ্চিত করতে হবে যে কেউ আহত বা আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত চিকিৎসা পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ও উত্তর

Q1: দাহপত্র সংক্রান্ত সহিংসতার জন্য শ্বশুরবাড়িকে কি শাস্তি দেওয়া যেতে পারে?
A: হ্যাঁ, আইন অনুযায়ী নির্যাতন, হত্যার চেষ্টাসহ হুমকি প্রদানের জন্য মামলায় অভিযুক্ত করা যায়।

Q2: কেউ সাপের কামড়ে আহত হলে কি করবেন?
A: তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান, অ্যান্টি-ভেনম দিন, এবং শান্ত ও নিরাপদ রাখুন।

Q3: সমাজে নারীর অধিকার রক্ষা করার জন্য আমরা কি করতে পারি?
A: সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন সম্পর্কে শিক্ষা, এবং কমিউনিটিতে সাপোর্ট গ্রুপ গঠন করা।

কল টু অ্যাকশন (CTA)

আপনি কি মনে করেন দাহপত্র সংক্রান্ত সহিংসতা রোধে কঠোর শাস্তি প্রয়োজন?
আপনার মতামত কমেন্টে জানান, নিবন্ধটি শেয়ার করুন এবং নারীর অধিকার ও সামাজিক বিষয়ের সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাইন আপ করুন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত