Friday, January 2, 2026
Homeখবরসরকার ৫০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন আমদানি অনুমোদন করেছে

সরকার ৫০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন আমদানি অনুমোদন করেছে

Advertisement

ভূমিকা

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য সরকার ৫০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন (৯৫ অকটেন, আনলেডেড) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এ পদক্ষেপকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং জ্বালানির বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

Advertisement

গ্যাসোলিন আমদানির তথ্য

  • সরবরাহকারী: ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো ইয়াপেন (BSP)।
  • সরবরাহকাল: জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৫।
  • মোট খরচ: ৪১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা (৪.১৩ বিলিয়ন টাকা)।
  • পরিমাণ: ৫০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন (৯৫ অকটেন, আনলেডেড)।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার পটভূমি

বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা বাড়ছে কয়েকটি কারণে:

Advertisement

  • দ্রুত বাড়ছে গাড়ির সংখ্যা।
  • বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আগের চেয়ে বেশি জ্বালানিনির্ভর।
  • শিল্প খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:

Advertisement

  • গত পাঁচ বছরে গ্যাস ব্যবহার বেড়েছে ৩৫%।
  • ঢাকায় দৈনিক জ্বালানির চাহিদা পূর্বের তুলনায় ১৫–২০% বেশি।

সরকারের সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য

  • জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা।
  • পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত রোধ করা।
  • সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করা।
  • কৃত্রিম সংকট ও হঠাৎ দাম বৃদ্ধির সুযোগ বন্ধ করা।

Also read:দুর্গাপূজা ২০২৫: র‌্যাবের কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও গুজব দমনে পদক্ষেপ

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা উন্নয়নশীল দেশগুলোকে চাপে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে:

  • ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
  • তাই বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট এড়াতে সময়মতো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আমদানি করা জরুরি।

BSP-এর সঙ্গে চুক্তি

  • পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো ইয়াপেন (BSP) গত দুই দশক ধরে আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে।
  • এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের উচ্চমানের আনলেডেড অকটেন পাবে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ

ইতিবাচক প্রভাব:

  • জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা আসবে।
  • সরকারি ও বেসরকারি যানবাহনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
  • বাজারে আস্থা ফিরবে।

সম্ভাব্য সমস্যা:

  • টাকার মান ডলারের বিপরীতে কমছে।
  • বৈশ্বিক দামের ঊর্ধ্বগতি।
  • ঋণনির্ভর অর্থনীতির কারণে পরিশোধে সমস্যা হতে পারে।

সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব

সুবিধা:

  • নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ।
  • কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি কমবে।
  • গণপরিবহন আরও সহজ হবে।

সম্ভাব্য অসুবিধা:

  • বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশেও দাম বাড়তে পারে।
  • সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

  • এ সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে বাজারকে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।
  • তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানিতে (সোলার, প্রাকৃতিক গ্যাস, বৈদ্যুতিক যানবাহন) বিনিয়োগ করা জরুরি।

আঞ্চলিক জ্বালানি নীতি তুলনা

  • ভারত: রিফাইনারি খাতে বিনিয়োগ ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে ভর্তুকি দিচ্ছে।
  • চীন: পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ করছে।
  • পাকিস্তান: আমদানি-নির্ভর, তাই দাম প্রায়ই ওঠানামা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) বিনিয়োগ করলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারবে।

প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: কত পরিমাণ গ্যাসোলিন আমদানি করা হবে?
উত্তর: ৫০,০০০ মেট্রিক টন।

প্রশ্ন ২: কোথা থেকে আসবে?
উত্তর: ইন্দোনেশিয়ার BSP কোম্পানি থেকে।

প্রশ্ন ৩: মোট খরচ কত?
উত্তর: প্রায় ৪১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রশ্ন ৪: সাধারণ মানুষের জন্য এর সুবিধা কী?
উত্তর: নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং কৃত্রিম সংকট রোধ হবে।

প্রশ্ন ৫: দাম বাড়তে পারে কি?
উত্তর: হ্যাঁ, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশে দাম বাড়তে পারে।

উপসংহার

সরকারের ৫০,০০০ মেট্রিক টন গ্যাসোলিন আমদানির সিদ্ধান্তকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প জ্বালানি, দেশীয় রিফাইনারি এবং বৈদ্যুতিক পরিবহন ব্যবস্থায় বিনিয়োগই টেকসই সমাধান।

কল টু অ্যাকশন

বাংলাদেশ কি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি চালিয়ে যাবে, নাকি বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত?
আপনার মতামত মন্তব্যে জানান, প্রবন্ধটি শেয়ার করুন এবং সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হোন।

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সবচেয়ে বেশি পঠিত