Advertisement
ভূমিকা
সরকার ও পুলিশ এখনও মাদক চোরাচালানের ওপর নজর রাখছে। সম্প্রতি মা ও কন্যাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ইয়াবা পিল পাচার করতে গিয়ে আটক করা হয়েছে। এটি মাদক চোরদের জন্য একটি কঠোর সতর্কতা।
তদন্তে দেখা গেছে, ৪০ বছর বয়সী রোজিনা এবং তার ২০ বছর বয়সী কন্যা ফাহমিদা ইয়াসমিন ৭,৫৮০ ইয়াবা পিল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন (AAP) সময়মতো উপস্থিত হয়ে পাচার রোধ করে এবং দেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়িয়েছে।
Advertisement
ঘটনার বিস্তারিত
গ্রেফতারকৃতরা:
Advertisement
- রোজিনা, ৪০ বছর বয়সী মা
- ফাহমিদা ইয়াসমিন, ২০ বছর বয়সী কন্যা
তারিখ ও সময়: মঙ্গলবার, ১ জানুয়ারি ২০২৫, ১:৩৫ পিএম
ফ্লাইট: বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স BS-146, কক্সবাজার থেকে ঢাকা
Advertisement
গ্রেফতারের কারণ:
AAP তাদের আচরণ ও তথ্যের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে থামিয়ে তল্লাশি করে।
তল্লাশিতে পাওয়া গেছে:
- দুইটি ট্রলি ব্যাগে লুকানো ৫,৮০০ ইয়াবা পিল
- রোজিনার পোশাকে লুকানো ১,৭৮০ ইয়াবা পিল
আইনগত ব্যবস্থা
- প্রযোজ্য আইন: নেশা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮, ধারা ৩৬(১) এবং ১০(গ)/৪১ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
- দুইজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা চলমান রয়েছে।
- পুলিশ জানিয়েছে, এটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মাদক পাচারের বাড়ন্ত প্রবণতার একটি অংশ।
Also read:মালদা হত্যাকাণ্ড: বাব্বার শেখের দেহ উদ্ধার, দুইজন গ্রেফতার
AAP-এর বক্তব্য
বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার এসপি মোজাম্মেল হক বলেছেন,
“গত কয়েক দিনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মাদক পাচারের চেষ্টা বেড়েছে। আমরা বিমানবন্দরে সকল অবৈধ কার্যক্রম রোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে থাকব।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পাচারকারীরা সহজে দিকভ্রান্ত হতে পারে, কিন্তু AAP-এর কঠোর নজরদারি এই চেষ্টাকে ব্যর্থ করেছে।
ইয়াবা সংক্রান্ত তথ্য
পাচারকারীরা উন্নত উপায় ব্যবহার করেছিলেন:
- ট্রলি ব্যাগের হ্যান্ডেলে ৫,৮০০ পিল
- পোশাকে ১,৭৮০ পিল
মোট উদ্ধার: ৭,৫৮০ পিল, যা দেখায় যে প্রচুর ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
AAP-এর কার্যক্রমের গুরুত্ব
- বিমানবন্দরে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের উপস্থিতি কার্যক্রমকে সফল করেছে।
- আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে।
- এই অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, পুলিশ সব ধরনের মাদক পাচারে নজর রাখছে।
নিরাপত্তা ও সমন্বয়:
- পাচার রোধে সিসিটিভি ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
- AAP ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ ফলপ্রসূ হয়েছে।
- এটি মানুষকে আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও সচেতন করছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: গ্রেফতারকৃতরা কে?
উত্তর: রোজিনা (৪০) এবং ফাহমিদা ইয়াসমিন (২০)
প্রশ্ন ২: তারা কোন ফ্লাইটে ছিলেন?
উত্তর: BS-146, কক্সবাজার থেকে ঢাকা
প্রশ্ন ৩: কতটি ইয়াবা পিল উদ্ধার করা হয়েছে?
উত্তর: ৭,৫৮০ পিল
প্রশ্ন ৪: আদালতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: নেশা নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের এবং দুজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৫: বিমানবন্দর পুলিশ কী করছে?
উত্তর: অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মাদক পাচার রোধে আধুনিক প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ব্যবহার করছে।
উপসংহার
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মা ও কন্যাকে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা করতে গিয়ে গ্রেফতার করা পুলিশ কতটা সতর্ক এবং কার্যকর তা প্রমাণ করে। AAP-এর কার্যকরী পদক্ষেপ শুধু পাচার রোধেই নয়, মানুষের মধ্যে আইন অনুসরণের সচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেছে।
কল টু অ্যাকশন
আপনি কি মনে করেন, বিমানবন্দরগুলো আরও কী কী ব্যবস্থা নিতে পারে মাদক পাচার রোধ করতে? মন্তব্যে জানান এবং সর্বশেষ সংবাদ পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
