Advertisement
ভূমিকা
ইসরায়েলি নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক “গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা” বহরের প্রায় সবগুলো জাহাজ আটক করেছে, যেগুলো গাজামুখী ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৪টির মধ্যে ৪৩টি জাহাজ আটক করা হয়েছে বা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়ে গেছে। আয়োজকদের মতে, এখনো একটি জাহাজ গাজার দিকে এগোচ্ছে।
কনভয়টিতে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বহন করা হচ্ছিল, যেখানে জাতিসংঘ ইতিমধ্যেই দুর্ভিক্ষসদৃশ পরিস্থিতির বিষয়ে সতর্ক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও রয়েছেন। ইসরায়েল জানিয়েছে, সকল কর্মীকে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।
Advertisement
এই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তুরস্কসহ অনেক দেশ ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা করেছে, আর যুক্তরাজ্য জানিয়েছে তারা “গভীর উদ্বিগ্ন”।
Advertisement
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা: পটভূমি ও লক্ষ্য
- যাত্রা শুরু: প্রায় ৪৪টি জাহাজ গত মাসে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
- অংশগ্রহণকারী: রাজনীতিবিদ, মানবাধিকার কর্মী, শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বরা, যাদের মধ্যে গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন।
- উদ্দেশ্য: ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে গাজার জনগণের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
- কার্গো: খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম।
আয়োজকদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ মানবিক মিশন। কিন্তু ইসরায়েলের মতে, এটি “দাতব্য কাজের নামে রাজনৈতিক উস্কানি”।
Advertisement
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানায়:
- তারা আগে থেকেই বহরকে সতর্ক করেছিল যেন গাজার জলসীমায় প্রবেশ না করে।
- এ ধরনের ফ্লোটিলা “সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে সরবরাহ পৌঁছে দিতে পারে” বলে ঝুঁকি রয়েছে।
- আটককৃতদের “আইনসঙ্গত ও মানবিকভাবে” আচরণ করা হচ্ছে এবং তাদের ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে।
- গাজার অবরোধ “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।”
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া
- কলম্বিয়া: ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করেছে। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, “মানবিক সাহায্য আটকানো অগ্রহণযোগ্য।”
- মালয়েশিয়া: প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ঘটনাটিকে “নিষ্ঠুর ও অন্যায্য” বলেছেন।
- পাকিস্তান: প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “গাজার মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানো মানবিক কর্তব্য; একে আটকানো অমানবিক।”
- তুরস্ক: সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
- যুক্তরাজ্য: পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, “মানবিক সাহায্য আটকানো উদ্বেগজনক।”
গ্রেটা থানবার্গের প্রতীকী অংশগ্রহণ
জলবায়ু আন্দোলনের জন্য পরিচিত গ্রেটা থানবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
বুধবার তার জাহাজও আটক করা হয় এবং তাকে অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে একটি ইসরায়েলি বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়।
Also read:হুমায়রা সুবাহর চমকপ্রদ প্রকাশ: এমপি ও মন্ত্রীরা প্রপোজ করেছেন, “সুগার মামি” হওয়ার স্বপ্ন
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা: গাজায় দুর্ভিক্ষ
জাতিসংঘ বহুবার সতর্ক করেছে যে গাজায় মারাত্মক খাদ্য সংকট চলছে।
- লাখো মানুষ জরুরি সহায়তার উপর নির্ভরশীল।
- হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে প্রায় অকার্যকর।
- শিশুদের অপুষ্টি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ফ্লোটিলার প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন দেখা যাচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
ফ্লোটিলার প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?
গাজার জনগণের কাছে খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া।
কতগুলো জাহাজ আটক হয়েছে?
৪৩টি জাহাজ আটক বা নিখোঁজ হয়েছে, মাত্র একটি এখনও বাকি।
গ্রেটা থানবার্গের কী হয়েছে?
তাকে গ্রেফতার করে ইসরায়েলি বন্দরে নেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে ইউরোপে পাঠানো হবে।
বিশ্ব কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে?
কলম্বিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিন্দা করেছে, আর যুক্তরাজ্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উপসংহার
গাজা ফ্লোটিলা আটক ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের নতুন অধ্যায়। মানবিক সহায়তা আটকানো কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি এক ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আরও খারাপ করে তোলে।
বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা দেখাচ্ছে—এই ঘটনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বৈশ্বিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
আপনার কী মনে হয়?
জাতীয় নিরাপত্তার নামে মানবিক সাহায্য আটকানো কি গ্রহণযোগ্য, নাকি এটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন?
