Advertisement
ভূমিকা
পশ্চিমা প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ থেকে আজ বলিউডের উজ্জ্বল তারকাদের একজন—সানি লিওনির জীবনযাত্রা এক অনন্য এবং অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনি।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি খোলাখুলি নিজের অতীত নিয়ে কথা বলেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি তখনকার “সেরা কোম্পানিগুলির” সঙ্গে কাজ করেছিলেন। তিনি এগুলিকে ভারতের ধর্মা প্রোডাকশনস এবং যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
Advertisement
তার এই সাহসী মন্তব্য সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয় এবং আবারও মনে করিয়ে দেয় তার দীর্ঘ সংগ্রামমুখর অথচ অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রার কথা।
Advertisement
সানি লিওনির অতীত: কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তার গল্প
সানি জানান, অন্যদের মতো তার সাফল্য রাতারাতি আসেনি।
Advertisement
তাকে তার সহকর্মীদের তুলনায় অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে।
তিনি কখনও ক্যারিয়ারে তাড়াহুড়োতে বিশ্বাস করেননি।
তার নিজের ভাষায়: “গতিই কখনও আমার জিনিস ছিল না। আমাকে সবসময় দ্বিগুণ বা তিনগুণ পরিশ্রম করতে হয়েছে।”
মূল অন্তর্দৃষ্টি:
সানি লিওনির সাফল্য শুধুমাত্র ভাগ্যের কারণে নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম, ধারাবাহিকতা এবং পেশাদারিত্বের ফল।
ধর্মা ও যশরাজের মতো, সেরাদের সঙ্গে কাজ
সানি বলেন, পশ্চিমে তিনি যেসব কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছেন তারা তাকে একই সম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা দিয়েছিল, যেটা ভারতের বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলি এখন দেয়।
বিশ্বাস ও পেশাদারিত্ব: তিনি জোর দিয়ে বলেন যে সেসব কোম্পানি সবসময় তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করত এবং চুক্তি মেনে চলত।
ন্যায্য আচরণ: তিনি নিশ্চিত করতেন যেন কখনও তাকে সুযোগসন্ধানীভাবে ব্যবহার করা না হয় বা অন্যায়ভাবে আচরণ না করা হয়।
এই তুলনা দেখায় তিনি নিজের কাজ কতটা গুরুত্ব দিয়ে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে করেন।
দ্য পডকাস্ট শো
সানি খোলাখুলি এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন বিয়ারবাইসেপস ইউটিউব পডকাস্টে।
তিনি তার অতীত লুকোননি।
তিনি তার বর্তমান জীবন ও কাজ নিয়েও কথা বলেছেন।
সানি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি অতীত নিয়ে লজ্জিত নন। বরং গর্বিত, কারণ এটি তাকে আজকের শক্তি ও স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।
সানি লিওনির বলিউড যাত্রা: এক নতুন নাম
সানি ধীরে ধীরে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেন জিসম ২, রাগিনী এমএমএস, এবং পরে এক পহেলি লীলা ছবির মাধ্যমে।
শুরুতে তাকে সমালোচনা ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হয়েছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলায় তার কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার কারণে।
আজ তিনি একজন সিরিয়াস অভিনেত্রী এবং এক গ্ল্যামার আইকন হিসেবে পরিচিত।
Also read:সায়রার পর আহান পান্ডের নায়িকা কে হবেন?
সর্বশেষ মুক্তি: “কেনেডি”তে সানি লিওনি
কান চলচ্চিত্র উৎসবে সম্প্রতি প্রদর্শিত হয়েছে সানির নতুন ছবি কেনেডি।
পরিচালক: অনুরাগ কাশ্যপ
সহ-অভিনেতা: রাহুল ভাট
ধরন: ক্রাইম থ্রিলার
ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পেয়েছে। তবে ভারতে কবে মুক্তি পাবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
সানি লিওনির যাত্রা থেকে জীবনের শিক্ষা
- কঠোর পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
- পেশাদারিত্ব সবসময় সাফল্য এনে দেয়।
- অতীত লুকিও না; বরং তা শক্তি হিসেবে ব্যবহার করো।
- সময় লাগলেও ধারাবাহিকতা সবসময় ফল দেয়।
সাধারণ প্রশ্নোত্তর
১. সানি লিওনি তার অতীত সম্পর্কে কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন যে তিনি বিশ্বের সেরা কোম্পানিগুলির সঙ্গে কাজ করেছিলেন এবং এগুলিকে বলিউডের ধর্মা প্রোডাকশনস ও যশরাজ ফিল্মসের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
২. সানি লিওনি কি তার অতীত নিয়ে লজ্জিত?
না। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন যে তার অতীত তাকে আজকের মানুষ বানিয়েছে এবং আরও শক্তিশালী করেছে।
৩. সানি লিওনির সর্বশেষ সিনেমা কোনটি?
তার সর্বশেষ সিনেমা হলো অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত কেনেডি।
৪. ভারতে কেনেডি কবে মুক্তি পাবে?
ভারতে মুক্তির তারিখ এখনও নিশ্চিত হয়নি।
শেষ কথা
সানি লিওনির স্পষ্ট মন্তব্য আবারও প্রমাণ করে যে তিনি নিজের যাত্রাকে কেবল স্বীকারই করেন না, বরং গর্বের সঙ্গে উদযাপনও করেন। তার গল্প তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বড় শিক্ষা—পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং নিজের অতীতকে শক্তি হিসেবে গ্রহণ করাই আসল সাফল্যের চাবিকাঠি।
