Advertisement
ভূমিকা
খেলাধুলা প্রায়ই রাজনীতির ঊর্ধ্বে বিবেচিত হয়, তবে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক বারবার ক্রিকেটে প্রভাব ফেলেছে। সম্প্রতি জানা গেছে, আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) খেলোয়াড়দের পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন না করার নির্দেশ দিয়েছে।
এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ এশিয়া কাপে ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে গিয়েছিল। এখন সেই বিতর্ক মহিলাদের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও গড়িয়েছে।
Advertisement
প্রশ্ন উঠছে:
Advertisement
- এটা কি শুধুই একটি ক্রিকেট প্রটোকল?
- নাকি রাজনীতি খেলাটিকে ছাপিয়ে যাচ্ছে?
- আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এর ফলে ক্রিকেটের ভবিষ্যতে কী প্রভাব পড়বে?
এই নিবন্ধে আমরা এই বিতর্কের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ করব—পটভূমি, সরকারি বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, জনমত, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সম্ভাব্য সমাধানসহ।
Advertisement
পটভূমি: এশিয়া কাপ থেকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত
ভারতের অবস্থান ও করমর্দন এড়ানো
এশিয়া কাপে, ম্যাচ শেষে বা টসের পর ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করেনি।
বিশেষ করে সূর্যকুমার যাদব এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানান।
এ ধরনের কাজ ক্রিকেটের খেলাধুলার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে:
- BCCI স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করবে না।
- এক সূত্রের দাবি: “বোর্ড কর্তারা খেলোয়াড়দের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, পাকিস্তানি দলের সঙ্গে করমর্দন নয়।”
বিশ্বকাপ ২০২৪: পরিস্থিতি কি বদলাবে?
BCCI সচিবের অস্পষ্ট উত্তর
BBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে BCCI সচিব দেবজিৎ শইকিয়া বলেন:
“আমি এখন কিছু বলব না। তবে ভারত MCC-এর সব নিয়ম মেনে চলবে। করমর্দন হবে কি না, আমি নিশ্চিত করতে পারছি না।”
খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড় অমনজোত কৌরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি।
এতে বোঝা যায়, দলের ভেতরেও কোনো স্পষ্ট নীতি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত: খেলা নাকি রাজনীতি?
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের অবস্থান
অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের মতে, এই নীতি খেলাধুলার মূল চেতনার ক্ষতি করবে।
“করমর্দন এড়ানো মানে কেবল সম্পর্কের টানাপোড়েন নয়, বরং ক্রিকেটের আত্মাকেই আঘাত করা।”
আন্তর্জাতিক মন্তব্য
ESPN এবং Cricbuzz-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই অবস্থান ICC-এর Spirit of Cricket Code এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা খেলোয়াড়দের পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বের ওপর জোর দেয়।
জনমত
সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক
#HandshakeControversy, #IndiaVsPakistan, #SpiritOfCricket-এর মতো হ্যাশট্যাগ টুইটার ও ফেসবুকে ট্রেন্ড করেছে।
- পাকিস্তানি ভক্তদের মন্তব্য: “ভারত রাজনীতির জন্য খেলাধুলা বিসর্জন দিচ্ছে।”
- ভারতীয় ভক্তরা বিভক্ত — কেউ সমর্থন করছেন, কেউ আবার এটিকে খেলাধুলার মূলনীতির বিরুদ্ধে বলছেন।
Also read:চাল, ডাল, আটা, তেল ও মাংসের দাম বৃদ্ধি – ২০২৪ সালের বিশ্লেষণ
ক্রিকেট ভক্তদের দৃষ্টিভঙ্গি
অনেকেই বলছেন:
“খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্মান থাকা জরুরি; রাজনীতি খেলার বাইরে থাকা উচিত।”
সম্ভাব্য প্রভাব
- খেলার আত্মা – তরুণ ক্রিকেটাররা খেলাধুলার আসল শিক্ষাই হারাতে পারে।
- ভারত-পাক ম্যাচের চাপ বৃদ্ধি – আগেই এই ম্যাচগুলোতে চাপ তুঙ্গে থাকে; বিতর্ক তা আরও বাড়াবে।
- আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি – ভারতের অবস্থান বৈশ্বিক ক্রিকেটে তার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তথ্য ও বর্তমান অবস্থা
- BCCI এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি, তবে সূত্রের দাবি—নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া অস্পষ্ট, প্রকাশ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেই।
- ICC নিয়ম অনুযায়ী করমর্দন বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি ক্রিকেট নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
প্রশ্ন ১: বিশ্বকাপে ভারতীয় খেলোয়াড়রা কি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করবে?
উত্তর: প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তারা করবে না, তবে BCCI কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
প্রশ্ন ২: করমর্দন এড়ানো কি ক্রিকেট আইনের বিরুদ্ধে?
উত্তর: আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, তবে এটি Spirit of Cricket-এর বিরুদ্ধে ধরা হয়।
প্রশ্ন ৩: এই বিতর্ক কি পুরোপুরি রাজনৈতিক?
উত্তর: অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এটি দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন।
প্রশ্ন ৪: এতে কি ভারত-পাক ম্যাচের জনপ্রিয়তা কমবে?
উত্তর: জনপ্রিয়তা কমবে না, তবে এই ম্যাচগুলোর আবহ আরও বিতর্কিত ও উত্তেজনাপূর্ণ হবে।
উপসংহার
ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সবসময়ই সংবেদনশীল বিষয়। এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপে করমর্দন বিতর্ক আবারও দেখিয়ে দিল কীভাবে রাজনীতি খেলাধুলায় প্রবেশ করছে।
ভক্তরা চান, ক্রিকেট যেন শুধু খেলাই থাকে। নইলে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতির সেতু হওয়ার বদলে এই খেলা বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
আহ্বান
আপনার মত কী? খেলাধুলা কি রাজনীতিমুক্ত থাকা উচিত?
আপনার মতামত মন্তব্যে জানান, আর আপডেট পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।
