Advertisement
ভূমিকা
বাংলাদেশের ভোক্তাদের জন্য সুখবর!
বাংলাদেশ জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BERC) আবারও অক্টোবর ২০২৫ মাসের জন্য এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
১২ কেজির গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা কমিয়ে নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১,২৪১ টাকা।
Advertisement
এই ঘোষণা দেন ৭ অক্টোবর তারিখে BERC–এর চেয়ারম্যান জলাল আহমেদ, এবং নতুন দাম কার্যকর হয়েছে একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে।
Advertisement
নতুন এলপিজি গ্যাসের দাম
| বিভাগ | পূর্বের দাম | নতুন দাম | হ্রাস |
|---|---|---|---|
| গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার (১২ কেজি) | ১,২৭০ টাকা | ১,২৪১ টাকা | ২৯ টাকা |
| অটোগ্যাস (প্রতি লিটার, ট্যাক্সসহ) | ৫৮.১৫ টাকা | ৫৬.৭৭ টাকা | ১.৩৮ টাকা |
BERC জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের দাম কমে যাওয়ার ফলে এই সমন্বয় সম্ভব হয়েছে।
Advertisement
BERC–এর সরকারি বিবৃতি
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে:
“অক্টোবর মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম যথাক্রমে ৪৯৫ ডলার ও ৪৭৫ ডলার প্রতি মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই হিসাবের ভিত্তিতে দেশের নতুন এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।”
আরও জানানো হয়:
“প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ রাখা হয়েছে, যার ফলে গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪৮২ ডলার প্রতি মেট্রিক টন।”
দাম নির্ধারণে সৌদি আরামকো কনট্রাক্ট প্রাইস (CP) অনুসরণ করা হয়, যা বৈশ্বিকভাবে এলপিজি মূল্যের মানদণ্ড।
দাম কমার প্রভাব
এলপিজির এই মূল্যহ্রাসে লাখ লাখ বাংলাদেশি পরিবার স্বস্তি পাবে যারা প্রতিদিনের রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের দাম স্থিতিশীল থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে আরও দাম কমতে পারে।
অটোগ্যাসের দামও কমলো
এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে।
অক্টোবর মাসের জন্য প্রতি লিটার ১.৩৮ টাকা হ্রাস করা হয়েছে — ৫৮.১৫ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৫৬.৭৭ টাকা।
এই সিদ্ধান্তে অটোরিকশা ও ট্যাক্সিচালকদের পরিবহন ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দামের ধারা
এটি টানা তৃতীয় মাস, যখন বাংলাদেশে এলপিজি গ্যাসের দাম কমানো হলো।
সেপ্টেম্বরে দাম কমেছিল ৩ টাকা, আর অক্টোবরে আরও ২৯ টাকা হ্রাস করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাজারে ওঠানামা সরাসরি বাংলাদেশের এলপিজি দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
জ্বালানি বিশ্লেষক ফাহিম রশিদ বলেছেন:
“বাংলাদেশে এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
যখন সৌদি আরামকো–র CP দাম কমে, তখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষত বাংলাদেশ, তাৎক্ষণিকভাবে উপকৃত হয়।”
তিনি আরও বলেন, যদি প্রোপেন ও বিউটেনের বৈশ্বিক দাম স্থিতিশীল থাকে, তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই আরও দাম কমতে পারে।
এলপিজি কী?
এলপিজি (Liquefied Petroleum Gas) হলো প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসের মিশ্রণ, যা তেল পরিশোধনের সময় উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয়।
এটি গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক ও শিল্পকারখানায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে ২০টিরও বেশি বেসরকারি এলপিজি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
বসুন্ধরা এলপিজি, নাভানা, যমুনা, ও ওমেরা গ্যাস।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর ভোক্তারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তাঁরা দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এক গৃহিণী নাসরিন বেগম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“এই মূল্যহ্রাস অবশ্যই স্বাগত, কিন্তু এটি অস্থায়ী হওয়া উচিত নয়।
প্রায়ই দাম পরিবর্তন হলে সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
বাংলাদেশের এলপিজি বাজারের সারসংক্ষেপ
| কোম্পানি | বাজার অংশীদারিত্ব (%) | বার্ষিক বিক্রয় (মেট্রিক টন) |
|---|---|---|
| বসুন্ধরা এলপিজি | ২৫% | ৩,০০,০০০ |
| ওমেরা গ্যাস | ১৮% | ২,২০,০০০ |
| যমুনা গ্যাস | ১৫% | ১,৮০,০০০ |
| নাভানা এলপিজি | ১২% | ১,৪০,০০০ |
| অন্যান্য কোম্পানি | ৩০% | ৩,৬০,০০০ |
BERC–এর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশের বার্ষিক এলপিজি ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ মেট্রিক টনে।
ভোক্তাদের জন্য বার্তা
আপনার কি মনে হয়, সরকারকে এলপিজির দাম আরও কমানো উচিত?
আপনার মতামত মন্তব্যে জানান।
জ্বালানি, অর্থনীতি ও বাজার–সংক্রান্ত সর্বশেষ আপডেট জানতে আমাদের দৈনিক প্রতিবেদনে সঙ্গে থাকুন।
